‘যমুনার প্যাটে ঘরবাড়ি আংগোরে আবার কিসের ঈদ’

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : আর ক’দিন পরেই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। ইতোমধ্যে সারা দেশে ঈদের আমেজ লাগলেও নদী ভাঙ্গন কবলিত সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরের দুইশতাধিক পরিবারে এবার নেই ঈদের আনন্দ। গত দেড়মাসে যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে বসত-ভিটে হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্থরা এখন অসহায় অবস্থায় নিজেদের একটু মাথা গোজবার ঠাই খুজতেই ব্যাস্ত। এদের অধিকাংশের ভাগ্যে এখনো জোটেনি ঈদের নতুন পোশাক। তবে জন প্রতিনিধিরা বলছেন, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে ভাঙ্গন কবলিত মানুষের মাঝে ঈদের আগেই সহযোগীতার হাত বাড়ানো হবে।

গতকাল সকালে ব্রাহ্মণগ্রাম ও আড়কান্দি চরের ভাঙন কবিলত এলাকার মোকলেস হোসেন, ছামিউল, কোরবান, আলতাফ ও জহুরার সাথে কথা হলে তারা আবেগ জড়িত কন্ঠে বলেন, বসত ভিটা যমুনার প্যাটে, আংগোরে আবার কিসের ঈদ আনন্দ? প্যাটে খাওন না থাইক্যাও যদি বাড়ি ঘর থাকতো তাও ভাল ঠেকতো। এহন বাড়ি ঘর সব নদীতে আমারা আছি মাইনসের বাইত্তে উটুল্ল্যা এর ভিতরে আবার নতুন পেরন দিয়াই কি করমু আর মিষ্টি নাস্তা পায়েসই কোনে পামু।

এছাড়া ব্রাহ্মনগ্রামের স্কুল শিক্ষার্থী শিফাত, ফাহিমা ও জেলহজদের মতো প্রায় অর্ধশত শিশুর ভাগ্যেও এবার জোটেনি ঈদের নতুন পোশাক। তারাও তাদের পরিবারের অন্য সদস্যের সাথে ঘরবাড়ি সড়াতে ব্যস্ত, ঈদ তাদের মনেও নাড়া দিচ্ছে না।

সরেজমিন জানা যায়, দুই বছর ধরে তাঁত শিল্প সমৃদ্ধ এনায়েতপুরের ব্রাহ্মনগ্রাম-আড়কান্দি থেকে পাচিল পর্যন্ত প্রায় ৫কিলোমিটার এলাকায় নদী ভাঙ্গন শুরু হয়। গত বছরের ভয়াবহ নদী ভাঙনে খবর গনমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভাঙ্গন পরিস্থিতি দেখতে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা সকলেই পরিদর্শন করেন এই অঞ্চল। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের এই পরিদর্শন কোন কাজে আসেনি নদী ভাঙ্গনরোধের ব্যাবস্থায়।

এদিকে গত দেড়মাস ধরে আবারো নদী ভাঙ্গনের কবলে বসতবাড়ি হারিয়েছে অন্তত দুইশতাধিক পরিবারের বসত-বাড়ি। সাথে নদীতে চলে গেছে স্কুল, মাদ্রসা, মসজিদ সহ বিভিন্ন স্থাপনা ও বিস্তর ফসলি জমি। বর্তমানে নিজেদের বাড়িঘর সরাতেই এখন ব্যাস্ত এই এলাকার মানুষ আবার অনেকেই আত্ময়-স্বজনের বাড়ি, ওয়াবদাবাঁধ সহ খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিচ্ছে। তাই আসন্ন ঈদুল ফিতরের আনন্দ তাদের মনে আর কোন দাগ কাটছেনা। একই সাথে ভাঙ্গন আতংকে আছে নদী পাড়ে অবস্থিত দেশের বৃহৎ কাপড়ের হাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বসবাসরত হাজারো মানুষ। এদের কাছে এবারের ঈদে আনন্দ হয়ে আসছে না।

এ বিষয়ে খুকনী ইউনিয়নের স্থানীয় সদস্য সোহরাব আলী জানান, এই এলাকার মানুষ ঈদের আগে ত্রান নয়, চায় একটি বাঁধ। যা তাদের মাথা গোজার ঠাইটুকুকে রক্ষা করবে। এখনই নদী তীর রক্ষা স্থায়ী বাঁধ না হলে ভবিষ্যৎ আরো করুন অবস্থায় পড়তে হবে এ এলাকার হাজার হাজার মানুষকে।

তবে শাহজাদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান শাহজাহান জানালেন, ঈদের আগেই ভাঙ্গন কবলিত মানুষের জন্য নগদ অর্থ ও খাদ্যের ব্যাবস্থা করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here