ডিমলায় ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবা সহ গ্রেফতার দুই

ডিমলা  প্রতিনিধি:নীলফামারীর ডিমলা থানার রাইটার হিসাবে পরিচিত রাসেল আলী ওরফে রনি(২৮) ও তার পার্টনার অপর মাদক ব্যবসায়ী আব্দুল রাজ্জাক(৩০) ইয়াবা সহ গ্রেফতার হয়েছে। বুধবার রাতে ডিমলা উপজেলা হাসপাতাল এলাকায় মাদক বিক্রিকালে নীলফামারী ডিবি পুলিশ অভিযান চলিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ায় চাঞ্চল্যের সৃস্টি করেছে। অনেকে মন্তব্য করে জানায় ডিমলা থানার ভেতরে থেকেই মাদক ব্যবসায় রনি গোপনে এ কাজ করতো।
ঘটনাটি নিশ্চিত করে নীলফামারী ডিবি পুলিশের ওসি আফজালুল ইসলাম জানান গোপন সংবাদে নীলফামারী পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেনের নির্দেশে অভিযান পরিচালনা করে ডিমলা থানার রাইটার বলে এলাকায় পরিচিত রাসেল আলী ওরফে রনি ও তার পার্টনার আব্দুল রাজ্জাকে ১০ পিস ইয়াবা সহ গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্র মতে রাসেল আলী ওরফে রনি ডিমলা সদর ইউনিয়ন বাবুরহাট গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে। রনি মামলার এজাহার সংক্রান্ত লিখনি ও মামলার নথির সারমর্ম সুন্দর করে লেখার কারনে ডিমলা থানা পুলিশের কাছে বিশ্বাসী হয়ে উঠেছিল। ফলে সকল মামলা নথি ল্যাবটপের টাইপ ও তার প্রিন্ট করে থানায় জমা দিত। ফলে ডিমলা থানার ভেতরে থাকায় পুলিশের কাছে বিশ্বাসী হয়ে উঠাকে পুঁজি করে গোপনে ইয়াবা ব্যবসা করে আসছিল বলে ডিবি পুলিশ প্রমান পেয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
অপরদিকে রনির মাদক ব্যবসার পার্টনার আব্দুর রাজ্জাক উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের আকাশকুড়ি কলোনীপাড়া গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে। ডিবি পুলিশের অভিযানের সময় রনির কাছে ৭পিস ও তার পার্টনার আব্দুল রাজ্জাকের কাছে ৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।
এদিকে ডিমলা থানার রাইটার (বিভিন্ন মামলার ডকেট টাইপকারী) রাসেল আলী রনি গ্রেফতার হওয়ার পর ডিমলা থানার বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর মাদকের মামলার নথি পাওয়া যাচ্ছে না। যে নথি গুলোর মাধ্যমে রাইটার রাসেল আলী ওরফে রনি তার নিজস্ব ল্যাবটপে মামলাগুলো তদন্ত প্রতিবেদন টাইপ করে ডিমলা থানায় জমা দেয়ার কথা ছিল। অভিযোগ উঠেছে রনি গ্রেফতারের খবরে তার বাড়ির লোকজন গোপনে সে সব মামলার নথি ও রনির ল্যাপটপ গায়েব করে দিয়েছে। নির্ভরযোগ্য সুত্র মতে ওই সব মাদকের মামলার নথিকে জিম্মি করে রনির পরিবারের লোকজন রনিকে ছাড়িয়ে আনার পায়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে শুধু ডিমলা থানার নয় জেলার জলঢাকা থানার বেশ কিছু মামলার নথিও রনির কাছে রয়েছে। পুলিশ এখন ওই সকল মামলার নথি উদ্ধারে চেস্টা করছে।
ডিমলা থানার ওসি মফিজ উদ্দিন শেখ বলেন, রনিকে ভাল ছেলে হিসাবে জানতাম কিন্তু সে যে মাদক ব্যবসা করত বুঝতে পারিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here