কামরানকে নিয়ে মাঠে আওয়ামী লীগ

সিলেট প্রতিনিধি :সিটি নির্বাচন ঘিরে সরব হয়ে উঠেছে সিলেটে রাজনৈতিক দলগুলো। কে কার চেয়ে এগিয়ে, কার অবস্থান কোথায়? কে হবেন চতুর্থ নগরপিতা। এ নিয়ে চলছে তোরজোড় তদবির।

৩০ জুলাই সিলেটে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী তফশীল অনুযায়ী প্রচার-প্রচারণা শুরু না হলেও ঘর গুছিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে আওয়ামী লীগ। নেতারা বলছেন, নৌকা মাঝি এখন শুধুই কামরান। তাকে বিজয়ী করা ছাড়া বিকল্প কোনো কাজ নাই। নৌকা প্রতীকে তাকে বিজয়ী করতেই হবে।

নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে চেষ্টা করছেন পাঁচজন। এর বাইরে মনোনয়ন পেতে চেষ্টা করছেন সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহিউদ্দিন আহমদ সেলিমও। আর এই দলীয় মনোনয়নকে ঘিরে নেতাদের মধ্যে বিভেদ তৈরি হয়। সেই বিভেদ দূর করার জন্য মহানগর আওয়ামী লীগ বর্ধিত সভাও করেছে। বর্ধিত সভায় মনোনয়নপ্রত্যাশী কোন নেতা ছাড় দিতে নারাজ হওয়ায় বিষয়টি ছেড়ে দেয়া হয় কেন্দ্রের কাছে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ থেকে সিসিক নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক নেতাদের দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে নির্দেশনা দেয়।

মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সাধারণ সম্পাদক আসাদউদ্দিন আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল আনোয়ার, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ এবং সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহিউদ্দিন আহমদ সেলিম।

এরপর সিলেট সিটি নির্বাচনে প্রার্থী ঠিক করতে মতামতের জন্য সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ৪১ নেতাকে ডাকেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার বিকেলে গণভবনে এসব নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন তিনি। সেখানে শেখ হাসিনা সিসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হিসেবে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের নাম ঘোষণা করেন।

এসময় তিনি কামরানের পক্ষে সবাইকে কাজ করতে নির্দেশ দেন। দলীয় অনৈক্যের কারণে নির্বাচনে ভরাডুবি হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ারও হুশিয়ারি দেন। এরপর যেসব নেতা অপ্রকাশ্যে কামরানের বিরোধিতা করছিলেন তারাও কামরানের পক্ষে কথা বলতে শুরু করেন।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদউদ্দিন আহমদ বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যার নির্দেশকে মানতেই হবে। নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে। এটাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। ছোটখাটো যেসব মত পার্থক্য আছে, সেগুলোও থাকবে না।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগের সর্বস্থরের নেতাকর্মী মাঠে নেমেছন। নৌকার পক্ষে কাজ শুরু করেছেন তারা। এখানো আওয়ামী লীগের কোনো বিভেদ নেই, দ্বন্দ নেই।

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, বেশ সাড়া পাচ্ছি। দলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা পাচ্ছি। নৌকা প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সবাই কাজ করছেন। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই নৌকার জয় উপহার দিতে চাই। এগিয়ে নিতে চাই সিলেটকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here