তিন দলের সম্ভাব্য ১০ প্রার্থী মাঠে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি, দেবহাটা ও কালীগঞ্জ) ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। মাঠে নেমে পড়েছে প্রধান তিন দলসহ জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ও জোটভুক্ত অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো। এ আসন রক্ষা ও পুনরুদ্ধারে এবার লড়বে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি।

সাতক্ষীরা-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোয়ন প্রার্থী ৬, বিএনপির ৩ ও জামায়াতের একজনের নাম শোনা যাচ্ছে। তিন দলের সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে প্রভাবশালী প্রার্থীর সংখ্যাই বেশি।

বর্তমান এমপি ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক, জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ, আশাশুনি উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এ বি এম মোস্তাকিম, খুলনা নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সহসভাপতি গোলাম রসুল বিপ্লব আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী।

অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক বলেন, আগামী নির্বাচনে তিনি নির্বাচিত হলে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। ইতিবাচক কর্মকাণ্ডই মনোনয়ন নিশ্চিত করবে।

এ বি এম মোস্তাকিম বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য রাজনীতি করি। জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সময় জীবন বাজি রেখে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে আছি এবং থাকব।

ড. আবু ইউসুফ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, এলাকার মানুষের জন্য কিছু করার সুযোগ এসেছে। দলীয় মনোনয়নের বেলায় তিনি কাউকেই প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছেন না।

সাবেক এমপি ডা. মোখলেছুর রহমান বলেন,দলের জন্য এখনও কাজ করে যাচ্ছি।দল মনে করলে নির্বাচনে অংশ নেব।

বিএনপির মনোনয়নের জন্য লড়ছেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা. শহিদুল আলম ও আশাশুনি উপজেলা বিএনপি সভাপতি ইউপি চেয়াম্যান এস এম রফিকুল ইসলাম।

ডা. শহিদুল আলম বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ব্যাপক চিকিৎসাসেবা দিয়ে সাধারণের মনোযোগ কেড়েছেন। এ কারণে সাতক্ষীরা-৩ আসনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তিনি আগামী নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হবেন বলে আশাবাদী।

ডা. শহিদুল আলম বলেন, হয়রানির কারণে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা মাঠে দাঁড়াতে পারছেন না। এসবের মধ্যেই তিনি নির্বাচনের প্রস্ততি নিচ্ছি। আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে অবশ্যই তিনি দলীয় মনোনয়ন চাইবেন।

এস এম রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি ৪বার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। নানা সংকটের মধ্য দিয়েও নেতাকর্মীদের পাশে থেকে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি এমপি হতে পারলে নদী ভাঙন রোধ, বেড়িবাঁধ সংস্কার, রাস্তাঘাট উন্নয়নসহ অবহেলিত আসনে জনগণের সঙ্গে থেকে উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কাজ করবেন।

এদিকে ধানের শিষের মনোয়নপ্রত্যাশী অ্যাডভোকেট বরুণ কুমার বিশ্বাস বলেন, বিএনপির মনোয়ন যদি তাকে দেয়া হয় এবং সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হয় তাহলে ৩ আসন থেকে তারা জয়লাভ করবেন বলে আশাবাদী।

এ আসনের সাবেক এমপি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট স ম সালাউদ্দিন ও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি বলেন, এমপি থাকাকালে তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। আগামীতে নির্বাচিত হতে পারলে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবেন।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হতে পারেন মুহাদ্দিস রবিউল বাসার। তবে তেমন কোনো সাংগঠনিক তৎপরতা নেই দলটির। নির্বাচন ঘনিয়ে এলে তাদের তৎপরতা শুরু হতে পারে।

আশাশুনি গাবতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিমল কুমার দাশ বলেন, আশাশুনি একটি অবহেলিত জনপদ। এ এলাকার মানুষ খুবই অবহেলিত তবে বর্তমান সময়ে কিছু উন্নয়ন কাজ হলেও আশানুরূপ উন্নয়ন হয়নি। যিনি প্রকৃত উন্নয়ন করবেন এলাকার মানুষ তাকে ভোট দেবে।

আশাশুনি উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল হান্নান ডেইলি বাংলাদেশ কে বলেন, এ আসনে উন্নয়ন মোটামুটি হয়েছে। আমরা চাই আগামী নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হোক।মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে আমরা ক্ষমতায় দেখতে চাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here