বরিশালে হাজার মিটার ইটের রাস্তা নির্মানে হাজারও মানুষের অভিযোগ’

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ অত্যন্ত নিন্মমানের ইট, পর্যাপ্ত পরিমান বালু না দেয়া, ১০ ফিটের রাস্তা ৬ ফিট করাসহ মাত্র পনেরশ’ মিটার দৈর্ঘ্যের ইট সলিংয়ের রাস্তা নির্মানে ভূক্তভোগী হাজারও মানুষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এডিবি প্রকল্পের অর্থায়নে জনগুরুত্বপূর্ণ ওই রাস্তাটি নির্মাণ করা হচ্ছে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের পাশ্ববর্তী সংযোগ সড়ক গৌরনদী উপজেলার বেজগাতী গ্রামে।
সূত্রমতে, বার্থী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জব্বার মাষ্টারের বাড়ির সম্মুখ থেকে মহাসড়ক পর্যন্ত পনেরশ’ মিটার (দেড় কিলোমিটার) দৈর্ঘ্যরে জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি ইট সলিংয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করার জন্য ৫৮ লাখ টাকার চুক্তিমূল্যে নির্মাণের দায়িত্ব পান বার্থী ইউনিয়নের সংরক্ষিত ২নং ওয়ার্ডের সাবেক নারী ইউপি সদস্য রোজিনা বেগম।
সরেজমিনে বেজগাতি গ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, নির্মাণের শুরু থেকেই রাস্তায় নিন্মমানের ইট ব্যবহারের চেষ্টা করলে গ্রামবাসী সম্মিলিতভাবে বাঁধা প্রদান করেন। ওইসময় রোজিনা বেগম নিন্মমানের ইট ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাজ শুরু করেন। কয়েকদিন পরেই শ্রমিকরা অত্যন্ত নিন্মমানের ইট দিয়ে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করলে পূর্ণরায় গ্রামবাসী বাঁধা প্রদান করেন। এসময় স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গ্রামবাসীর বাঁধা উপেক্ষা করে ঠিকাদার তার শ্রমিক দিয়ে জোরপুর্বক কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিন হাওলাদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘দেড় হাজার মিটার রাস্তা নির্মানে হাজারও মানুষের অভিযোগ।’ তিনি আরও বলেন, অত্যন্ত নিন্মমানের ইট দিয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি নির্মাণ করা হচ্ছে। রাস্তার নিচে ভাঙা ইট ব্যবহারসহ দায়সারাভাবে বালু দেয়া হচ্ছে। ইটের মান এতোই নিন্মমানের যে, একহাত উঁচু থেকে ফেললেই ভেঙে কয়েক টুকরো হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হক সরদার জানান, রাস্তার পাশ ১০ ফিট হওয়ার কথা থাকলেও আট থেকে ছয় ফিট করে নির্মান করা হচ্ছে।
অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য রোজিনা বেগম রাস্তায় কোনো অনিয়ম বা নিন্মমানের ইট ব্যবহার হচ্ছেনা দাবি করে বলেন, যেগুলো নিন্মমানের ইট এসেছিলো তা ফেরত দিয়েছি। বর্তমানে রাস্তার পাশে যে ইট রাখা হয়েছে তা পরিবর্তন করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here