আজও রাস্তায় শিক্ষার্থীরা, পরীক্ষা করছে লাইসেন্স

নিজস্ব প্রতিনিধিঃনিরাপদ সড়কের দাবিতে আজও বৃষ্টির মধ্যে রাজধানীর স্থানে অবস্থান নিয়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থীরা শনিবার সকাল থেকে বৃষ্টির মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালকদের সনদ পরীক্ষা করছে। আজ শনিবার দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা রাজধানীর মিরপুর-১০, উত্তরা, ফার্মগেট, শাহবাগ, সায়েন্সল্যাব ও আসাগেটে অবস্থান নিয়ে গাড়ির কাগজপত্র ও চালকের লাইসেন্স চেক করছে।

রাজধানীর ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের শাহবাগ জোনের সহকারী কমিশনার সাহেদ আহমেদ বলেন, সকাল ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা শাহবাগের সড়কে অবস্থান নিয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন যানবাহনের কাগজপত্র ও চালকদের লাইসেন্স চেক করছে। কোনো সমস্যা নেই। তবে রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা কম। মিরপুরের রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন শত শত শিক্ষার্থী। ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগানে কম্পিত হচ্ছে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচক্কর। ফলে কোনো দিক থেকে কোনো ধরনের যানবহন চলাচল করতে পারছে না।

এদিকে উত্তরা হাউজবিল্ডিং ও জসীমউদ্দীনের সামনের সড়কের উভয় পাশে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। ডিএমপির ট্রাফিক(উত্তর) উত্তরা জোনের এডিসি হুমায়রা পারভিন বলেন, রাস্তায় চলাচল বন্ধ। জসীমউদ্দীন ও হাউজ বিল্ডিংয়ের সড়ক অবরোধ করায় কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন মীর জানান, মোহাম্মদপুর এলাকার শিক্ষার্থীরা আসাদগেটে অবস্থান নিয়েছে। সেখানে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর কিছু না ঘটে সেজন্য পুলিশ সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের তেজগাঁও জোনের এডিসি সাত্যকি কবিরাজ ঝুলন বলেন, ফার্মগেটে কিছু শিক্ষার্থী অবস্থান নেয়ায় যান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। পুলিশ সদস্যরাও পাশেই অবস্থান নিয়েছে। অপ্রীতিকর কিছু যাতে না ঘটে তা দেখা হচ্ছে।

গত ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলার বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের বাসের চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়। এ ছাড়া আহত হয় বেশ কয়েকজন। নিহত শিক্ষার্থীরা হলো শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব। এর পর থেকে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে। তারা যানবাহন ও চালকের লাইসেন্স তল্লাশি করছে। কোনো অনিয়ম পেলে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশের কাছে মামলা করার জন্য। তারা ‘নিরাপদ সড়ক চাই’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ ইত্যাদি স্লোগান দিচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে এরই মধ্যে ২০ লাখ টাকার অনুদান দিয়েছেন। নৌমন্ত্রী শাজাহান খানও প্রত্যেক্য পরিবারকে ৫ লাখ টাকা দিয়েছেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ৯টি দাবি করেছে। তাদের সব দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও বলেছেন, শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। এখন তাদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার উচিত বলে জানান তিনি। এরই মধ্যে গণপরিবহন মালিক-শ্রমিক সমিতির নেতারা বলেছেন, নিরাপদ বোধ না করা পর্যন্ত তারা রাস্তায় বাস নামাবেন না। ফলে অঘোষিত ধর্মঘট চলছে। গতকাল থেকেই আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here