ঈদের আগে পুড়ল ময়মনসিংহের হকার্স মার্কেট

ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ  ময়মনসিংহ শহরের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা গাঙ্গিনার পাড়ের হকার্স মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনা কমপক্ষে দেড় শতাধিক দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে শতকোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ময়মনসিংহ, মুক্তাগাছা, ত্রিশাল থেকে ফায়ার সার্ভিসের নয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে পৌনে তিন ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঈদের মাত্র দিন দশেক আগে ভরা মৌসুমে এই অগ্নিকাণ্ডে বহু দোকান পুড়ে যাওয়ায় পথে বসার উপক্রম হয়েছে দোকান মালিকদের। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে ওই এলাকা।

গভীর রাত পর্যন্ত দোকানদারি করে অনেকেই সেহরির সময় দোকান বন্ধ করে ঘুমাতে যান। সকালে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে এসে দেখেন দোকানে আগুনি জ্বলছে। আগুন লাগার খবর পেয়ে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা ও তাদের অনেকের পরিবারের সদস্যরা ছুটে আসেন। এ সময় ব্যবসায়ীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

হকার্স মার্কেট মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, মার্কেটটির ভেতর ১৫০টির মতো দোকান ছিল। এগুলোর মধ্যে বেশির ভাগ কাপড় ও জুতার দোকান। এ ছাড়াও ছিল কয়েকটি প্রসাধন সামগ্রীর দোকান। মার্কেটের গলির ভেতর ছিল বেশি কিছু মেশিনারি দোকান ও দুটি পেট্রলের দোকান।

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক শহিদুল হক জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাতটার দিকে মার্কেট থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে সকাল সোয়া সাতটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট এসে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। কিন্তু আগুনের ভয়াবহতায় আশপাশের উপজেলা থেকেও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়। মোট নয়টি ইউনিটের চেষ্টায় সকাল নয়টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

তিনি জানান, আশেপাশে পানির উৎস না থাকায় তাদের কাজে সমস্যা হয়েছে। সেই সঙ্গে সংকীর্ণ মার্কেটে ঠাসাঠাসি করে থাকা পণ্যে বোঝাই দোকানগুলোর আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর কর্মীদের।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মহসীন উদ্দিন বলেন, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের পর আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দিব। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেই এ ব্যবস্থা করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here