বাকি ছিল শুধু মঞ্জুর হত্যা মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি:গত তিন দশকে ৪২টি মামলার দায় থেকে মুক্ত হতে পারলেও একটি হত্যা মামলার আসামি হয়েই চিরবিদায় নিলেন সাবেক সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ।মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ সাজার রায় আসতে পারত; যদিও তিনি সব সময় ওই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন।
ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে মারা যান সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ।
তার ভাষায়, ৯০ বছরের জীবনের শেষে ২৯টি বছরে একটি দিনও তিনি সুখী ছিলেন না। আর তার ওই অসুখের কারণ ছিল দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগে দায়ের করা সাড়ে তিন ডজন মামলা।
গত বছর ২০ নভেম্বর এক অনুষ্ঠানে এরশাদ বলেন, “এখনও আমার নামে মামলা আছে। আমার মত দুঃখী কেউ নেই। পার্টির জন্য আমার চেয়ে কষ্ট কেউ করেনি।”
১৯৯০ সালে গণআন্দোলনের মুখে রাষ্ট্রপতি এরশাদের পতনের পর বিভিন্ন অভিযোগে মোট ৪৩টি মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। এর তিনটিতে নিম্ন আদালতে তার সাজার আদেশ হলেও হাই কোর্টে একটিতে খালাস পান। বাকি দুই মামলায় তিনি সাজা খাটা শেষ করেন।
রাষ্ট্রপতি থাকাকালে পাওয়া উপহার রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না দিয়ে আর্থিক অনিয়মের মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত এরশাদকে তিন বছরের কারাদ- দেয়। দুই যুগ পর হাই কোর্ট সেই সাজা বাতিল করে এরশাদকে খালাস দেয়।জাপানি নৌযান কেনায় অনিয়মের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রথমে এরশাদের তিন বছর এবং পরে হাই কোর্টে আপিলে সাজা কমে দুই বছরের কারাদ- হয়। গ্রেপ্তার হওয়ার পর দুই বছর কারাগারে কাটানোয় এরশাদকে নতুন করে আর ওই মামলায় দ- ভোগ করতে হয়নি।

জনতা টাওয়ার দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালত এরশাদকে ৭ বছরের কারাদ- দিয়েছিল। ১৭ বছর পর হাই কোর্ট সাজা কমিয়ে এরশাদকে ৫ বছরের কারাদ- এবং ৫ কোটি ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা করে।
হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল চলাকালে এরশাদের সাড়ে ৩ বছর কারাভোগ শেষ হওয়ায় আপিল বিভাগ পরে জরিমানার দ- বহাল রেখে এরশাদকে অবশিষ্ট দেড় বছর সাজাভোগ থেকে অব্যাহতি দেয়।
এছাড়া স্বর্ণ চোরাচালান, টেলিকম দুর্নীতি, পোল্ট্রি ফার্ম দুর্নীতি মামলা, আয়কর ফাঁকি, জাহাজ কেনায় দুর্নীতি, রাজউকের প্লট বরাদ্দে অনিয়ম, হরিপুরে তেল অনুসন্ধানে দুর্নীতি এবং রাডার কেনায় দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে আরও ১৯টি মামলা ছিল এরশাদের বিরুদ্ধে।
এর মধ্যে কয়েকটিতে তিনি নিম্ন আদালত থেকে বেকসুর খালাস পান। কয়েকটি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

কিন্তু ৩৮ বছর আগে সেনাবাহিনীর মেজর মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুর হত্যা মামলা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এরশাদের গলার কাঁটা হয়েই ছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here