গান গেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ পুলিশ কর্মকর্তার

 নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে আন্দোলন করছে কুর্মিটোলায় বাসচাপায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর সহপাঠীরা। বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) এমনই একটি পয়েন্ট গান গেয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আসো, আমরা সবাই মিলে গান গাই।’ এরপরই গাইতে শুরু করেন_ ‘গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু মুসলমান, মিলিয়া বাউলা গান আর মুর্শিদি গাইতাম, আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম।’

পুলিশের এই কর্মকর্তার কোমড়ে পিস্তল, হাতে ওয়ারলেস, গায়ে বুলেট প্রুফ জ্যাকেট সবই ছিলে। কিন্তু, বিক্ষুব্ধ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে কৌশল হিসেবেই তিনি বহুল পরিচিত ও জনপ্রিয় গানটি ধরলেন। পুলিশ কর্মকর্তার এ কৌশল কাজে দিয়েছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বেশ আনন্দেই গানে সুর মেলায়।

বিমানবন্দর সড়কে সম্প্রতি বাসের চাপায় পিষ্ট হয়ে শহীদ রমিজউদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিমের করুণ মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা গত কয়েকদিন যাবত রাজপথে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে।

পরিবহন খাতে বিরাজমান বিশৃঙ্খল অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে দাবি দাওয়া আদায়ে কর্মসূচি পালন করছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে তারা ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকায় নেমে সফলতা দেখাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কোথাও কোথাও পুলিশ সদস্যেদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা পুলিশ সদস্যদের শান্ত থাকার
নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান।

প্রসঙ্গত, রাজধানীর কুর্মিটোলায় বাসচাপায় নিহত দিয়া খানম মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থামিয়ে বাড়ি ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশ্বাস দিয়েছেন, আমার মেয়ে হত্যার বিচার পাবো। তিনি আমাকে সান্ত্বনা দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন এই ঘটনার দোষীদের কঠোর শাস্তি হবে। আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের আমি বলবো, বাবারা তোমরা যারা রাস্তায় কষ্ট করছো, তোমরা ঘরে ফিরে যাও।’

বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথার বলার সময় জাহাঙ্গীর আলম এ আহ্বান জানান।

আজ বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি গাড়ি এসে মিমের মা রোকসানা বেগম, বাবা জাহাঙ্গীর আলম, বড় বোন রোকেয়া খানম রিয়া ও ছোট ভাই পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়াদুল ইসলাম আরাফাতকে নিয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যান একই দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী আবদুল করিমের পরিবারের সদস্যরাও। আবদুল করিমের বোনও একই আহ্বান জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি।

সেখানে প্রধানমন্ত্রী শোকাহত দুই পরিবারকে সান্ত্বনা দেন ও প্রত্যেক পরিবারকে ২০ লাখ টাকার পারিবারিক সঞ্চয়পত্র অনুদান দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও।

২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএস বাস স্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসের চালকের রেষারেষির ফলে একটি বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। একই ঘটনায় আহত হয় ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী।

নিহত দুই শিক্ষার্থী হলো- শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম রাজিব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here