ঈদে প্রস্তুত রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো

নিজস্ব প্রতিনিধিঃপবিত্র ঈদুল ফিতরের বাকি আর মাত্র একদিন। ঈদ আনন্দ প্রিয়জনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে ইতোমধ্যে অনেকে ঢাকা ছেড়েছেন। আজকের মধ্যে বেশির ভাগ নগরবাসী চলে যাচ্ছেন ঢাকার বাইরে। তবে যারা এই ঈদে ঢাকায় থাকছেন তারা ঘুরে বেরানোর জন্য পাবেন প্রত্যাশিত ফাঁকা ঢাকা। শিশু-পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে রাজধানীর ফাঁকা সড়কে মুক্তভাবে ঘুরতে বেড়ানোর মুখ্য সময় এখনই।

যারা ঢাকায় ঈদ করছেন তাদের জন্য রাজধানীর জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রয়েছে। এসব বিনোদনকেন্দ্রে ঈদের দিন থেকেই শুরু হবে ভিড়। আগামী সপ্তাহ পুরোটাই জমজমাট থাকবে ঢাকার বিনোদনকেন্দ্রগুলো।

শাহবাগের জাতীয় জাদুঘর এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা জাদুঘর ঈদের দিন বন্ধ থাকলেও ঈদের পরদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকছে। শিক্ষার্থী, শিশু-কিশোর, প্রতিবন্ধী ও সিনিয়র সিটিজেনরা এদিন বিনামূল্যে দর্শন করতে পারবেন।

দর্শনার্থীরা ঈদের সময় ঢাকা চিড়িয়াখানায় ভ্রমণ করতে পারবেন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। প্রবেশমূল্য ধরা হয়েছে ৩০ টাকা।

শিশুদের বাড়তি বিনোদন দিতে শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় শিশু পার্ককে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। ঈদে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য প্রবেশ ও রাইডগুলো চড়ার সুযোগ বিনামূ্ল্েয রাখা হলেও বাকিদের প্রবেশ মূল্য ১৫ টাকা ধরা হয়েছে। ঈদের প্রথম চার দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে পার্কটি।

শিশুপার্কে মেরি-গো-রাউন্ড, লম্ফঝম্ফ, চাকা পায়ে চলা, টয় ট্রেন, উড়ন্ত বিমান, উড়ন্ত নভোযানসহ বেশ কিছু উল্ল্যেখযোগ্য রাইড রয়েছে।

ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত ‘ডিএনসিসি ওয়ান্ডারল্যান্ড’ ঈদের প্রথম সাত দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ৫০ টাকা ধার্য করা হয়েছে।

রাজধানীর মগবাজার ও কারওয়ান বাজারের মাঝামাঝি রামপুরা ব্রিজ ও গুলশান-১ পর্যন্ত বিদ্যমান মনোরম পানিপথ ও সড়কপথের সংমিশ্রণে সাজানো হাতিরঝিল। সড়কের দুই ধারেই রয়েছে গাছ ও দর্শনার্থীদের বসার ব্যবস্থা। রয়েছে খাবার হোটেলের ব্যবস্থাও।

হাতিরঝিলে সবচেয়ে বড় বিনোদনের অংশ হচ্ছে সড়কপথের ১৪টি আরামদায়ক ‘চক্রাকার বাস সার্ভিস’। মাত্র ১৫ টাকা খরচে হাতিরঝিলের মগবাজার অংশ থেকে রামপুরা ব্রিজ পর্যন্ত দিতে পারবেন এক চক্কর।

আর পানিপথের বিনোদনের জন্য রয়েছে দশের অধিক ইঞ্চিনচালিত ‘ওয়াটার বোট’। মাত্র ২৫ থেকে ৩০ টাকা খরচে মগবাজার অংশ থেকে রামপুরা বা গুলশানের ২০ মিনিটের পানি পথের যাত্রা করতে পারবেন যে কেউ।

হাতিরঝিলের মগবাজার অংশে রয়েছে দাবার কোর্ট, দাবার গুটি নিয়ে যে কারো সাথে করতে পারবেন মস্তিষ্কের কসরত।

রাজধানীর পুরান ঢাকার প্রাচীন দুর্গ, যা প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে একটি সংরক্ষিত পর্যটনস্থল। বর্তমানে রবিবার পূর্ণ দিবস ও সোমবার অর্ধদিবস বন্ধ থাকলেও ঈদের বিনোদনের বিবেচনায় ঈদের সময়টাতে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এর প্রবেশ মূল্য (টিকিট) ধরা হয়েছে ৩০ টাকা।

পুরান ঢাকার ইসলামপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত মোঘল আমলের ঐতিহ্যবাহী ভবন ‘আহসান মঞ্জিল’ ঈদের সময় সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

রাজধানীর শ্যামপুরে প্রায় সাত একর জমির ওপর গড়ে উঠা বুড়িগঙ্গা ইকো পার্কেও ঘুরে আসতে পারেন এদিন।

নিরিবিলি পরিবেশের অন্যতম রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত দিয়াবাড়ী তরুণ প্রজন্মের অন্যতম প্রিয় একটি দর্শনীয় স্থান। ভ্রমণপিপাসুরা ওখানেও ঘুরে আসতে পারেন সময় করে।

বিশ্বমানের সাঁতার কাটার ব্যবস্থাসহ উত্তেজনাকর সব বিনোদনের ‘রাইডস’ অন্যতম ফ্যান্টাসি কিংডম। ঢাকার কাছেই আশুলিয়ায় অবস্থিত এই থিম পার্কটি ঈদের প্রথম সাত দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

সাভারের নবীনগরের নন্দন পার্কও কম যায়নি বিনোদন সেবায়। নানান রকম রাইড ও ওয়াটার ওয়ার্ল্ডের পাশাপাশি রেখেছে ক্ষুদে চিড়িয়াখানা। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখা হবে পার্কটি।

এছাড়াও হাতে সময় নিয়ে ঢাকার অদূরে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের পানাম সিটি এবং ঈশা খাঁ’র বাড়ি, নরসিংদী সদরের পাঁচদোনা এলাকার ড্রিম হলিডে পার্ক। সেখানেও ঘুরে আসতে পারেন সময় করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here