আসাম থেকে বাঙালি বিতাড়ন, বাংলাদেশকে কঠোর হতে হবে

সম্পাদকীয়

বাংলাদেশের উত্তর-পূবর্ সীমান্তবতীর্ ভারতের আসামে রাজ্য সরকারের প্রকাশিত ‘জাতীয় নাগরিক পঞ্জীকরণ’ বা ‘নাগরিক’ তালিকার চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। আসামের জাতীয় নাগরিক নিবন্ধনের (এনআরসি) তালিকা গত সোমবার প্রকাশ করে। আসামে বসবাসকারী ৩ কোটি ২৯ লাখ মানুষ আবেদন করেছিলেন এনআরসি তালিকায় নিজেদের নাম তুলতে। ওই তালিকায় ঠাঁই হয়েছে ২ কোটি ৮৯ লাখ মানুষের। অথার্ৎ, আসামে বসবাসকারী ৪০ থেকে ৪১ লাখ মানুষ ‘ভারতীয়’ হিসেবে ওই তালিকায় নাম তুলতে পারেননি। চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশকারী এনআরসির কো-অেিডর্নটর অবশ্য বলেছেন, ‘এ তালিকা শুধু খসড়া, এটা চূড়ান্ত কিছু নয়। যারা তালিকায় ঠাঁই পাননি, তারা আবেদন করতে বা আপত্তি জানাতে পারবেন।’ তালিকায় নামের ব্যাপারে দাবি ও আপত্তির কাযর্ক্রম আগামি ৩০ আগস্ট থেকে শুরু হবে এবং ২৮ সেপ্টেম্বর পযর্ন্ত চলবে।
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য, আসাম ভারতের একমাত্র রাজ্য হিসেবে এর নাগরিকদের নাম নিবন্ধন করছে। অবৈধ অভিবাসী ভোট রাজ্যে বড় ভূমিকা পালন করে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে নাগরিকদের নামের তালিকা করা হচ্ছে। এনআরসি নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। বিশেষ করে ভাষিক ও ধমীর্য় সংখ্যালঘুরা হয়রানির অভিযোগে সরব। এমন পরিস্থিতিতে গোটা রাজ্যেই জারি করা হয়েছে বাড়তি সতকর্তা। ৬টি জেলায় জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। ভারতের রাজ্য আসাম থেকে বাঙালি বিতাড়নের পরিকল্পনা দীঘির্দনের। সেই বিতাড়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে রাজ্য সরকার। এটা কোনোভাবেই সমথর্নযোগ্য নয়। বাংলাদেশের উত্তর-পূবর্ সীমান্তবতীর্ ভারতের আসামে রাজ্য সরকারের প্রকাশিত ‘জাতীয় নাগরিক পঞ্জীকরণ’ বা ‘নাগরিক’ তালিকার চূড়ান্ত খসড়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ঝেড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এটাকে ‘বাঙালি খেদাও’ পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন। সংকট নিরসনে পশ্চিমবঙ্গ সরকার আসামে প্রতিনিধি দল পাঠাবে জানিয়ে মমতা বলেন, দরকার হলে আমি যাব আসাম। সমস্ত নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও এই ৪০ লাখ মানুষ যাবে কোথায়, এটা কেন্দ্রের ভাবা উচিত। যারা এ দেশের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও শরণাথীর্ হয়ে গেল, আগামি ২০১৯ সালের জাতীয় নিবার্চন সামনে রেখে এই বাসিন্দাদের নাগরিক তালিকা থেকে বাদ দিয়ে তাদের ভোটবঞ্চিত করার পেছনে আসামের বিজেপি সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে করে তৃণমূল কংগ্রেস। আমরাও এর সঙ্গে সহমত প্রকাশ করছি।
আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করে আসছি, অতীতে আসামে ভাষা ও ধমীর্য় সাম্প্রদায়িকতা প্রসূত নাগরিকত্ব ইস্যু উঠেছে ততবারই সীমানা পার করে বাংলাদেশে পাঠানোর পাঁয়তারা করা হয়েছে। এবার এর ব্যত্যয় ঘটছে না। বাংলাদেশের উচিত হবে এ ব্যাপারে কড়া হুঁশিয়ারি জানানো। বাংলাদেশ যদি কঠোর না হয় তা হলে বিতাড়নের ঘটনা ঘটবেই। এ কথা সত্য ৪৭-এর দেশভাগের সময় ভারত পাকিস্তান ও পূবর্বঙ্গে বাঙালিরা যে যার মতো করে চলে গিয়ে বসবাস করতে শুরু করেছে এবং নাগরিকত্বও পেয়েছে। বস্তুত আসাম ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গে বাঙালির অবস্থান এক ঐতিহাসিক বাস্তবতা। সেই বাস্তবতাকে আসাম অস্বীকার করছে। ১৯৭১ সালের আগে থেকে যারা আসামে বসবাস করছেন কেবল তারাই এই তালিকায় স্থান পেয়েছে। আমাদের প্রশ্ন হলো, গত ৪৭ বছরে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষ এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়নি কেন। এত বছর নাগরিক হিসেবে বসবাসের তারা কীভাবে তালিকার বাইরে থাকে। এটি আসাম থেকে বাঙালি বিতাড়নের একটি নীল নকশা। এটা ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া হলো। এটা দুভার্গ্যজনক পদক্ষেপ। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারকে দ্রুত কাযর্কর পদক্ষেপ নিতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here