কাউনিয়া থানার এসআই সেলিম রেজার সুক্ষ্ম তদন্তে ধর্ষিতা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারীর সন্তানের জন্মদাতা প্রমানিত

নিজস্ব প্রতিনিধিঃপুলিশ সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলেও তাদের সাহসিকতা, দক্ষতা এবং মানবতামূলক ইতিবাচক কর্মকা-ের খবরও পাওয়া যায়। তেমিন ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু” এ কথাটির জ্বলন্ত উদাহরণ বরিশাল মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানার চৌকশ অফিসার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম ও এসআই সেলিম রেজা। তাদের দক্ষতা ও পেশাদারি দায়িত্বে জন্মগতভাবে একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ধর্ষিতা নারীর সদ্য ভুমিষ্ট সন্তানের জন্মদাতা খুঁজে পাওয়া গেছে। কেবলমাত্র সুক্ষ তদন্ত এবং আন্তরিকতায় এমনটি সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। কেননা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ধর্ষণের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা এজাহারে কোন নামধারী আসামী ছিলনা এবং ধর্ষিতা নারীও কখনো বলতে পারেনি ধর্ষকের নাম।
সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের জানুয়ারী মাসের কোন এক তারিখে কাউনিয়া ১ম গলির বাসিন্দা অতুল চন্দ্র শিকদারের মেয়ে জন্মগত বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়ে (২৫)কে কে বা কাহারা ধর্ষণ করে। ধর্ষণের কারণে তার মেয়ে গর্ভবতী হয়। বিষয়টি মেয়েটির মা-বাবা বুঝতে পারলেও ধর্ষক কে বা কাহারা তা জানতে ব্যর্থ হয়। ঘটনাক্রমে বিষয়টি কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম জানতে পারেন এবং বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ওই ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নেয়া হয়। পরবর্তীতে ধর্ষিতা নারীর পিতাকে বাদী করে কাউনিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নম্বর ২, তারিখ ০২/১০/১৭)। তখন গর্ভ ধারণের বয়স প্রায় ২২ সপ্তাহ। এরপর নিয়মানুযায়ী ধর্ষিতা নারীর ডাক্তারী পরীক্ষা করানো হয়। ভিকটিম নারী জন্মগত বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় এবং তার গর্ভের সন্তানের নিরাপত্তা বিবেচনা করে বিজ্ঞ আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে ভিকটিম নারীকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সেইফ হোমে রাখা হয়। সেখানেই ওই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারী একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেন। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের তৎকালীন কমিশনার এসএম রুহুল আমীন শিশুটির নাম রাখেন সপ্তর্শী। ধর্ষিতা নারী বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি ধর্ষকের নাম কখনোই বলতে পারেনি। এরকম একটি প্রতিকূল অবস্থা থাকলেও ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণের সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও দিক নির্দেশনার মাধ্যমে এসআই সেলিম রেজা নিজের বুদ্ধি, মেধা, দক্ষতা এবং পেশাদারি দায়িত্বে অটল থেকে মামলার তদন্ত চালিয়ে যান। যার ধারাবাহিকতায় চলতি বছর ১৩ মার্চ সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন। পরবর্তীতে সন্দিগ্ধ গ্রেফতারকৃত কাউনিয়া প্রধান সড়কস্থ খ্রিষ্টান কলোনীর বাসিন্দা মৃত পরেশ বাড়ৈর পুত্র মিঠুন বাড়ৈর ডিএনএ নমুনা নিয়ে ধর্ষিতা বুদ্ধি প্রতিবন্ধীর সদ্য ভুমিষ্টা কন্যা সপ্তর্শীর সংগে ডিএনএ তুলনামূলক পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা শেষে ডিএনএ এনালিষ্ট মতামত প্রদান করেন যে, সপ্তর্শীর সাথে মিঠুন বাড়ৈর ডিএনএ রিপোর্ট সুদৃঢ়ভাবে প্রমানিত হয়েছে। অর্থাৎ সপ্তর্শীর জন্মদাতা মিঠুন বাড়ৈ এবং মিঠুন বাড়ৈর ধর্ষণের ফলেই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ওই নারী গর্ভবতী হয়েছিল। নাম বিহীন মামলায় এবং একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারীর কোনরূপ স্বিকারোক্তি না থাকলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা চৌকশ অফিসার এসআই সেলিম রেজার আন্তরিক প্রচেষ্টা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব মনোভাব এবং অফিসার ইনচার্জ মোঃ নুরুল ইসলাম (পিপিএম) ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণের নিবিড় তদারকি এবং সম্পূর্ণ বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্তের কারণেই এ মামলায় সফলতা এসেছে। এ ধরণের ঘটনা সমাজে বিরল। নিঃসন্দেহে এ সফলতা প্রশংসার দাবী রাখে এবং এটি একটি শিক্ষণীয় বিষয়ও বটে। কেননা এ ধরণের মামলায় অনেককেই হয়রাণী করা যেতো। কিন্তু সন্ধিগ্ধ একজন মাত্র আসামী গ্রেফতার হলেও সেই প্রকৃত ধর্ষক বলে প্রমানিত হয়েছে। ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু’ এ কথাটির মর্যাদা রেখেছেন চৌকশ কর্মকর্তা কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুল ইসলাম (পিপিএম) ও এসআই সেলিম রেজা। তাদের এ সফলতা কাউনিয়া থানা পুলিশের সুনাম বয়ে আনবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। বর্তমানে ধর্ষক মিঠুন বাড়ৈ জেল হাজতে এবং ধর্ষিতা নারী ও তার কণ্যা সেইফ হোমে রয়েছে বলে জানা যায়। মামলার তদন্ত শেষে গত ৩১ মে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১) ধারায় বিজ্ঞ আদালতে চার্জশীট প্রদান করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here