বুড়ো হতে গিয়ে বিপদে ফেসবুক আইডি!

নিউজ ডেস্ক : কিছুদিন থেকে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে বুড়ো চেহারার ছড়াছড়ি। কিন্তু তা সত্যি সত্যি বুড়ো চেহারা নয়, কৃত্রিম ভাবে একটি অ্যাপের মাধ্যমে নিজের চেহারায় চলে আসছে বার্ধক্য আর জরা। অবাক করা ব্যাপার হলো মানুষ যেখানে নিজের যৌবনের সৌন্দর্য ধরে রাখতে মরিয়া সেখানে হঠাৎ বুড়ো বয়স কেন মনে ধরলো কিশোর-তরুণ থেকে সব বয়সী মানুষের।

ফেসবুকে এখন অনেক কিছুই ট্রেন্ড হয়ে যায়। চেহারায় বার্ধক্য নিয়ে আসাও তেমনই একটি ট্রেন্ডে পরিনত হয়েছে। তাই তো ‘বার্ধক্যে’ মেতেছে তরুণ প্রজন্ম। একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের (অ্যাপ) মাধ্যমেই ফেসবুক জুড়ে সবাই যেন নিজেদের ভবিষ্যতের ছবি প্রকাশ করছেন। কিন্তু কীভাবে কাজ করে এটি তা কি জানেন আর তাতে আপনার ফেসবুক বিপদে পড়ছে না তো?

এই অ্যাপটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম মেধা দিয়ে চলে। কারও ছবি সেখানে দিলে প্রযুক্তির কল্যাণে বয়স বাড়িয়ে বা কমিয়ে, এমনকি পুরুষের বদলে স্ত্রী হলেও কেমন দেখতে লাগবে, তা ফুটে উঠছে। এ নিয়েই চলছে নানা রসিকতা। কিন্তু পাশাপাশি নেট-দুনিয়ায় শুরু হয়েছে বিতর্কও।

অনেকেই বলছেন, এই ধরনের আনন্দের ‘ফাঁদে’ ফেলে সেই অ্যাপ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নিয়ে নিচ্ছে ব্যবহারকারীর ছবি ও তথ্য। রাশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি সেই অ্যাপ তথ্য নিয়ে কী করতে পারে, তা নিয়েও ভয় প্রকাশ করেছেন অনেকে।

ইন্ডিয়ান স্কুল অব এথিক্যাল হ্যাকিংয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, অ্যাপে বহু মানুষ নিজের ছবি দিয়েছেন। সেগুলো প্রতিষ্ঠানটির সার্ভারে রয়েছে। এখন অনেকেই ল্যাপটপ ও স্মার্টফোনে ফেস রেকগনিশন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন। ফলে সেই প্রতিষ্ঠানের কাছে কিন্তু পাসওয়ার্ডও চলে যেতে পারে।

সাইবার বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, এই অ্যাপ ব্যবহারের আগে অনেকেই শর্তাবলী পড়েন না। তার ফলে অজান্তেই সেই সব শর্তাবলী মেনে নেন। শর্ত অনুযায়ী, ওই অ্যাপ বিনামূল্যে ব্যবহারের বিনিময়ে ব্যবহারকারী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে তার ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছেন।

শুধু তা-ই নয়, ফেসবুকে তার বন্ধুদের তথ্যও তুলে দিচ্ছেন প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে। ওই অ্যাপে তিনি যত ছবি ব্যবহার করছেন, সেগুলোও প্রতিষ্ঠানের কাছে চলে যাচ্ছে। এর আগে, ২০১৭ সালে এক বার এই অ্যাপ নিয়ে তৈরি হয়েছিল সমস্যা। নতুন ভাবে এই অ্যাপটি জনপ্রিয় হওয়ায় আবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সাইবার বিশেষজ্ঞরা আরো বলেন, এই সব অ্যাপ সাময়িক আনন্দ দেয়। কিন্তু তার বিনিময়ে ব্যক্তিগত তথ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে দেয়া একেবারেই উচিত নয়। পরবর্তীকালে এই তথ্য কী ভাবে কাজে লাগানো হবে, তা কিন্তু কেউ জানেন না। এমন কি এভাবে আপনি হারাতে পারেন আপনার ফেসবুক আইডিও। তাই প্রযুক্তির আনন্দ নেয়ার আগে এবার একটু সতর্ক হওয়া প্রয়োজন নয় কি?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here