ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত আগৈলঝাড়ার আশ্রায়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা

আগৈলঝাড়া প্রতিনিধিঃ বরিশালের আগৈলঝাড়ার আশ্রায়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা সরকারী সাহায্য সহযোগীতা না পেয়ে ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। সাহায্য সহযোগীতা না পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছে বাসিন্দারা। আশ্রয়ন প্রকল্পটি উপজেলার সীমান্তবর্তী ও দুই ইউনিয়নের মধ্যবর্তী হওয়ায় বাসীন্দাদের সব সময় সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকতে হয়েছে।

এখানের বাসিন্দাদের ঈদ সাহায্য সহযোগিতা বা আনন্দ থেকে সবসময় বঞ্চিত হচ্ছে। শুধু মাত্র কয়েক জনে প্রতি ঈদের ভিজিএফ চাল পায়। এছাড়া তার কিছুই পায় না। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময় উপজেলার পয়সারহাট নদীর তীরবর্তী বাগধা ও বাকাল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকা পয়সারহাট- গোপালসেন মৌজায় আশ্রয়ন প্রকল্পটির নির্মাণের জায়গা নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সহায়তায় ২০০০ সালে আশ্রায়ণ প্রকল্প নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পে ১০টি শেডে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ১০০টি ভূমিহীন ও দুঃস্থ পরিবার বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে আশ্রয়ন প্রকল্পে ৭০ টি পরিবার বসবাস করছে বলে জানা গেছে।

অপর ঘরগুলো খালি রয়েছে। কারণ হিসেবে জানাগেছে, প্রকৃত ভূমিহীন যাচাই বাছাই না করে তালিকাভূক্ত করায় ভূমিহীন বাদেও অন্যরা প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ পাওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী ১০টি পরিবারের প্রতিটি শেডে ১টি স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা, ২টি গোসলখানা ও ১টি গভীর নলকুপ থাকার কথা থাকলেও কিন্তু পয়ঃ নিস্কাশনের অপর্যপ্ততা, নলকুপ ও গোসলখানার সমস্যা রয়েছে। সমস্যা সমাধানের জন্য সংস্কার করা হলেও ঘরের টিন দিয়ে পানি পরছে বলে বাসিন্দারা জানান।

ঈদ উপলক্ষে সরকারী-বেসরকারী কোন সাহায্য সহযোগিতা তাদের ভাগ্যে জুটছে না বলে তাদের অভিযোগ করেন বাসিন্দার লোকহন। ভূমিহীন ও নিঃস্ব লোকদের একটু মাথাগোঁজার ঠাঁই করে দেবার জন্য সরকার আশ্রায়ণ প্রকল্প কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। সেখানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ভূমিহীন লোকদের বাছাই করে ১০০টি পরিবারের আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়।

আশ্রায়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার সুবিধার জন্য একটি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। কিন্তু এর কোন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আশ্রায়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা বকুল ফকির ও দোলন বেগম আক্ষেপ করে বলেন দুই ইউনিয়নের মধ্যবর্তী হওয়ায় কোন মেম্বার বা চেয়ারম্যানরা আমাদের সংবাদ নেয় না। তারা শুধু ভোটের সময় আমাদের কাছে আসে। এছাড়া কোন সরকারি সাহায্য সহযোগিতা করেনা তারা।

বাসিন্দাদের অভিযোগ ঈদ বা পূজায় সরকারী ভাবে সাহায্য সহযোগিতা দিলেও দুই ইঊনিয়নের মধ্যবর্তী হওয়ায় আমরা সব সময় সাহায্য সহযোগীতা থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে। প্রতি বছর শুধু ১০ কেজি করে চাল পেয়েছি। যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে তখন ওই সরকারের নেতৃস্থানীয় লোকজনই আশ্রায়ণ প্রকল্পের মধ্যে বিভিন্ন অবৈধ কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here