বিটিভি এখনো সমাদৃত: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধিঃতথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন, বেসরকারি টিভি চ্যানেল চালু হওয়ার কারণে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)’র দর্শক কমেছে এমন চিন্তার কারণ নেই। দর্শকদের মধ্যে এখনো সমাদৃত বিটিভি। দেশের টেলিভিশন দর্শকের ৮৩ শতাংশই বিটিভি দেখেন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এতথ্য জানান।

অধিবেশনে এসংক্রান্ত এ প্রশ্নটি উত্থাপন করেন স্বতন্ত্র সদস্য আব্দুল মতিন। জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, এখনো দর্শকদের কাছে বিটিভিই সব থেকে সমাদৃত চ্যানেল। অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বিটিভি এখন জনমুখী ও দর্শকনন্দিত অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে যাচ্ছে। পুরনো অনেক অনুষ্ঠান বাদ দিয়ে সময়োপযোগী অনেকগুলো অনুষ্ঠান প্রচার করছে। এতে করে দর্শকদের জনপ্রিয়তা পূর্বের থেকে আরো বেড়েছে।

সরকারি দলের সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহ’র প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, যেহেতু বিটিভি একটি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তাই এটি দেশের ১৬ কোটি মানুষের চেতনার কণ্ঠস্বর এবং দায়বদ্ধ। বিটিভি দর্শকদের হালকা বিনোদন নির্ভর রুচিকে অনুসরণ করে না। এখানে রুচিশীল অনুষ্ঠান প্রচারে জোর দেয়া হয়।

আওয়ামী লীগের সদস্য দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ বেতারে প্রথম শ্রেণির ২৫৬ পদ শূন্য রয়েছে। ২৫৬টি পদের মধ্যে একশোটি পদের চাহিদাপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া দ্বিতীয় শ্রেণির ৭৭টি পদ, তৃতীয় শ্রেণির ১৩৯টি পদ এবং ৪র্থ শ্রেণির ৭৪টি পদ শূন্য আছে বলে জানান তিনি। এছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশনে গ্রেড-২ থেকে গ্রেড ২০-এর রাজস্বখাতভুক্ত স্থায়ী অনুমোদিত পদ সংখ্যা এক হাজার ৬০২টি ও শূন্য পদ ৪৫৭টি। অনুমোদিত স্থায়ী পদ ছাড়াও রাজস্বখাতভুক্ত অস্থায়ী পদ সংখ্যা ১২১টি। এখানে শূন্য পদ ৬৩ টি বলে জানান তথ্যমন্ত্রী।

সরকারি দলের বজলুল হক হারুণের প্রশ্নের জবাবে হাসানুল হক ইনু জানান, ২০১৬ সালে শিল্পী ও কলাকুশলীদের সম্মানী অনেকাংশে বাড়ান হয়েছে। সেটি আরো বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়া প্রতিবছর মানসম্মত চলচিত্র ও গুণী শিল্পীদের আজীবন সম্মাণনাসহ জাতীয় চলচিত্র পুরষ্কার দেয়া হচ্ছে।

সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফিরোজা বেগম চিনুর প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, বাঙালী ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং উন্নতমানের চলচ্চিত্র নির্মাণে উৎসাহিত করতে পূর্ণ দৈর্ঘ ও স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রতিবছর অনুদান বাড়ানো হচ্ছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছর হতে এ অনুদানের পরিমান ৩৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০ লাখ টাকা করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, দক্ষ চলচ্চিত্র নির্মাণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে ৫৯ কোটি ১৮ লাখ টাকার আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প চলমান আছে। এছাড়া সাভারের কবিরপুরে বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটি নির্মাণের কাজ চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here