পথশিশুদের আলোর পথ দেখানো বিদ্যালয়টি আর্থিক অনটনে আঁধারে

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহী মহানগরীর ছোট বনগ্রাম পশ্চিমপাড়া কৌইটাপুকুর এলাকা। অভিজাত নগরীর বুকে ২০০ ঘরের বেশি খণ্ড খণ্ড বস্তিবাসী। ধনী শ্রেণির শিশুরা দামি ব্যাগ ঘাড়ে নিয়ে গাড়িতে চড়ে স্কুলে যায়। কিন্তু বস্তির ছেলেদের ভাগ্যে যা জোটে না। শিশুগুলোর স্বপ্নগুলো নিভে যেতে থাকে। ভবিষ্যৎ ডুবে যেতে থাকে তিমিরে। আঁধারের মধ্যে পথ খুঁজে না পাওয়া পথশিশুগুলোর মাঝে আলোর দিশারী হয়ে আসে ‘আলোর পথে বিদ্যা নিকেতন’ স্কুলটি। আঁধারের পথ হারিয়ে ফেলা শিশুরা খুঁজে পায় ভবিষ্যতের আলো।

আলোর পথে বিদ্যা নিকেতন বিদ্যালয়ের দুইটি শাখায় ২৪০ জন পথশিশু লেখাপড়া করে। এতোগুলো শিশুর ভবিষ্যৎ আলো করা বিদ্যালয়টি আজ আর্থিক অভাবে নিজেই অন্ধকারে ডুবতে বসেছে।

‘আলোর পথে বিদ্যা নিকেতন’ বিদ্যালয়ের দুইটি শাখা। একটি ছোট বনগ্রাম পশ্চিমপাড়ার কৌইটাপুকুর এলাকায় অন্যটি বারো রাস্তার লাল মিয়ার বস্তিতে। দুই শাখায় ৬ জন শিক্ষক নামমাত্র মজুরি নিয়ে ২৪০ জন পথশিশুদের লেখাপড়া করিয়ে আসছেন। ২০১০ সালে এ বিদ্যালয়টির যাত্রা। দীর্ঘ যাত্রাপথে আর্থিক সহযোগিতার অভাবে চরম সমস্যায় রয়েছে বিদ্যালয়টি। ভালো ক্লাসরুম, টেবিল-বেঞ্চ, ব্লাকবোর্ডের চরম সংকটে ভুগছে বিদ্যালয়টি।

দিনে দিনে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও বিদ্যালয়টি পরিধি বাড়েনি। জরাজীর্ণ ক্লাসরুমে চলে পাঠদান। টেবিল ও বেঞ্চের সংকটে অনেক শিশুরা দাঁড়িয়ে ক্লাস করে। সেই সঙ্গে আছে শ্রেণিকক্ষের সমস্যা। শিশুদের এ সমস্যা সমাধানে আরো ৪টি শ্রেণিকক্ষের প্রয়োজন। অন্তত ১৫ জোড়া টেবিল-বেঞ্চ, শ্রেণিকক্ষগুলো সংঙ্কার জরুরি হয়ে পড়েছে।

এদিকে নগরীর মধ্যে বিদ্যালয় হলেও সেখানে নেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। গরমের দিন শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়ে। শুধু তাই না, এতোগুলো শিক্ষার্থীদের জন ল্যাট্রিন মাত্র একটি। বিদ্যালয়টিতে আরো অন্তত তিনটি স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন জরুরি হয়ে পড়েছে।

ওই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আবু জাফর। তিনি জানান, বিদ্যালয়ে ৬ জন শিক্ষক। প্রতিটি শিক্ষক নিবেদিত প্রাণ। তারা এক থেকে দেড় হাজার টাকা নামেমাত্র বেতন নিয়ে পাঠদান করিয়ে থাকে। আরো ভালো পাঠদানে বিদ্যালয়ে আরো শিক্ষকের প্রয়োজন। কিন্তু এতো অল্প বেতনে কেউ আসতে চায় না।

তিনি আরো জানান, এখানে শিশুরা বিনা পয়সায় লেখাপড়া করে। কোন বেতন নেয়া হয় না। শুধু তাই না শিশুদের বই, খাতা, কলম, পেন্সিল, মাঝে মাঝে খাবার বিতরণ ও ফল উৎসবও করা হয়। শুধু তাই না, মেধা বিকাশের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পরিচ্ছন্নতা শিক্ষা দেয়া হয়। শুধু তাই না, এসব পথশিশুদের নিজ খরচে মাথার চুল পর্যন্ত কেটে দেয়া হয়।

আবু জাফর জানান, পথশিশুগুলোকে তিনি নিজের সন্তানের মতো গড়ে তুলতে চান। কিন্তু আর্থিক অনটন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একার পক্ষে তো খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। কচিকাঁচা শিশুগুলোর কষ্ট তাকে ভিষণভাবে পীড়া দেয়।

বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়নে তিনি সমাজের ধনী শ্রেণির মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সহযোগিতার জন্য কেউ মোবাইল ফোনের ০১৭৩৩৪৮৪৬৯২ নম্বারটিতে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here