আইসল্যান্ডের ফুটবলারদের নামের শেষে যে কারণে সন

নিউজ ডেস্কঃ আর্জেন্টিনা-আইসল্যান্ডের ম্যাচ শুরু হতে তখনো মিনিট কয়েক বাকি। এরই মধ্যে দুই দলের খেলোয়াড়দের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে টিভি স্ক্রিনে। আইসল্যান্ড দলের ফুটবলারদের নামে তালিকা দেখে তো চোখ কপালে উঠার উপক্রম প্রায়। সবার নামের শেষেই সন। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠে, এরা সবাই কি একই বাবার সন্তান নাকি।

উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, একই পরিবারের সন্তান নন তারা। বরং একই দেশের একই ইতিহাসের প্রতিনিধি তারা। মাত্র সাড়ে তিন লাখ লোকের দেশ আইসল্যান্ড। নরডিক দেশটির বিশ্বকাপে অংশগ্রহণই তো একটা চমক। এদিকে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে নামা এগারজনের নামের শেষেই সন লেখা ছিল। তারা হলেন- হলডরসন, স্যাভারসন, আরনাসন, সিগুর্ডসন, মাগনুসন, গিসলাসন, গুনারসন, সিগুর্ডসন (আরেকজন), বিয়ারনাসন, ফিনবোগাসন ও বোডভারসন। বদলি নামা তিনজনের নামও মিলিয়ে নিন-ইনগাসন, সিগুরডার্সন ও স্কুলাসন! আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এই কজনের বাইরে ছিলেন শুধু গুডমুন্ডসন!

জানা গেছে, আইসল্যান্ডের মানুষের নামের শেষে পূর্বপুরুষদের নামের শেষাংশ সরাসরি যুক্ত হয় না; বরং পদবি আসে সরাসরি বাবার নাম থেকে। কারও বাবার নাম যদি ইয়ানসন হয়, তাহলে ছেলের নামের শেষেও সন যুক্ত হবে। অন্যদিকে মেয়ে হলে তার পদবি হবে ডটির। আইসল্যান্ড ফুটবল দলের সবাই যেহেতু ছেলে, তাই সবার নামের শেষে স্বভাবতই বসেছে সন। নামকরণের এই ঐতিহ্য আগে সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্কে থাকলেও এখন চালু আছে কেবল আইসল্যান্ডে ও সুইডেনের কিছু অংশে।

মজার ব্যাপার, আইসল্যান্ডিকদের নামের প্রথম অংশ রাখার ক্ষেত্রেও আইসল্যান্ডিক নাম-নির্ধারণ কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন হয়। যদি নামের সব অক্ষর আইসল্যান্ডিক অক্ষরের না হয়, নাম যদি পদবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তবে সেই নাম কমিটি বাতিল করে দেয়!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here