ঝুঁকি নিয়েই কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ

পটুয়াখালী প্রতিনিধঈদের ছুটি শেষ। এবার বাড়ি ফেরার পালা। নদী পথ, সড়ক পথ, রেল পথ এবং আকাশ পথেও কর্মস্থলের উদ্দেশে ফিরছে মানুষ। কর্মস্থলে ফেরার তাড়া থাকলেও ঝুঁকি নিয়েই ফিরছে এসব মানুষ। পটুয়াখালী-ঢাকা নদী পথে ঝুঁকির চিত্র চোখে পড়েছে। লঞ্চ বোঝাই যাত্রী। তিল ধারনের ঠাই নেই ডেক থেকে ছাদে, কেবিনে। লঞ্চে যাত্রীদের ভিড়তো থাকছেই।

পছন্দের আসন পাননি অনেকেই। ছিলো প্রখর রোদের তাপদাহ। এসব কিচু উপেক্ষা করে লঞ্চের ছাদেও বসেছেন অনেকেই। তাদের সঙ্গে রয়েছে শিশু, বৃদ্ধাসহ নানা বয়সী মানুষ। ফলে দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে বলে ধারনা যাত্রী সাধারনের। শুক্রবার পটুয়াখালী থেকে ঢাকা উদ্দেশে পটুয়াখালী থেকে সাতটি লঞ্চ ছেড়ে গেছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পটুয়াখালী নৌবন্দর কর্তৃপক্ষ।

এদিকে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের অভিযোগে পটুয়াখালী-ঢাকাগামী কাজল-৭ কে ২২ হাজার এবং কুয়াকাটা-১ লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে ২৪ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন পটুয়াখালী নিবার্হী ম্যাজিষ্ট্রেট অর্নব চন্দ্র দাস।

পটুয়াখালী নদী বন্দর সূত্র জানায়, ঈদের ছুটি শেষ। কর্মস্থলের ফেরা মানুষদের বাড়তি চাপ রয়েছে। তবে লঞ্চগুলো নির্ধারিত সময়ের আগেই ছাড়া হয়েছে। ১২টা থেকে পর্যায়ক্রমে পটুয়াখালী লঞ্চ টার্মিনাল লঞ্চ ছাড়া শুরু হয়েছে। একেএকে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চগুলো ছাত্তার খান-১, প্রিন্স অর আওলাদ, সুন্দরবন-৭, জামাল-৫, কাজল-৭, কুয়াকাটা-১ ও এআর খান।

যাত্রী বোঝাই করে ছেড়ে যাচ্ছে এসব লঞ্চ। অধিক লাভের আশায় ধারন ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ছেড়ে গেছে এই লঞ্চগুলো। ফলে যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি রয়েছে অনেকটা।

তবে এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালী নদী বন্দরের পরিবহন পরিদর্শক মো. মাহাতাব উদ্দিন বলেন, ঈদের ছুটি শেষে সবারই গন্তব্যে ফেরার তাড়া আছে। তাই যাত্রীদের বাড়তি চাপ থাকার কারণে লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী ঠেকানো যাচ্ছে না। মাইকিং করে নিষেধ করলেও যাত্রীরা সে নিষেধ মানছে না। এই অবস্থায় নির্ধারিত সময়ের আগেই লঞ্চগুলোকে ঘাট ত্যাগ করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

নির্ধারিত সময়ের আগেই দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। তারা লঞ্চ না পেয়ে হতাশায় পড়েছেন। দীর্ঘক্ষণ বসে থেকে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। অনেকে লঞ্চের জন্য অপেক্ষা করছেন। লঞ্চের ব্যবস্থা না থাকায় অসংখ্য যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ে অলস সময় কাটাচ্ছেন।

পটুয়াখালী লঞ্চঘাটে অপেক্ষারত বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার কুকুয়া এলাকা থেকে আসা ইসমাইল হোসেন জানান, ঈদের ছুটি শেষ। শনিবার ঢাকা গিয়ে কাজে যোগ দিতে হবে। তা না হলে মালিকপক্ষ ঝামেলা করবে। তাই বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চঘাটে আসলেও লঞ্চে উঠতে পারিনি।

কলাপাড়া উপজেলা থেকে পরিবার নিয়ে এসেছেন জাহিদ হোসেন। তিনি জানান, কর্মস্থল সিলেট। ঢাকায় পৌছে ট্রেনযোগে সিলেট যেতে হবে। রোববার থেকে অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে। কিন্তু লঞ্চ পাইনি।

এদিকে সুবিধা ভোগীরা অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন এমন অভিযোগ রয়েছে। কুয়াকাটা-১ লঞ্চের যাত্রী সুমন কেবিন নং-২১৯ জানান- তিনি একটি সিঙ্গেল কেবিন বাবদ তার কাছ থেকে ১৫শ টাকা নেয়া হয়েছে। একই লঞ্চের ২০২ নং কেবিনের যাত্রী খিতিষ জানান, তার কাছ থেকে ডাবল কেবিন বাবদ ২৮শ টাকা নিয়ে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। লঞ্চ কতৃপক্ষের ৩হাজার টাকা দাবি ছিল। কোনভাবে দরকশাকশি করে ২৮শ টাকা পেয়েছেন। আর ডেকের ভাড়া নেয়া হচ্ছে ৪শ থেকে ৫শ টাকা করেন। কিন্তু প্রতিনিয়ত ডেকের ভাড়া ছিল ৩শ টাকা। তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হয়নি কোনো লঞ্চের কর্তৃপক্ষ।

তবে পটুয়াখালী নদী বন্দরের উপ-পরিচালক খাজা সাদিকুর রহমান জানান, যাত্রীদের চাপ তেমন বাড়েনি। বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত যাত্রীদের চার আরো বাড়বে। আমরা যাত্রীদের কথা মাথায় নিয়ে অতিরিক্ত লঞ্চের ব্যবস্থা করেছি।

তিনি আরো বলেন, লঞ্চগুলো অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করতে না পারে এ লক্ষে প্রয়োজনে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিয়ে সহায়তা নিয়ে লঞ্চগুলো নির্ধারিত সময়ের আগেই ঘাট ত্যাগ করানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here