অপব্যয়-অপচয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন দরকার

মোফাজ্জল করিম: ছেলেবেলায় স্কুলে একটি ইংরেজি কবিতা পড়েছিলাম, যা ওই সময়ের অনেক বাংলা-ইংরেজি কবিতার মত আজ ৬০-৬৫ বছর পরেও মগজে গেঁথে আছে। তবে এই কবিতাটির একটি বৈশিষ্ট্য হলো, এটি আমার শিক্ষক মহোদয়ের নির্দেশমত সারাজীবন আমল করার চেষ্টা করেছি। কবিতাটির শুরুটা ছিল এ রকম : ডোন্ট থ্রো আপোন দ্য ফ্লোর/দ্য ফুড ইউ ক্যানট ইট/ফর দেয়ার আর ম্যানি স্ট্যান্ডিং অন দ্য ডোর/হু মাইট থিংক ইট কোয়াইট অ্যা ট্রিট। এর বাংলা অর্থ করলে দাঁড়াবে : যে খাবারটি তুমি খেতে পারো না তা ছুড়ে ফেলে দিও না, কারণ তোমারই দরজায় এমন অনেকেই দাঁড়িয়ে আছে যারা হয়ত ওই খাবারটুকুকেই বিরাট কিছু মনে করবে। কবির নামটি মনে নেই; কিন্তু সারাজীবন ওই ইংরেজ কবিকে আমি প্রণতি জানিয়ে এসেছি। কী নিদারুণ সত্যি কথাটি তিনি বলে গেছেন। একদিকে সামান্য একটু বাসি-পচা খাবারের জন্য অনাহারক্লিষ্ট মানুষের আকুতি, আরেক দিকে অভুক্ত খাদ্যসামগ্রীর অমার্জনীয় অপচয়। এই দৃশ্য বিশেষভাবে চোখে পড়ে আমাদের দেশের পায়-পর্বে, বিয়েশাদিতে, যেখানে অভুক্ত খাবারদাবারের স্তূপ অবলীলাক্রমে ফেলে দেওয়া হয় ডাস্টবিনে-নর্দমায়, অথবা পথিপার্শ্বে। আর তা কুড়িয়ে নেওয়ার জন্য হামলে পড়ে অস্থিচর্মসার বুভুক্ষু আবালবৃদ্ধবনিতা, যারা ওই উচ্ছিষ্টটুকুকেই মনে করে ‘কোয়াইট অ্যা ট্রিট’।
আর শুধু আনন্দ-উৎসবের ভোজন পর্বের কথাই বলি কেন, আমাদের প্রতিদিনের পানাহারে আমরা কি কম অপচয় করি। সঠিক সংরক্ষণের অভাবে এটা বাসি হয়ে পচনোন্মুখ হয়ে গেছে, অতএব এটা ফেলে দাও, ওটা দুই-এক বেলা খেয়েও শেষ হচ্ছে না, অতএব ওটার গতি হোক ডাস্টবিনে, চর্বচোষ্যলেহ্যপেয় দ্বারা রসনা তৃপ্ত করে দেখা গেল, যথেষ্ট পরিমাণ অভুক্ত আহার্য পাতে রয়ে গেছে, কী করতে হবে ওটা? কী আবার, ফেলে দিতে হবে। একটু ভেবে দেখুন, প্রতিদিন প্রতিবেলা বাংলাদেশে কত খাবার এভাবে নষ্ট হচ্ছে। আর এরি অভাবে কত লক্ষ শিশু ক্ষুধার জ¦ালায় আজ রাতে নিদ্রাহীন চোখে কাঁদতে কাঁদতে দরিদ্র অসহায় মা-বাবার হাতে মার খাচ্ছে। একদিকে অপরিমিত ভোজনে অজীর্ণ, অগ্নিমান্দ্য, উদরাময় রোগে ভুগছে এক শ্রেণির মানুষ, আর আরেক দিকে নূন্য পরিমাণ খাদ্যবঞ্চিত কোটি কোটি গরিব-মিসকিনের আহাজারি।
তবে খাদ্যদ্রব্যের অপচয়ের ব্যাপারে নেতৃত্বে আছে খাদ্যসামগ্রীসহ ভোগ্যপণ্যের প্রাচুর্যে ভরা সেই সব দেশই, যারা অনাহার-অপুষ্টিজর্জরিত আফ্রিকার দু-চারটি দেশের মানুষকে প্রতিদিন দুই বেলা পেটপুরে খাইয়ে-দাইয়ে বাঁচিয়ে রাখতে পারে। যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যেমন মুসলিম বিশ্বের নেতৃস্থানীয় সৌদি আরব। এরা রোজ কী পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য অপচয় করে, তা কল্পনাও করা যায় না। অথচ ওই সব দেশেও যে দারিদ্র্যপ্রপীড়িত মানুষ নেই তা নয়। নিউইয়র্কের রাস্তার পাশে মাথার টুপি উল্টিয়ে বসে গিটার বাজাতে বাজাতে ভিক্ষা করছে কিংবা রিয়াদে-জেদ্দায় অন্ধ-আতুর বিকলাঙ্গ ভিখারিরা পথচারীদের জেঁকে ধরছেÑএমন দৃশ্য বিরল নয়। প্রদীপের নিচে সবখানেই অন্ধকার। বাংলাদেশের মত এশিয়া-আফ্রিকার অনেক দেশই না হয় সম্পদের স্বল্পতার কারণে গরিব এবং সেই গরিবির কারণে অগণিত মানুষকে উপোস থাকতে হয়, ভিক্ষার হাত পাততে হয়, কিন্তু অগাধ বিত্ত-বৈভবের মালিক দেশগুলোতে কেন মানুষ অনাহারে কষ্ট পাবে, সম্পদের অসম বণ্টনের কারণে ভিক্ষা করে জীবন ধারণ করবে? সেই সব দেশে খাদ্যদ্রব্যসহ সব ধরনের সম্পদের যে পরিমাণ অপচয় হয়, তা ভাবলে বিস্মিত হতে হয়। ধূমপান, মদ্যপান ও নানাবিধ মাদকসেবন এবং জুয়াখেলা, নাইট ক্লাব ও ক্যাবারে ইত্যাদিতে আনন্দ-ফুর্তির পেছনে যে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার প্রতি রাতে পশ্চিমা বিশ্বে উড়িয়ে দেওয়া হয়, তা দিয়ে পৃথিবীকে অনায়াসেই ক্ষুধামুক্ত করা যায়। অথচ প্যারাডক্সটা হচ্ছে, এসব দেশের মোড়লরাই জাতিসংঘ ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতৃত্বে বসে বিশ্বের খাদ্য, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, শিক্ষা প্রভৃতি সমস্যা সমাধানের জন্য গলাবাজি করেন।
তবে এটাও ঠিক, অনুন্নত বিশ্বের সব সমস্যার সমাধান সম্পদশালী উন্নত বিশ্ব করে দেবেÑএ ধারণা ভুল। তারা অর্থাৎ উন্নত ধনী দেশগুলো গরিব দেশগুলোকে ততটুকুই সাহায্য করবে, যতটুকু তাদের নিজেদের স্বার্থে করা প্রয়োজন। আর তার বেশির ভাগই করবে নিজেদের ভূরাজনৈতিক চাহিদার কারণে। সেটি এশিয়া, আফ্রিকা বা ল্যাটিন আমেরিকাÑযেখানেই হোক না কেন।
সাহায্য-সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে দাতা ও তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো প্রায়শই দান বা ঋণগ্রাহক দেশের অভ্যন্তরীণ অপচয়, সম্পদের অদক্ষ ব্যবহার, সিস্টেম লস ইত্যাদির ব্যাপারে প্রশ্ন তোলে। এগুলো যে একেবারে ভিত্তিহীন ও অমূলক, তা নয়। বাংলাদেশের মত একটি উন্নয়নকামী দেশে সীমাহীন দুর্নীতি, সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহার ও মাত্রাতিরিক্ত সিস্টেম লসের কারণে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে কাক্সিক্ষত ফল লাভ করা যায় না। এইসব কিছু মিলিয়ে যা হয়, তা এককথায় সম্পদের অপচয়। আমরা শুরুতে খাদ্যদ্রব্যের অপচয়ের কথা বলেছিলাম। একটি গরিব দেশে সেটি তো অবশ্যই ক্ষমার অযোগ্য একটি অপরাধ। এ ছাড়া আর যেসব অপচয় আমরা প্রতিনিয়ত করে চলেছি, তা আমাদের একটি অমনোযোগী অপচয়কারী জাঁতি হিসেবে বিশ্বদরবারে পরিচিত করে তুলতে যথেষ্ট।

এই ধরুন বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের অপচয়। বিদ্যুৎ খাতে বিরাট ঘাটতির কথা আমরা জানি। বিদ্যুতের অভাবে আমাদের কলকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, লোড শেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ, কৃষিক্ষেত্রে সেচব্যবস্থা বিপর্যস্তÑএ সবই আমরা জানি। তেমনি দেশে পানীয় জলের তীব্র অভাব, বিশেষ করে পল্লী অঞ্চলে। আমরা এও জানি, গ্যাসের অভাবে কলকারখানা ঠিকমত চলছে না, শহরাঞ্চলে রান্নাবান্না কোথাও কোথাও বন্ধ হওয়ার জোগাড়। অথচ এই অমূল্য সম্পদগুলোর ব্যবহারে আমরা চরম উদাসীনতার পরিচয় দিয়ে চলেছি। কীভাবে?
প্রথমেই ধরা যাক বিদ্যুৎ ও গ্যাসের কথা। বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমরা চাহিদার তুলনায় এতই পিছিয়ে আছি যে ঘাটতির কিয়দংশ পূরণের জন্য আমরা উচ্চমূল্যে বিদেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করছি ও নানা প্রকার সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বেসরকারি খাতে কিছুকিছু উৎপাদন করছি। এর ফলে সামগ্রিকভাবে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু এর পাশাপাশি অনাকাক্সিক্ষত সিস্টেম লস ও অপচয় পরিস্থিতির উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। যেকোনো উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় সিস্টেম লস আছেই এবং তার একটি বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত মাত্রাও আছে। সেই স্বীকৃত মাত্রায় সিস্টেম লস হলে উৎপাদন ব্যয়ও সহনীয় পর্যায়ে থাকে। কিন্তু দুর্নীতি ও অসাধুতার কারণে সিস্টেম লস বৃদ্ধি পেলে উৎপাদন খরচও যায় বেড়ে। আর তা-ই হয় আমাদের দেশে। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির চোরা লাইন, মিটারে কারচুপি, বিল পরিশোধে অনীহা ও আদায়ে গাফিলতি ইত্যাদি আমাদের ক্রনিক ব্যাধি। আর সবচেয়ে আপত্তিকর হলো, বাসাবাড়ি, অফিস-আদালত, দোকানপাটে অকারণে লাইট-ফ্যান ইত্যাদি বন্ধ না-রাখা। আমার মনে হয়, এটি একটি আত্মঘাতী অভ্যাস। এসবের কারণে সিস্টেম লস যায় বেড়ে। উৎপাদনকারীও সেই লোকসান পুষিয়ে নিতে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করে যখন-তখন, যত খুশি। মার খায় অসহায় ভোক্তা। একই ঘটনা ঘটে গ্যাসের বেলায়ও। আর পানি সম্বন্ধে তো আমাদের অসচেতনতা সবচেয়ে বেশি। আমরা খাল-বিল, নদী-নালার দেশের মানুষ হিসেবে আমাদের একটা ভ্রান্ত ধারণাÑপানি কোনো সম্পদই নয়। আর এর সরবরাহও অফুরন্ত। অতএব এর ব্যবহারে কোনো বিধি-নিষেধ, নিয়ম-কানুন শৃঙ্খলার প্রয়োজন নেই। যত খুশি, যেভাবে খুশি পানি ব্যবহার করা যায়। এরূপ মনোভাব যে শুধু খাল-বিল, নদীপারের গ্রামের মানুষের তা নয়, এমনকি শহরের মানুষ, যারা পানি কেনেন দাম দিয়ে, তারাও প্রায় সবাই পানির ব্যবহারের ব্যাপারে পুরোপুরি উদাসীন। একটা খোলা ট্যাপ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে তো পড়ছেই, কাজের বুয়া থেকে শুরু করে বাড়ির কারোর তাতে কোনো খেয়াল নেই। আর পানির বিলটি যদি দিতে হয় একটি দালানবাড়ির একাধিক পরিবারকে যৌথভাবে, যেমনটি হয় অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ে, তাহলে তো আর কথাই নেই। যত খুশি পানি ব্যবহার করো, অসুবিধা কী। বিল তো দেবে সবাই। আর এইভাবে অপচয়ের ফলে সামগ্রিক সরবরাহের ওপর যে চাপ পড়ে, সে কথা কেউ চিন্তাও করে না। হৈচৈ পড়ে যায় যখন পানি সরবরাহ বিঘিœত হয় তখন।
ঠিক তেমনি গ্যাসের ব্যবহার। শহরে যারা গ্যাসের চুলা ব্যবহার করে, তাদের অনেকের কাছে একটি দিয়াশলাইয়ের কাঠি যতটা না মহার্ঘ, চুলার প্রাকৃতিক গ্যাস ততটা তাচ্ছিল্যের বস্তু। সেই সাতসকালে একটি দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ¦ালিয়ে গ্যাসের চুলা ধরানো হয়। তারপর সেই চুলা আর নেভানোর নাম নেই। চুলার ওপর কোনো রান্নাবাড়া চড়ানো হোক আর চুলা এমনি এমনি জ¦লতে থাকুক, তাতে কিছু যায় আসে না। ফলে এত যে মূল্যবান প্রাকৃতিক গ্যাস, তা কারণে-অকারণে ‘শিখা অনির্বাণ’ হয়ে দিন-রাত জ¦লতেই থাকে। অনেকের ধারণাই নেই যে আমাদের মাটির নিচের গ্যাসের মজুদ সীমিত। এভাবে চলতে থাকলে আজ থেকে কয়েক দশক পর বাংলাদেশ প্রাকৃতিক গ্যাসশূন্য হয়ে যাওয়া বিচিত্র নয়।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আরো অনেক ক্ষেত্রে অপব্যয়ের প্রবণতা লক্ষ করা যায়। যেমন কেনাকাটা। যে জিনিসটার প্রয়োজন নেই, তাও অনেক সময় কেনা হয় কেবল সামর্থ্যরে প্রদর্শনীর জন্য অথবা অন্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। শাড়ি-গাড়ি, গয়নাগাঁটি কেনার বেলায় দেখা যায়, প্রয়োজন না থাকলেও কখনো কখনো শুধু নিজের অর্থবিত্ত জাহির করতে কিংবা অন্যের দেখাদেখি ক্রয় করতে প্রলুব্ধ হয়ে অনেকেই সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় ক্রয়ের জন্য অর্থ ব্যয় করে থাকেন। এগুলো অপব্যয়। এ ধরনের অপব্যয় একটি ব্যাধি, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সমাজে। মা-বাবার এরূপ খরুচে অভ্যাস ছেলেমেয়েদের মধ্যেও দেখা যায়। তারা নিজেরা উপার্জনক্ষম হওয়ার আগেই এটা চাই ওটা চাই, এটা দিতে হবে, ওটা দিতে হবে, এটা না দিলে এই করব, সেই করব বলে মা-বাবার জীবন অতিষ্ঠ করে তোলে। আবার অনেক মা-বাবা না চাইতেই নিজে থেকে তাদের হাতে এটা-ওটা তুলে দেন, যার হয়ত কোনো দরকারই নেই। সন্তানকে বেপথু করার জন্য এরূপ আচরণ, যা শুধু একটি পরিবারকেই নয়, গোটা সমাজকে নষ্ট করে, অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

অপচয়-অপব্যয় মনে হয় যেন আমাদের সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এগুলোর বিরুদ্ধে কাউকে সোচ্চার হতে দেখা যায় না। বরং একধরনের প্রচ্ছন্ন সায় লক্ষ করা যায় সমাজের উঁচু স্তরের মানুষের মধ্যে। যেন এ ব্যাপারে সমাজের কোনো দায়-দায়িত্ব নেই। এতে যে জাতীয় সম্পদের অপচয় হয়, সামাজিক বৈষম্য বৃদ্ধি পায়, অবক্ষয় হয় সামাজিক মূল্যবোধের, সে ব্যাপারে কারো কোনো সচেতনতা নেইÑনা সরকারের, না সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে যেখানে বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি ইত্যাদির কোনো অভাব নেই, সেখানে কল্পনাও করা যায় না কোনো অফিস-আদালত বা কলকারখানায় ঘরের ভেতর কোনো মানুষ নেই, অথচ একটি লাইট জ¦লছে বা ফ্যান চলছে। অফিসের বড় সাহেবটি, তিনি মন্ত্রী-মিনিস্টার, আমলাÑযেই হোন না কেন, অফিস থেকে বের হওয়ার সময় নিজের হাতে সব বাতি, পাখা, এসি বন্ধ করে তবেই যাবেন। অথবা নিশ্চিত হবেন যে ওগুলো বন্ধ করা হয়েছে। এটাই তাঁদের সংস্কৃতির অঙ্গ। আর আমরা? নিজের হাতে বড় সাহেব একটা সুইচ অফ করবেনÑএর চেয়ে বড় লজ্জার ব্যাপার যেন আর কিছুই নেই। আর ‘আপনি আচরি ধর্ম পরকে শেখাও’ ধরনের প্রবাদ-প্রবচনÑএগুলো তো শুধু বক্তৃতার ভাষা আমাদের দেশে।

অথচ এ দেশের শতকরা ৯০ জন নাগরিক মুসলমান, যাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থে অপব্যয়-অপচয় সম্বন্ধে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া আছে এভাবে : ‘ইন্নাল মুবাযিযরিনা কানু ইখ্ওয়াতাশ শায়াতিন।’ [অর্থ : যারা অপব্যয় করে, তারা নিশ্চয়ই শয়তানের ভাই। (আল-কুরআন : সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত ২৭)। এই যে রমজান মাস গেল, সারা মাস মসজিদে মসজিদে কত বয়ান হলো, অন্যান্য অনেক ভালো ভালো কথার সঙ্গে মাওলানা হুজুররা অপব্যয়, অবিচার, সামাজিক অসাম্য ইত্যাদি সম্বন্ধে কত কথাই বললেন; কিন্তু কই, সারা মাস ইফতার পার্টির নামে খরচের বহর এবং ঈদের আগের কেনাকাটার হিড়িক দেখে তো মনে হলো না ইসলাম ধর্মের মর্মবাণী কেউ সিরিয়াসলি গ্রহণ করেছে। বরং ‘শয়তানের ভাই এবং বোনদের’ ভিড়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।
আমাদের এই সীমিত সম্পদের দেশে অপব্যয়-অপচয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

লেখক : সাবেক সচিব, কবি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here