নির্ঘুম যাত্রা কেড়ে নিচ্ছে প্রাণ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃনীলফামারীর সৈয়দপুরে ঈদের পরদিন রবিবার (১৭ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে পিকআপ ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৮ জন। এর আগে একই দিনে ঠাকুরগাঁও, টাঙ্গাইল, নোয়াখালী ও কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন আরও ৯ জন। নিহত ও আহত ব্যক্তিরা ঈদ উপলক্ষে কেউ স্বজনের কাছে যাচ্ছিলেন, আবার কেউবা ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছিলেন।

প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরেন কর্মজীবী মানুষেরা। কিন্তু কখনও কখনও এই আনন্দের যাত্রা হয়ে ওঠে বেদনাময়। প্রতিবছরই ঈদযাত্রায় অসংখ্য মানুষ লাশ হয়ে ফেরেন প্রিয়জনের কাছে। এসব দুর্ঘটনার জন্য সড়কের দুরবস্থা, যানবাহনের ত্রুটির পাশাপাশি চালকদের অদক্ষতা ও নির্ঘুম গাড়ি চালানোকেই বেশি দায়ী করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্ঘটনা রোধে চালককে পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বাড়াতে হবে। বাসচালকদের অভিযোগ—দীর্ঘ রুটে গাড়ি চালিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর পরপরই কোনও বিশ্রাম ছাড়া ফিরতি পথের (রিটার্ন) গাড়ি চালাতে তাদের বাধ্য করেন মালিকরা। এ কারণে অনেক সময় চালকরা বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন, প্রাণ দিয়ে যার খেসারত দিতে হয় যাত্রীদের।

চালকদের নির্ঘুম গাড়ি চালানোকে বিশেষ করে ঈদের মৌসুমে ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সেই সঙ্গে আরও যেসব কারণের কথা তারা উল্লেখ করেছেন, সেগুলো হচ্ছে—বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, নিয়ম ভঙ্গ করে ওভারলোডিং ও ওভারটেকিং করার প্রবণতা, ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণ না করা, আনফিট গাড়ি চলাচল বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব, অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়োগ, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও সড়কের বেহাল দশা, গাড়ি চালোনার সময় চালকের মোবাইল ফোনে কথা বলা, হেয়ালিপনা, ফাঁকা রাস্তা পেয়ে প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চালানো, হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, ফুটপাত দখলে থাকা, রাস্তার নির্মাণ ত্রুটি, যাত্রীদের অসতর্কতা, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জেব্রা ক্রসিং না থাকা ও তা না মানা, নির্ধারিত গতিসীমা অমান্য করা এবং ধারণ ক্ষমতার চেয়ে ঈদের সময়ে অতিরিক্ত যাত্রী তোলা ইত্যাদি।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মতে—এবারের ঈদযাত্রার বহরে ৫ কোটি যাত্রীকে ১৫ কোটি ট্রিপ নিতে হয়েছে। এরমধ্যে ঢাকা থেকে ১ কোটি ১৫ লাখ ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অন্য জেলায় আরও প্রায় ৩ কোটি ৮৫ লাখ যাত্রী যাতায়াত করেন। সব মিলিয়ে ঈদের আগে ও পরে ৬ দিনে প্রায় ১৫ কোটি ট্রিপ যাত্রী ছিল। এই বিশাল যাত্রীর চাপ সামাল দেওয়ার মতো গণপরিবহনের ব্যবস্থা দেশে নেই। সেজন্যই চালক ও যানবাহনের ওপর অতিরিক্ত চাপ বাড়ে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির দেওয়া তথ্যে জানা যায়, গত ঈদুল ফিতরে সারা দেশে ২০৫টি দুর্ঘটনায় ২৭৪ জন যাত্রী নিহত হন। আহত হয়েছেন ৮৪৮ জন। এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ ছিল চালকদের নির্ঘুম গাড়ি চালানো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here