গোদাগাড়ীর ১৬৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

গোদাগাড়ী প্রতিনিধিঃ : রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তোলায় ১৬৫ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (প্রাথমিক) নুর-উন-নাহার রুবিনার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ এনে তার অপসারণ দাবি করেছেন স্থানীয় শিক্ষকরা শিক্ষা অফিসার। এনিয়ে শিক্ষা অফিসের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে শিক্ষকদের। শিক্ষকদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ। এদিকে, গোদাগাড়ী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে একজন থাকলেও বেতন উঠচ্ছেন দুজন। কারণ, আগের শিক্ষা কর্মকর্তা রাখী চক্রবর্তীকে গত ২৮ সেপ্টেম্বরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে, প্রজ্ঞাপনে আরো উল্লেখ থাকে বরখাস্ত থাকাকালীন সময়ে প্রচলিত বিধি মোতাবেক সকল প্রকার বেতন ভাতা উত্তোলন করতে পারবেন। সে মোতাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা রাখী চক্রবর্তী তার বেতন ভাতা গোদাগাড়ী হিসাবরক্ষণ অফিসের মাধ্যমে উত্তোলন করছেন।

অন্যদিকে, বর্তমান উপজেলা শিক্ষা অফিসার নুর-উন-নাহার রুবিনাও একই পদে বেতন ভাতা উত্তোলন করছেন।বর্তমান শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগের প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদের হলরুমে তার অপসারণ দাবি জানিয়েছে শিক্ষকরা। শিক্ষকদের এক প্রতিবাদ সভায় অবিলম্বে শিক্ষা কর্মকর্তাকে অপসারণ করা না হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়া হবে বলে জানানো হয়। পরে এই প্রতিবাদ সভা করার জন্য উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে শোকজ করেন এই শিক্ষা কর্মকর্তা। শিক্ষকদের দাবী, এই শিক্ষা কর্মকর্তা বদলির নামে ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। অফিসে কাজে আসা শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও হুমকি-ধমকি দিয়ে থাকেন শিক্ষা কর্মকর্তা। অফিসে সঠিক সময়ে না আসার কারণে শিক্ষকেরা হয়রানির শিকার হন। আর এ সমস্ত কারণে শিক্ষকদের তোপের মুখে পড়ার ভয়ে গত ৩ মাস ধরে প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সভায় উপস্থিত হননি শিক্ষা কর্মকর্তা। ১৬৫টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা সারাদিন অপেক্ষা করার পর ১৬ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। এরপর শিক্ষা কর্মকর্তা ১৭ মে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও হরিশংকরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবিয়ার রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হলে। নোটিসের বিষয়টি অন্য শিক্ষকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষকরা ২৪ মে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। মাদারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আজহার আলী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ঘুষের অভিযোগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এদিকে, অভিযোগ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নূর-উন-নাহার রুবিনার সাথে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কর্মস্থল যেখানে সেখানেই বেতন উঠায় আর আপনাকে এত কৈফিয়ত দিতে আসেনি। আমি অফিসে কীভাবে আসবো কীভাবে যাব এটা আমার ব্যাপার? যে সকল অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে তা আমার জানা নাই। ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বলেন, আপনাকে আমি এত কিছু জানাতে চাচ্ছিনা কোন কথা বলতে চাচ্ছি না। উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা নাসিমা খাতুন জানান, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নূর-উন-নাহার রুবিনা পদন্নোতি পেয়ে ২০১৮ সালে গোদাগাড়ী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। তারপর থেকে প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ৯ ই জানুয়ারি ২০১৮, ৩৮.০০.০০০০.০০১.১২.০৪৭.১৭-৪৯০ স্মারকের ভিত্তিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে সকল প্রকার বেতন ভাতাদী উত্তোলন করছেন।

একই পদে বেতন উত্তোলন দু’জনের এই প্রশ্নের উত্তরে হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা বলেন, এক পদে দুজনের বেতন ভাতা উত্তোলন কি ভাবে করে আমার জানা নাই। তবে বর্তমান শিক্ষা কর্মকর্তা নূর-উন- নাহার রুবিনা আগে এখানে সহকারী শিক্ষা অফিসার পদে কর্মরত ছিলেন সে সময় বেতন ভাতা উত্তোলন করতেন এবং মন্ত্রণালয়ের ৯ জানুয়ারি স্বারক নং -৩৮.০০.০০০০.০০১.১২.০৪৭.১৭-৪৯০ চিঠির ভিত্তিতে আমরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে বেতনের বিল তাকে দিয়ে আসছি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শিমুল আকতার বলেন, আমি সবে মাত্র যোগদান করেছি বিস্তারিত কিছু জানা নাই। একই পদে দুজন বেতন উত্তোলন করছে এমন কিছু আমার জানা নাই। তবে যদি একই পদে দুজন বেতন উত্তোলন করে তবে হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here