তুরস্কে এরদোয়ানের নির্বাচনে বিজয় এবং…

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :বর্তমান প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেপ এরদোয়ান তুরস্কের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির নির্বাচন কর্তৃপক্ষের প্রধান সাদি গুভেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এর মতে এ পর্যন্ত গণনা করা ৯৯ শতাংশ ভোটের মধ্যে এরদোয়ান পেয়েছেন ৫৩ শতাংশ এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মুহাররেম ইনজে’ পেয়েছেন ৩১ শতাংশ ভোট।

বিরোধীপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল স্বীকার করে না নিলেও ফলাফল যাই হোক না কেন তারা তাদের গণতান্ত্রিক লড়াই চালিয়ে যাবে। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিজয়ের খবর প্রকাশের পর ৬৪ বছর বয়সী এরদোয়ান আংকারায় তার দলীয় কার্যালয়ের বারান্দা থেকে জাতীর উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষণে বলেন, এ বিজয় শুধু আমার একার নয়। এই বিজয় তুরস্কের আট কোটি মানুষের সবার।

রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি) এর নেতা ইনজে’ পরাজয় স্বীকার করে গণমাধ্যমে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন বলে জানা গেলেও এখনো এ কথার সত্যতা মেলেনি।
জনাব ইনজে’ সোমবার তার বক্তব্য রাখবেন বলে একটি টুইট করেছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আরো চার জন প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেও তাদের কেউই ৮ শতাংশের বেশি ভোট পাননি।

এই ফলাফল কি নির্দেশ করছে?

তুরস্কের পরিবর্তিত সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এখন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। গত বছর এক সংসদীয় গণভোটের মাধ্যমে এ সাংবিধানিক পরিবর্তন আনা হয় এবং নির্বাচনের পর তা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে-

১। প্রেসিডেন্ট নিজের ইচ্ছামত সরাসরি সরকারি কর্মকর্তাদের, এমনকি মন্ত্রীদের এবং ভাইস প্রেসিডেন্টের নিয়োগের ক্ষমতা রাখবেন।

২। দেশের প্রচলিত আইনতন্ত্রে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন।

৩। দেশে জরুরি অবস্থা জারির ক্ষমতা রাখবেন।

প্রধানমন্ত্রীর পদও এই সংশোধনীর মাধ্যমে বিলোপ করা হয়।

বিজয় ভাষণে এরদোয়ান আরো বলেন, তার সরকার সন্ত্রাসি দলগুলোর বিরুদ্ধে আরো তৎপর হবে এবং ‘স্বাধীন সিরিয়া’ প্রতিষ্ঠায় একযোগে কাজ করবে, যাতে সেখানকার শরণার্থীরা ফিরে যেতে পারে।

নতুন সংশোধনী অনুযায়ী এরদোয়ান তৃতীয়বারের মত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন, অর্থাৎ তিনি ২০২৮ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় বহাল থাকতে পারবেন।

তুরস্কের সংসদে কারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল?

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি ৬০০ সদস্যবিষিষ্ট সংসদ নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, সেখানেও সরকারি দলের নেতৃত্বাধীন এ.কে পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে।

তিনি বলেন, তুরস্ক পুরো বিশ্বকে শিখিয়েছে কিভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হয়। সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, ৯৯ শতাংশ গণিত ভোটের মধ্যে একে পার্টি পেয়েছে ৪২ শতাংশ, তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিএইচপির প্রাপ্ত ভোট ২৩ শতাংশ।

আর সংখ্যালঘু কুর্দিদের জন্য সুখবর হল, তাদের দল এইচডিপি পার্লামেন্টে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ১০ শতাংশ ভোট পেতে সক্ষম হয়েছে। ৬৭ টি আসন নিয়ে এখন তারা দ্বিতীয় বৃহৎ বিরোধী দল হওয়র অপেক্ষায় রয়েছে। তাদের নেতা সেলাহাত্তিন দেমিরতাস কারাবাসের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেন।

নির্বাচন কতটা স্বচ্ছ হয়েছে?

সব ধরনের অপতৎপরতা রোধে নির্বাচন কেন্দ্রগুলো বেশ কঠিন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ছিল। সরকারি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, প্রায় ৮৭ শতাংশ জনগণ নির্বাচনে ভোট দেয়। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান গুলোর মতে, তুরস্কের বিভিন্ন অঞ্চলে গণমাধ্যমের কর্মীরা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। তুরস্ককে এখন বলা হচ্ছে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে বড় কারাগার।

এই নির্বাচনের প্রধান প্রধান ইস্যুগুলো কি ছিল?

সবচেয়ে বড় ব্যাপারটি ছিল তুরস্কের ভঙ্গুর অর্থনীতি, যেখানে তাদের মুদ্রাস্ফীতি ১১ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আইএস এবং কুর্দি জঙ্গি গোষ্ঠীদের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ায় সন্ত্রাসবাদও ছিল এই নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। আর সংবিধানের সংশোধনীর মাধ্যমে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অপবাদ তো এরদোয়ানের মাথার উপরেই ছিল।

২০১৬ এর জুলাইয়ে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে তুরস্কে জরুরি অবস্থা জারি ছিল। এ ঘটনার পর প্রায় ১ লাখ সাত হাজার সরকারি কর্মচারী এবং সৈনিকরা চাকরীচ্যুত হয়। ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ কারাগারে বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here