সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০৩:২২ অপরাহ্ন

সিরাজগঞ্জে মার্কেটে ছুটছে সব শ্রেণী পেশার মানুষ

ক্রাইম ফোকাস ডেস্ক :
  • আপডেট সময় রবিবার, ১০ জুন, ২০১৮
  • ১১২ বার পড়া হয়েছে

সিরাজগঞ্জ  প্রতিনিধি : ঈদের দিন যতই এগিয়ে আসছে ততই সিরাজগঞ্জে জমে উঠছে ঈদের মার্কেট । পরিবার-পরিজনদের জন্য পোশাক কিনতে মার্কেটে আসতে শুরু করেছেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার ক্রেতারা।

বাজারে নানা ডিজাইনের পোশাক থাকলেও দেশী ও ভারতীয় সুতি কাপড়ের পোশাক দখল করে নিয়েছে ঈদের মার্কেট। এবারের ঈদে পোশাকের দাম গত বছর থেকে তুলনা মুলক বেশি ক্রেতারা এমন অভিযোগ করলেও ব্যবসায়ীরা বলছেন অত্যাধুনিক ডিজাইনের পোশাক হওয়ায় দামও একটু বেশী।

জেলা শহরের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে ঈদে নতুন পোশাক দিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিপণী বিতান গুলোতে ছুটছে সব শ্রেণী পেশার মানুষ। দ্রব্যমূল্যের উর্দ্বগতির কারণে আয়ের সাথে মিল রেখে কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা।

তবে প্রতিটি দোকানে পুরুষের চেয়ে মহিলা ক্রেতার সংখ্যা বেশি। শুধু বড়রাই নয় পছন্দ মত পোশাক কিনতে শিশুদের নিয়ে দোকানে ভিড় করছেন তাদের মা-বাবা। এবারের ঈদে নতুনত্বের ছোঁয়া এসেছে বাজারে। দোকান গুলোতে রাখা হয়েছে নতুন নতুন ডিজাইনের নানা রঙের পোশাক।

ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে তৈরি পোশাকের বিপণী বিতানে রকমারি পোশাক শোভা পাচ্ছে। এসব পোশাকের পাশাপাশি নিত্য নতুন জুতা-স্যান্ডেলের প্রতি চাহিদা রয়েছে ছেলে-মেয়ে উভয়ের। তবে দামের দিক থেকে কিছুটা সাশ্রয় আর আরামদায়ক হওয়ায় এসব ক্রেতার প্রথম পছন্দই দেশী সুতি ড্রেস।

এবার ঈদে বিক্রেতারা নতুন ডিজাইনের অজুহাত দেখিয়ে পণ্যের দাম ইচ্ছামত বাড়াচ্ছে বলে অনেক ক্রেতার অভিযোগ। বাড়তি দামের কারণে ছেলে-মেয়েদের চাহিদা পূরণ করতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-বৃত্ত পরিবার গুলো হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এবারের ঈদে বাজারে নরমাল, নবাব, প্রিন্ট, বুটিক ও হাতে কাজ করাসহ বাহারি ডিজাইনের নানা বৈচিত্র্যের পাঞ্জাবী বেশি বিক্রি হচ্ছে। ঈদ উৎসবে অন্যান্য পোশাকের সাথে থাকা চাই পাঞ্জাবী। পাঞ্জাবীর পাশাপাশি তরুণদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ফিটিং হাফ শার্ট, ফুল শার্ট, শর্ট পাঞ্জাবী, জিন্স প্যান্ট, চায়না গ্যাবাডিন, ফরমাল প্যান্ট, টি-শার্ট, ফরমাল শার্ট,শেরওয়ানী প্রভৃতি।

অন্যদিকে মেয়েদের জন্য নামি-দামি ঈদের পোশাকের ছড়াছড়ি রয়েছে বড় বড় বিপণী গুলোতে। এবারের ঈদে মেয়েদের চাহিদার মধ্যে ল্যাহেঙ্গা, লং, ফ্লোটার্স। এ ঈদে প্রকার ভেদে লেহেঙ্গা এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে গরম আর দামের দিক থেকে কিছুটা সাশ্রয় হওয়ায় ক্রেতাদের প্রথম পছন্দই দেশী সুতি থ্রি পিস, জামদানি, টাঙ্গাইল ও সুতি জামদানী শাড়ির। শুধু বড়রাই নয় পছন্দ মত পোশাক কিনতে মা-বাবার সাথে দোকানে ভিড় করছে শিশুরাও।

পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে অনেকে বেল্ট, নানা রঙের জুতা-স্যান্ডেল, জুয়েলারি এবং কসমেটিকসের কিনছেন। সিরাজগঞ্জ শহরের থান কাপড় ও গার্মেন্টসের দোকান গুলোতে লেগে রয়েছে উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে কেনাকাটা। ক্রেতারা বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখে শুনে কিনছেন পোশাক।

ফলে দর্জি পাড়ায় যেন ফুসরত নেই কারিগরদের। দিন-রাত নানা ঢংয়ের পোশাক বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। যে কোন ভাবেই ঈদের আগে পোশাক তৈরি করে ডেলিভারি করতে হবে তাদের। ঈদে শহরের ১ নং খলিফাপট্রিতে নতুন পোশাক কিনতে আসা ক্রেতা মোহসিনা ইসলাম কেকা, আফরোজা খানম, আহম্মেদ রিজভী ও মোকাদ্দেস ইসলাম আপন জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর পোশাকের দাম একটু বেশী।

গত বছর যে থ্রি পিছের দাম ছিল এক হাজার থেকে ১৫’শ টাকা এ বছর সেই থ্রি পিছের দাম ১৯’শ থেকে আড়াই হাজার টাকা। একই পোশাক একেক দোকানে একেক দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে নতুন পোশাক কিনতে গিয়ে আমাদের
ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

আমাদের বিভিন্ন দোকান ঘুরে দর দাম করে পোশাক কিনতে হচ্ছে। রাজকন্যা ও জোসনার হাটের বিক্রেতা বলেন,এ বছর গরম পড়ায় সুতি পোশাকের কদর রয়েছে বেশি। অন্যান্য বারের তুলনায় বিক্রিও বেশি হচ্ছে। ডিজাইনের কারণে মোকামে এ বছর পণ্যের দাম একটু বেশী।

তাই বেশী দামে কেনায় বেশী দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে ক্রেতারা বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখে শুনে কম দামে পণ্য কিনছেন। সিরাজগঞ্জে ঈদ বাজারে নানা ডিজাইনের পোষাক থাকলেও মূলত ভারতীয় ও চাইনিজ পোষাকই বাজার দখল করে রেখেছে। তবে দেশীয় সুতি কাপড়ের কদর কমেনি এখানকার ঈদ বাজারে।

তবে সম্প্রতি শহরের এসএস রোডে চলছে পৌরসভার উন্নয়ন কাজ। এ উন্নয়ন কাজ ঈদ বাজার করতে আসা লোকজনের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ড্রেন নির্মাণের কারণে ক্রেতাদের চলাচলের বিগ্ন হচ্ছে।

তবে ধনী বা দরিদ্র যেই হোক না কেন সবাই এখন ঈদ বাজার মুখি। ঈদে স্বজনদের জন্য নতুন জামা-কাপড় কিনতে ঈদ বাজারে ভিড় করছেন। আর তাই শেষ মুহুর্তে সিরাজগঞ্জের কাপড় বাজার গুলোও জমে উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর