যথাসময়ে তৃণমূলে বিনামূল্যের পাঠ্যবই না পৌঁছানোর আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সরকার আগামী বছরের জন্য প্রায় ৩৬ কোটি ৬ লাখ বই ছাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু সঠিক কৌশলের অভাবের কারণে তৃণমূল পর্যায়ে বিনামূল্যের পাঠ্যবই না পৌঁছানোর আশঙ্কা বাড়ছে। নির্বাচনী বছর হিসাবে মন্ত্রণালয় আগেভাগেই পাঠ্যবই ছাপিয়ে অক্টোবর মাসের মধ্যেই সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়েছিল। কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী বই ছাপানো যাচ্ছে না। কারণ যে প্রক্রিয়া ও গতিতে কাজ পাঠ্যবই ছাপার কাজ চলছে তাতে যথাসময়ে তা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না। শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এনসিটিবি এখন পর্যন্ত প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিকের বই ছাপার কার্যাদেশ দিতে পারেনি। কার্যাদেশ দেয়ার পর প্রেস মালিকরা ১২৪ দিন সময় পায়। মাধ্যমিকের বই ছাপার কাজ নিয়েও সংকট চলছে। আগামী ১ জুলাই থেকে একাদশ শ্রেণির শিক্ষাবর্ষ শুরু। ওই বইয়েরও কোন খবরই নেই। ফলে এই স্তরের শিক্ষার্থীদের বই ছাড়াই ক্লাস শুরু করতে হবে। কারণ এনসিটিবির পক্ষ থেকে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপার কাজের দরপত্র আহ্বান করার পর পরই কাগজের মূল্য বেড়ে যায়। যে কারণে দরপত্রের দর অনুযায়ী কাজ করতে রাজি হয়নি প্রেস মালিকরা। ফলে দাম বাড়িয়ে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে- কাগজের দাম বেড়ে যাওয়ার পরেও এনসিটিবি সংশ্লিষ্টরা কম দামে প্রাক্কলিত দর নির্ধারণ করেন। বর্তমানে কিছু বইয়ের কাজ শুরু হলেও বেশিরভাগ বইয়ের কার্যাদেশ প্রেস মালিকর এখনো পায়নি।
সূত্র জানায়, বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপার কাজে দেশের ছোট ৪শ প্রেস যুক্ত। তার বাইরে রয়েছে ৬৮টি বড় প্রেস। কিন্তু নির্বাচনের সময়ে সব প্রেস নির্বাচনী পোস্টার ছাপায় ব্যস্ত থাকবে। ফলে বেশি লাভের আশায় বইয়ের চেয়ে পোস্টার ছাপাতেই তাদেও আগ্রহ থাকবে। আর ওসব সমস্যা থেকে নিরাপদে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে বিনামূল্যের বই পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল। অন্যান্য বছর ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বই পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ডিসেম্বর পর্যন্ত লেগে যায়।
সূত্র আরো জানায়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ফেব্রুয়ারি মাসে প্রাথমিক স্তরের বই ছাপার এটিপিপি (বার্ষিক সমায়াবদ্ধ পরিকল্পনা) অনুমোদন দেয়। সে অনুযায়ী দরপত্রের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ঠিকাদারদের সঙ্গে ৬ জুন চুক্তি করার কথা ছিল। কিন্তু দর নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিকের টেন্ডার বাতিল করে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আর প্রাক-প্রাথমিকের নতুন দরপত্র খোলা হবে আগামী ২০ জুন আর প্রাথমিকের ২১ জুন।
এদিকে পাঠ্যবই ছাপানো প্রসঙ্গে মুদ্রণ শিল্প সমিতির সভাপতি তোফায়েল খান জানান, অক্টোবরের মধ্যে বই সরবরাহ করা যাবে বলে মনে হচ্ছে না। এক্ষেত্রে এনসিটিবির কর্মকর্তাদের দক্ষতা দায়ি।
অন্যদিকে এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র সাহা জানান, অক্টোবরের মধ্যে বই পৌঁছে যাবে। কিছু বই পৌঁছতে নভেম্বর পর্যন্ত যেতে পারে। মাধ্যমিকের কার্যাদেশ প্রক্রিয়া প্রায় শেষ হয়েছে। প্রাথমিকের টেন্ডার ওপেন হবে চলতি মাসের ২০ ও ২১ জুন। ফলে অক্টোবরের মধ্যে বই ছাপা শেষ হবে। প্রেস মালিকরা যাই বলুক না কেন ছাপা নির্ধারিত সময়ে হবে। গতবারও শঙ্কার কথা বলেছিলেন প্রেস মালিকরা। কিন্তু ঠিক সময়েই বই পেয়েছে শিক্ষার্থীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here