নতুন কৌশলে নির্বাচনী প্রচারে জাহাঙ্গীর ও হাসান সরকার

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সারাদেশে ঘরে ঘরে যখন ঈদের আনন্দ তখন গাজীপুরে জমে উঠেছে নির্বাচনী হাওয়া। নতুন পোশাক আর ঈদের খোশ মেজাজকে কাজে লাগিয়ে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারে নেমে পড়েছেন প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা। রথ দেখা ও কলা বেচার মতোই ঘরে ঘরে যেমন ঈদের শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে তেমনি নিজেদের প্রার্থী ও প্রতীকের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহবান করছে প্রার্থীরা।

আজ সোমবার দেশের অন্যতম বৃহৎ সিটি কর্পোরেশন গাজীপুর নগরীর চিত্র এটি। গত মাসের ১৫ তারিখে খুলনার পাশাপাশি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতায় হাইকোর্টে একটি রিট হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সমর্থিত জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার ও নির্বাচন কমিশন স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলে আদালত স্থগিতাদেশ তুলে দেন। তার ফলে নির্বাচন কমিশন পুণরায় আগামী ২৬ জুন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে।

২৬ জুন নির্বাচন হলে বলার অপেক্ষা রাখেনা নির্বাচন এখন নাকের ডগায়। আর তাই সময় নষ্ট করতে নারাজ প্রার্থী ও তাদের কর্মীরা। গাজীপুর ঘুরে জানা যায়, নির্বাচন স্থগিত হলেও নির্বাচনী প্রচার বন্ধ করেননি প্রার্থী ও তাদের নির্বাচন পরিচালনাকারী নেতা-কর্মীরা। নানা কৌশলে রমজানজুড়ে তারা নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন। রমজানের প্রত্যেকটা দিনই নগরীর কোনো না কোনো ওয়ার্ডে ইফতারের আয়োজন ছিল। যেখানে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা গিয়ে নানা কৌশলে ভোট চেয়েছেন।

গাজীপুরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। রাজনীতির অনেক চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে এবার সিটি কর্পোরেশন মেয়র হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। হাইকোর্ট নির্বাচন স্থগিত করলে অনেকে কিছুটা হতাশ হলেও আশা ছাড়েন নি জাহাঙ্গীর আলম। তিনি রমজান মাস জুড়ে ৫৭ টি ওয়ার্ডে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে ইফতার করেছেন। দানবীর ও সমাজ সেবক হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গীর আলম ইফতার সামগ্রী বিতরণ, ঈদ বস্ত্র বিতরণ এসবেও ছিলেন এগিয়ে। প্রথম দিকে দোটানায় থাকলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কড়া নির্দেশনায় মহানগর ও জেলার সব নেতাকর্মীরা এখন একাট্টা হয়ে কাজ করছেন নৌকার পক্ষে।

গতকাল রোববার জাহাঙ্গীর আলমের বাসভবনে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে জেলার মন্ত্রী এমপিসহ মহানগরীর সবকটি ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা নৌকার পক্ষে ঘরে ঘরে গিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। গাজীপুরের স্থানীয় ভোটার আসহাব উদ্দিন বলেন, দীর্ঘ বিরতির পর গাজীপুরে নির্বাচন হচ্ছে আমি তাতেই খুশী। আমরা জাহাঙ্গীর আলমকে ভোট দেব। কেন জাহাঙ্গীর আলমকে ভোট দিবেন জানতে চাইলে আসহাব উদ্দিন বলেন, জাহাঙ্গীর আলম আমার দলের লোক সেটা বড় কথা নয়। তিনি সব সময় আমাদের খোঁজ খবর রাখেন সেটাই বড় কথা।

কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী এরই মধ্যে জাহাঙ্গীর আলমের নির্বাচনী সেল নেতা-কর্মীদের কাছে কর্মপরিকল্পনা পাঠিয়ে দিয়েছেন। ঈদের আনন্দ বিনোদন সংক্ষিপ্ত করে আজ থেকে পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারণায় মনোনিবেশ করছেন জাহাঙ্গীর আলম ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত নেতাকর্মীরা।

এদিকে আজ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারে মাঠে নেমেছেন বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারও। গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন জানান, রোজার মধ্যেই গাজীপুর সিটি নির্বাচন নিয়ে ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রার্থীসহ গাজীপুর বিএনপির সিনিয়র নেতারা। সেখানে নেওয়া সিদ্ধান্ত মতো এবার নতুন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে কাজ করার কথা জানানো হয়েছে। মামলা নেই এমন নেতাকর্মীদের কেন্দ্রে এজেন্ট করা হবে। নানা ধরণের মামলায় জাতীয় রাজনীতির মতোই গাজীপুরেও বিএনপি চাপের মুখে থাকলেও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র মাঠে ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে দলটির নেতা কর্মীরা। মূলত মামলা নেই এমন নেতাদেরকেই মাঠে সক্রিয় থাকতে দেখা যাবে।

গাজীপুর জেলা বিএনপির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, খুলনা ও গাজীপুরের অবস্থা এক নয়। গাজীপুরে খুলনার মতো করতে চাইলে গাজীপুরের জনগণ তা প্রতিহত করবে। আর এ জন্য সব দায় সরকারে ঘাড়েই পড়বে।

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলমের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত অ্যাডভোকেট প্রশান্ত কুমার সরকার জানান, সোমবার সকালে বাসা থেকে বের হয়ে জাহাঙ্গীর আলম দিনব্যাপী গাছা সাংগঠনিক থানা এলাকায় গণসংযোগ ও পথ সভায় বক্তব্য দেবেন। এছাড়া ৫৭টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা গণসংযোগে অংশ নেবেন এবং নেতাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করবেন। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের বার্তা এবং আধুনিক গাজীপুর সিটি গড়ার জন্য নৌকায় ভোট দিতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করবেন।

অন্যদিকে ধানের শীষের প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার সকালে কাশিমপুর এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পরে তিনি কাউলতিয়া এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ করবেন। এছাড়া ৫৭টি ওয়ার্ডে স্থানীয় নেতাদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতারও প্রচারণায় অংশ নেবেন। উল্লেখ্য গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন জনসংখ্যার দিক থেকে দেশের বৃহত্তম সিটি কর্পোরেশন। আগামী ২৬ জুন হতে যাওয়া নির্বাচনটি এ সিটি কর্পোরেশনের দ্বিতীয় নির্বাচন। এ সিটিতে ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৯৩৫ জন, নারী ভোটার ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮০১ জন। মোট মেয়র প্রার্থী ৭ জন।

৫৭টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ২৫৬ জন ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৪ জন। নানা কারণে দেশের রাজনৈতিক হিসাব নিকাশে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলেই মনে করছেন রাজনীতি সংশ্লিষ্ট লোকেরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here