শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল খুলনা

খুলনা প্রতিনিধি:রাজধানীতে আন্দোলনরত ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদ এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে খুলনা।

মহানগরীর শিববাড়ী মোড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সমাবেশ করছে। তাদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যাচ্ছে। এতে বিভিন্ন স্লোগান লেখা রয়েছে।

বেলা ১টা থেকে কর্মসূচি শুরু হলেও শিক্ষার্থীরা বেলা ১১টা থেকে শিববাড়ি মোড়ে অবস্থান নিতে শুরু করে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে শিববাড়ির মোড়ের আশেপাশের সব সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। খুলনায় শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ-ছবি-মানজারুল ইসলামশিক্ষার্থীরা সরকারের কাছে নিরাপদ সড়কের স্বার্থে ১৫ দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো-

১. বেপোরোয়া ড্রাইভারকে ফাঁসি দিতে হবে এবং এই শাস্তি সংবিধানে সংযোজন করতে হবে

২. শিক্ষার্থীদের চলাচলে বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা নিতে হবে

৩. প্রত্যেক সড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাতে স্পিড ব্রেকার দিতে হবে

৪. সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্র-ছাত্রীদের দায়ভার সরকারকে নিতে হবে।

৫. শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে থামিয়ে তাদের বাসে তুলতে হবে।

৬. শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

৭. ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল বন্ধ ও লাইসেন্স ছাড়া চালকরা গাড়ি চালাতে পারবে না

৮. বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া যাবে না

৯. নির্দিষ্ট বয়সসীমা ছাড়া ড্রাইভার হিসেবে গাড়ি চালানো যাবে না।

১০. জেব্রা ক্রসিং দিতে হবে, ট্রাফিক পুলিশের সচেতনতা, কাজের প্রতি দায়িত্ব বাড়াতে হবে ১১. পরিবহনে যৌন হয়রানি কমাতে হবে এবং এটিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে শাস্তি দিতে হবে।

১২. গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায়, স্কুল, কলেজ ও হাসপাতালের সামনেও সব ধরনের গাড়ির স্পিডলিমিট থাকতে হবে।

১৩. নির্দিষ্ট সংখ্যক লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইজিবাইক ছাড়া খুলনার রাস্তায় ইজিবাইক চলবে না

১৪. যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্ক করা যাবে না

১৫. উশৃঙ্খখলভাবে মোটরসাইকেল আরোহীদের জরিমানাসহ শাস্তি দিতে হবে।

খুলনায় শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ-ছবি-মানজারুল ইসলামশিক্ষার্থী ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, সড়কে একের পর এক মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। রাস্তা নামলেই ভয়ে থাকতে হয়। এভাবে চলতে পারে না। নিরাপদ সড়কের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলতে থাকবে। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি),খুলনা মেডিকেল কলেজ, সরকারি বিএল কলেজ, আযম খান সরকারি কমার্স কলেজ, সরকারি সিটি কলেজ, নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, নর্দান ইউনিভার্সিটি, সরকারি মহিলা কলেজ, পাইনিয়র কলেজ, খুলনা পাবলিক কলেজ, সরকারি সুন্দরবন কলেজ, খুলনা পলিটেকনিক কলেজ, সাউথ হেরাল্ড ইংলিশ স্কুল, শহীদ মডেল স্কুলসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের হাজার হাজার শিক্ষার্থী এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের চেষ্টা করে দাঁড়াতে পারেনি শিক্ষার্থীরা। প্রথমে ছাত্রলীগ এবং পরে পুলিশ মিলে তাদের দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি। এসময় পুলিশ কয়েক শিক্ষার্থীদের কাছে থাকা নিরাপদ সড়কের দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড ছিনিয়ে নেয়। বাগেরহাটের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা সকাল ১০টা থেকে প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়াতে না পেরে অনেকে বাসযোগে খুলনাতে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেন। খুলনার বিভিন্ন পয়েন্টে আন্দোলনে যোগ দিতে বাগেরহাট থেকে আসা শিক্ষার্থীরা একথা জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here