ইতিহাসের এই দিনে

আজ (শরিবার) ০৪ আগস্ট’২০১৮

১৭৯২ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে খ্যাতনামা বৃটিশ কবি পি বি শেলি জন্মগ্রহণ করেন। শিশু বয়সেই সাহিত্যের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল এবং এ ক্ষেত্রে তিনি তার যোগ্যতা ও প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। বৃটিশ এই কবি ভালোবাসা, বন্ধুত্ব ও স্বাধীনতার প্রতি ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল এবং এ কারণে তিনি ফরাসী বিপ্লবের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং ঐ বিপ্লবে শরীক হন। পি বি শেলি ১৮২২ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ৩০ বছর বয়সে ভূ-মধ্যসাগরে এক নৌকা ডুবিতে মারা যান। ‘নিঃসঙ্গ আত্মা’ ও ‘মুক্তির বন্ধন’ তার সাহিত্য কর্মের অন্যতম নিদর্শন।

১৯০৬ সালের এই দিনে ইরানে আলেমদের নেতৃত্বে গণ-আন্দোলনের মুখে তৎকালীন শাসক মুজাফফার উদ্দীন শাহ কাজার সংবিধান প্রণয়নের নির্দেশ জারি করতে বাধ্য হন। স্বৈরতন্ত্র, অবিচার ও ইরানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে বিদেশী হস্তক্ষেপের অবসান ঘটানোই ছিল জনগণের সাংবিধানিক আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য। তাছাড়া কাজার শাসকদের দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি জনগণের কাছে স্পষ্ট হওয়ার কারণে গণআন্দোলন ও প্রতিবাদ আরো জোরদার হয়ে ওঠে। আন্দোলন চলাকালে সরকার অনেক মানুষকে হত্যা করে। গণআন্দোলন নির্মূলের জন্য সরকারের দমনমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর জন্য আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আব্দুল্লাহ বেহ্ব্জ€Œবাহনি ও আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোহাম্মদ তাবাতাবাঈর মত আলেমদের নেতৃত্বে রাজধানী তেহরানের একদল জনতা তেহরানের অদূরে রেই ও কোম শহরে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। এভাবে গণ-আন্দোলন জোরদার হওয়ায় তৎকালীন শাসক মোজাফফার উদ্দীন শাহ কাজার ভীত হয়ে পড়ে এবং সংবিধান প্রণয়ণের ব্যাপারে আলেম ও জনতার দাবী মেনে নিতে বাধ্য হয়। এ লক্ষ্যে প্রথমে জাতীয় পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং এই পরিষদ সংবিধান প্রণয়ন করে।

১৯৬৪ সালের এই দিনে দক্ষিণ চীন সাগরে উত্তর ভিয়েতনাম ও মার্কিন যুদ্ধ জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ হয় এবং এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হয়। এ ঘটনাকে অজুহাত করে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি উত্তর ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। এর আগে ওয়াশিংটন উত্তর ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দক্ষিণ ভিয়েতনামকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করলেও মার্কিন সৈন্যরা সরাসরি এ যুদ্ধে অংশ নেয়া থেকে বিরত ছিল। কিন্তু দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ পরাজিত হলে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ভিয়েতনামে তার সৈন্য সংখ্যা বাড়াতে থাকে এবং সেখান থেকেই তারা উত্তর ভিয়েতনামের জনগণ ও বিদ্রোহীদের উপর হামলা চালানো শুরু করে। কিন্তু উত্তর ভিয়েতনামের জনতা ও সৈন্যদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে শেষ পর্যন্ত মার্কিন সৈন্যরা ১৯৭৫ সালে পরাজিত হয় এবং ভিয়েতনাম ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়।

১৯৮৮ সালের এই দিনে পাকিস্তানের সংগ্রামী ব্যক্তিত্ব ও খ্যাতনামা আলেম আল্লামা সাইয়্যেদ আরেফ হোসেন হোসেইনী পেশোয়ার শহরে উগ্রপন্থী ও সন্ত্রাসীদের হামলায় শাহাদতবরণ করেন। তিনি ধর্মীয় পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন এবং শৈশবকাল থেকেই ধর্মীয় বিষয়ে লেখাপড়া শুরু করেন। ধর্ম বিষয়ে আরো গভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য তিনি প্রথমে ইরাকে যান এবং এরপর ইরান সফরে আসেন। তিনি ইরাকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ইমাম খোমেনী(র:) ও তার বিপ্লবী আদর্শের সাথে পরিচিত হন। এরপর তিনি যখন ইরানে আসেন তখন স্বৈরাচারী পাহলভী সরকারের বিরুদ্ধে গনআন্দোলন তুঙ্গে এবং তিনিও এ আন্দোলনে শরীক হন। এ কারণে রেজা শাহ তাকে জোরপূর্বক পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেয়। শহীদ আরেফ হোসেন হোসেইনী পাকিস্তানে ধর্মীয় শিক্ষা দেয়ার কাজ শুরু করেন। তিনি পাকিস্তানে শিয়া ও সুন্নী মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টির জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালান। কিন্তু তার এ প্রচেষ্টাকে অনেকে ভালো চোখে দেখেনি এবং শেষ পর্যন্ত তাকে শহীদ করা হয়।

হিজরী ৩৯৬ সালের এই দিনে আফগানিস্তানের খ্যাতনামা ইসলামী ব্যক্তিত্ব ও কবি খাজা আব্দুন নাসের পশ্চিম আফগানিস্তানের হেরাত শহরে জন্মগ্রহণ করেন। আরবী ও ফার্সী ভাষায় লেখা তার বেশ কিছু মূল্যবান গ্রন্থ রয়েছে। এর মধ্যে মোনাজাত নামা, মোহাব্বাত নামা এবং যদ আর অরেফিনের নাম উল্লেখ করা যায়।

১৯০৪ সালের এই দিনে ‘নাসিমে শুমল’ নামে ইরানের প্রথম দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। দৈনিকটিতে বেশীর ভাগই হাস্য রসাত্বক, বিনোদন ও সমালোচনা ধর্মী লেখা প্রকাশিত হত। দৈনিকটিতে তৎকালীন অত্যাচারী শাসক মোহাম্মদ আলী শাহ কাজারকেও ভর্ৎসনা করা হতো।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান ইংরেজ কবি পিবি শেলীর জন্ম (১৭৯২)
লর্ড ওয়ানটেজের ব্রিটিশ রেডক্রস সোসাইটি প্রতিষ্ঠা (১৮৭০)
জার্মানির বেলজিয়াম দখল (১৯১৪)
জার্মানির বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের যুদ্ধ ঘোষণা (১৯১৪)
ভারতে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া এ্যাক্ট (১৯৩৫)
রাজকীয় অনুমোদন লাভ (১৯৩৫)
জেনারেল ফ্রাঙ্কোর নিজেকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী ও সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ঘোষণা (১৯৩৭)
প্রেসিডেন্ট ইদি আমিন কর্তৃক ৪০ হাজার এশিয়াবাসীকে উগান্ডা থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ (১৯৭২)
ইসরাইল এবং পিএলও গাজা ভূখ- ও পশ্চিম তীরের জেরিকোয় সীমিত অধিকার সম্পর্কিত চুক্তি স্বাক্ষর (১৯৯৩)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here