টোল প্লাজায় ভাঙচুর-মারধরের অভিযোগ, এএসপি প্রত্যাহার

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের মীরসরাই সার্কেলের এএসপি মশিয়ার রহমান খোকেনের বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় নগরীর কর্ণফুলী টোল প্লাজায় ভাঙচুর ও কর্মচারী এবং ইলেট্রিক ইঞ্জিনিয়ারকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (০৩ আগস্ট)  দুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় তাকে তাৎক্ষনিকভাবে ক্লোজ করা হয়েছে এবং পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এএসপি মশিয়ার রহমান খোকনকে ক্লোজ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের এডিশনাল এসপি (সদর) রেজাউল মাসুদ। তিনি জানান, মশিয়ারকে ইতোমধ্যে রাজশাহীতে বদলি করা হয়েছিল।

অভিযোগে জানা গেছে, এএসপি মশিয়ার আজ দুপুরে চট্টগ্রাম থেকে তার নিজের ব্যবহার করা অফিসের গাড়ি নিয়ে বান্দরবান যাচ্ছিল। বেলা পৌনে ১২টার দিকে তিনি কর্ণফুলি সেতু পার হয়ে টোল প্লাজার সামনে গেলে সেখানে আগে থেকে টোল পরিশোধ করার কারণে ৪/৫টি গাড়ির জ্যাম লেগে যায়। এতে আটকা পড়ে মশিয়ারের গাড়ি। পরে তিনি গাড়ি থেকে নেমে লাঠি হাতে টোলপ্লাজায় গিয়ে লাথি এবং লাঠি দিয়ে কাঁচের গ্লাস ভেঙ্গে টোল অফিসে প্রবেশ করে কর্মচারী কর্মকর্তাদের গালাগাল ও তাদের মারধর করেন।

কর্ণফুলি টোল প্লাজার ইনচার্জ অপূর্ব সাহা বলেন, বেলা পৌনে ১২টার একটু আগে হঠাৎ করে এএসপি সাহেব কোনও কিছু না বলেই কাঁচের দরজায় লাথি দিয়ে ভেঙ্গে টোল অফিসে প্রবেশ করেই গালাগাল এবং কর্মচারীকে মারধর করতে থাকেন। এসময় কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা নাকি যানজট সৃষ্টি করে রেখেছি। অথচ মাত্র ৩/৪টি গাড়ি তখন টোল পরিশোধ করার জন্য লাইনে ছিল।

অপূর্ব আরও বলেন, এএসপি সাহেব তখন মাতাল অবস্থায় ছিলেন। তিনি লাঠি দিয়ে অফিসের সমস্ত কাঁচ ভাঙচুর করেন। বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে আমাদের গার্ডকে প্রহার এবং ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার সাদ্দাম হোসেনকে থাপ্পর মারেন। এতে তার কান ফেটে যায়।

এদিকে খবর নিয়ে জানা গেছে, এএসপি মশিয়ারকে কিছুদিন আগে রাজশাহীতে বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে চট্টগ্রামেই অবস্থান করতে থাকেন এবং সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে ব্যাক্তিগত কাজে যত্রতত্র ঘুরে বেড়াতেন।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা বলেন, মশিয়ার রহমান মিরসরাই থেকে কেন কর্ণফুলী আসছেন বিষয়টি জানি না। তিনি আমাদের জানান নি। তার ব্যাপারে পুলিশ সদর দফতরে জানানো হয়েছে। সদর দফতর ব্যবস্থা নেবে। তবে অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তাৎক্ষনিকভাবে তাকে অব্যাহতি দিয়ে পু্লিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, মীরসরাইয়ে আসার আগে এএসপি মশিয়ার ঢাকায় এক ট্রাফিক সার্জেন্টকে মাতালবস্থায় মারধর করার অভিযোগে বেশ কিছুদিন সান্সপেন্ড ছিলেন।

এদিকে, টোল প্লাজায় হামলা চালিয়ে কাঁচ ভাঙ্গতে গিয়ে মশিয়ারের হাত কেটে যায়। এতে তিনি কিছুটা আহত হন। এ অবস্থায় তিনি বান্দরবান যাওয়ার সময় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিদের্শে চন্দনাইশ থানা পুলিশ তাকে আটকে দেন এবং সেখান থেকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইনে পাঠিয়ে দেন।

হামলা সময় তিনি তার ফেসবুকে ওয়ালে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল দিয়ে কয়েকটি পোস্ট দেন এবং লেখেন, ‘মরে যাচ্ছি তোরা মাফ করে দিছ।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here