মিরপুর রণক্ষেত্র, পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষ, গুলি

নিজস্ব প্রতিনিধি : বাসচাপায় দুই কলেজশিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় রাজধানীর মিরপুর পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এসময় নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় পুলিশ। গুলিও ছোঁড়া হয়। হামলায় পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয় স্থানীয় যুবলীগ কর্মীরা।

বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের পুলিশ সরাতে গেলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে। বিকাল ৪টার দিকে মিরপুর-১৩ ও ১৪ নম্বরের মধ্যে বিআরটিএ থেকে কাফরুল থানা হয়ে পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের গেইট পর্যন্ত সড়কে এই ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ- পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় যুবলীগের কর্মীরাও তাদের ওপর হামলা করে। সংঘর্ষের পর শিক্ষার্থীরা মিরপুর ১০ নম্বরের দিকে সরে যায়।

গত রবিবার (২৯ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর হোটেল র‍্যাডিসনের বিপরীত পাশের জিল্লুর রহমান উড়ালসড়কের ঢালের সামনের রাস্তার ওপর জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী আবদুল করিম ওরফে রাজীব (১৭) ও দিয়া খানম ওরফে মীম (১৬) নিহত হয়।

ওই দিন বিকেলেই রাজধানীর দু-একটি পয়েন্টে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। পরদিন সোমবার নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহাজান খান গণমাধ্যমের সামনে এ নিয়ে হাস্যরসাত্মক মন্তব্য করলে ফুঁসে ওঠে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা।

এরই ধারাবাহিকতায় নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতসহ ৯ দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার টানা পঞ্চম দিনের মতো বিক্ষোভ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

এরই মধ্যে বুধবার জাবালে নূর পরিবহনের ঘাতক বাসটির চালক মাসুম বিল্লাহকে ৭ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে বাতিল করা হয়েছে জাবালে নূর পরিবহনের রুট পারমিট ও নিবন্ধন। বৃহস্পতিবার জাবালে নূরের মালিক শাহাদৎ হোসেনকেও ৭ দিনের রিমান্ডে দিয়েছে আদালত। বুধবার বিকেলে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব সদস্যরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here