৩২ কিলোমিটার সড়কে ছয় মাসে ঝরলো ৪২ প্রাণ!

ছয় জেলায় ঝরলো ৩২ প্রাণ- .crimefocus.net

গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গেলো ছয় মাসে গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট হতে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চামড়ীগঞ্জ পর্যন্ত মহাসড়কের ৩২ কিলোমিটারের মধ্যে ৭৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৪২ জন। এর মধ্যে ৯টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪২ জন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের গাইবান্ধার ৩২ কিলোমিটার অংশে সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে ২৩ জুন শনিবার ভোরে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায়। এতে ১৮ জন মানুষ প্রাণ হারান।

গত বছরের ২১ ডিসেম্বর পলাশবাড়ী উপজেলার জুনদহ বাজার এলাকায় একজন, চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি পলাশবাড়ী উপজেলার জুনদহ এলাকায় ২ জন, ৩০ জানুয়ারি গোবিন্দগঞ্জে বাসের ধাক্কায় একজন পথচারী, ১০ মার্চ পলাশবাড়ী উপজেলা শহরের দক্ষিণ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সকালে ৪ জন এবং দুপুরে একই উপজেলার জুনদহ এলাকায় ৭ জন, ২৮ মার্চ পলাশবাড়ী উপজেলা সদরের রাব্বীর মোড় এলাকায় বাসের ধাক্কায় একজন পথচারী, ২২ এপ্রিল গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বকচর এলাকায় ৪ জন, ১ মে পলাশবাড়ী উপজেলার জুনদহ এলাকায় বাসের ধাক্কায় এক পথচারী, ৬ জুন গোবিন্দগঞ্জের বোয়ালিয়া চক্ষু হাসপাতাল এলাকায় ২ জন মারা যান।

এছাড়া ১৪ এপ্রিল পলাশবাড়ী উপজেলা সদরের ড্রিমল্যান্ড এলাকায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাস খাদে পড়ে ১৫ জন আহত হন অন্যান্য দুর্ঘটনাগুলোতে আরও ২২৭ জন আহত হয়েছেন।

গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানা এবং গোবিন্দগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অফিসের কর্মকর্তারা জানান, নৈশ কোচের চালকরা দীর্ঘক্ষণ গাড়ি চালানোর কারণে ভোর ও সকালের দিকে তারা ঘুমিয়ে পড়লে বা ক্লান্ত হয়ে গেলে মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া মহাসড়কে রাস্তার সংস্কার কাজ চলার সময় গাড়ি উল্টে যাওয়ায়, গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পর্যাপ্ত স্পিড ব্রেকার না থাকা, মহাসড়কের দু’পাশে ফুটপাতের পরিমাণ কম থাকায় পথচারীরা দুর্ঘটনার শিকার হন।

তারা আরও জানান, গাড়ি গতি বেশি থাকলে, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেক, হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো, রাস্তার বেহাল দশা, গাড়িতে যান্ত্রিক ত্রুটি থাকা, রাস্তায় বেশি পরিমাণ বাক (মোড়) থাকার কারণে ও মহাসড়কের উপর যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী উঠানামা করানোর কারণে মহাসড়কে দুর্ঘটনা বেড়েই যাচ্ছে।

ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে দুর্ঘটনার কারণে হিসেবে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার পুলিশ ও গোবিন্দগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ১৭টি কারণ চিহ্নিত করেছে। চিহ্নিত এসব কারণ সমাধান ও দোষী চালকদের সঠিক বিচার হলে দুর্ঘটনার সংখ্যা অনেক কমে যাবে বলে মনে করেন তারা।

গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকতারুজ্জামান বলেন, চিহ্নিত সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলো সমাধান করলে ও দোষী চালকদের সঠিক বিচার হলে দুর্ঘটনার সংখ্যা অনেক কমে যাবে। এছাড়া তিন চাকার গাড়ির চালকদের জরিমানা করেও মহাসড়কে তাদের চলাচল বন্ধ করা যাচ্ছে না।

গোবিন্দগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল হামিদ বলেন, আমাদের সচেতনতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। কেন দুর্ঘটনা হয়, কি কারণে হয় তা খুঁজে বের করে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, তাহলে কিছুটা হলেও দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here