ঈদ শুভেচ্ছায় নির্বাচনি প্রচারণা

সিলেট প্রতিনিধিঃ সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে ৩০ জুলাই। ঈদের আগেই তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তাই ঈদে সিলেটবাসীর জন্য আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

নগরীর দেয়ালে দেয়ালে সম্ভাব্য মেয়র, কাউন্সিলর প্রার্থীদের সাটানো ঈদ শুভেচ্ছার রঙিন, সাদাকালো পোস্টারে ঠাসা। বিশেষ করে নগরীর শাহী ঈদগাহ, শাহজালাল (র.) দরগা এলাকায় পোস্টারের পরিমাণ অনেক বেশি।

নগরী ঘুরে বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, মেয়র প্রার্থী মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইন, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, মহানগর জামায়াতের আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ অন্য মেয়র প্রার্থীদের পোস্টার বেশি চোখে পড়ে।

এ সকল পোস্টারে দেখা যায়, সমর্থকরা নগরবাসীকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি দলীয় প্রতীক দেয়ার দাবি জানাচ্ছেন। এছাড়া প্রার্থীরা নিজেদের ওয়ার্ড এলাকার পাশাপাশি অনলাইনে বিশেষ করে ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জারে পোস্টার করে নগরবাসীকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। অনেকে ফেসবুকে লাইভ করার মাধ্যমে নিজেদের জানান দিচ্ছেন।

নগরীর শাহী ঈদগাহ এলাকার নজরুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর ঈদে শাহী ঈদগাহর চারপাশে শুভেচ্ছা জানানো কিছু ব্যানার পোস্টার দেখা গেলেও এবার ব্যতিক্রম। শাহী ঈদগাহ ছাড়াও গলিতে গলিতে কিংবা দেয়ালে দেয়ালে প্রার্থীদের পোস্টার শোভা পাচ্ছে। যেনো সব ভালোবাসা এখন নগরবাসীরর জন্য!

নগরীর খাসদবীর এলাকার বাসিন্দা ইয়ারব আলী বলেন, নগরীর সব দেয়ালে প্রার্থীদের শুভেচ্ছার পোস্টার। ঈদের আগে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে পোস্টার খসে পড়লেও দখল করা জায়গায় নতুন করে পোস্টার সাটিয়েছেন প্রার্থীরা। নির্বাচিত হলে পোস্টারের প্রতি যে আন্তরিকতা বা দায়িত্বশীলতা দেখিয়েছেন তা ধরে রাখতে পারলে নগরীর অনেক উন্নয়ন হবে।
নাট্যকর্মী শাহ শরীফ উদ্দিন বলেন, নির্বাচনী শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। তারা নগরীর দেয়ালগুলো নষ্ট করেছেন। কার দেয়ালে কে পোস্টার লাগিয়েছেন, তাও জানেন না। এখন আবার ২০ জুনের মধ্যে পোস্টার অপসারণ করার নির্দেশনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে। এই যে দেয়াল থেকে পোস্টার তোলার পর দেয়ালের শ্রী নষ্ট হবে তা সারাবে কে?

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ৫নং ওয়ার্ডের এক কাউন্সিলর প্রার্থী বলেন, আসলে পোস্টার না লাগালে নিজের প্রার্থীতা জানান দেওয়া যায় না। অনেকে মনোনয়ন গ্রহণ পূর্ব জরিপ হিসেবে পোস্টার লাগান। জরিপ অনুকূলে না থাকলে সরে পড়বেন।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচন এলেই প্রার্থীরা সরব হন। সিলেটবাসী শান্তিকামী। কারো দেয়ালে পোস্টার লাগালে প্রতিবাদ করেন না। তবে ২০ তারিখের পর পোস্টার নিজ দায়িত্বে অপসারণ না করে ব্যবস্থা নেবে ইসি। এতে সবাই নিজ নিজ পোস্টার অপসারণ করে নেবেন। নগরীর শ্রী হারানোর কথাও তিনি স্বীকার করেন।

নগরীর ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রবাসী আহমদ মিয়া বলেন, প্রার্থীদের ম্যান টু ম্যান যোগাযোগ ভালো লাগছে। তবে নগরীর সৌন্দর্য নষ্ট করে যত্রতত্র পোস্টার লাগানোটা মেনে নেওয়া যায় না। যার সীমানা প্রাচীরের রং নষ্ট হবে সেই বুঝে এর কষ্ট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here