বাসচাপায় আহত নুরুলকে দেড় কোটি টাকা দেওয়ার জন্য রুল

নিজস্ব প্রতিনিধিঃহাইকোর্ট আজ রোববার রাজধানীর মহাখালীতে ৬ নম্বর বাসের চাপায় আহত নুরুল আমিন চৌধুরীকে কেন দেড় কোটি ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন। একইসঙ্গে এ ঘটনার দায় ও ক্ষতিপূরণ নিরুপণে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করতে সড়ক ও জনপথ সচিবকেও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার একটি রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি সহিদুল করিমের যৌথ হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. দেওয়ান এমএ ওবাঈদ হোসেন।
পরে দেওয়ান এমএ ওবাঈদ হোসেন জানান, ঘটনার পর একটি জাতীয় দৈনিকে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর অ্যামেনেস্টি বেঙ্গলের পক্ষে প্রধান নির্বাহী অধ্যক্ষ ড. রেজিনা বানু হাইকোর্টে এ সংক্রান্ত একটি রিট দায়ের করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আজ আদালত রুল জারি করেছেন।

রুলে জনগণের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করে এমন বেপরোয়া যান চলাচল রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা কেন বেআইনি হবে না, বাস চাপায় পা বিচ্ছিন্ন হওয়া নুরুল আমিন চৌধুরীকে দেড় কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না, এ ঘটনায় দায় এবং ক্ষতি নিরুপণে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি কেন গঠন করা হবে না, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

এছাড়া ক্ষতি ও দায় নিরুপণে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে সড়ক ও জনপথ সচিবকে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান এই আইনজীবী।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, সড়ক ও জনপথ মন্ত্রণালয় সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির চেয়ারম্যার, পুলিশের গুলশান জোনের উপ কমিশনার, ট্রাফিক পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার ও বনানী মডেল থানার ওসি, ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মো. মনসুর ও ৬ নম্বর বাসের মালিক (ঢাকা মেট্রো-ব-১১৩০৮৩) মো.নাসিরকে বিবাদী করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দৈনিকে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়,‘বাসের চাপায় থেঁতলে যাওয়া পা সংক্রমিত হয়ে এখন জীবনশঙ্কায় রয়েছেন নুরুল আমিন (৫৬)। রাজধানীর মহাখালীতে দুই বাসের প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়েন তিনি। একটি বাস তার পায়ের ওপর রেখেই পালিয়ে যান চালক। উপস্থিত লোকজন বাস কাত করে তার পা বের করে নিয়ে আসেন।
নুরুল আমিনের ডান পায়ের সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। পায়ে পোকা ধরেছে। তাকে পঙ্গু হাসপাতাল থেকে অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এখন সেখানে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন। তার ডান পা কেটে ফেলতে হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তবে এখনই সেই অস্ত্রোপচার করা যাচ্ছে না। সংক্রমণ থেকে তার শরীরে আরও নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নুরুলের ওপর নির্ভরশীল তার দুই ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রী। তিনি দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর থেকে অকূলপাথারে পড়েছে পরিবারটি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here