অবরুদ্ধ শাহবাগে নৌমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বিমানবন্দর সড়কে বাসাচাপায় দুই কলেজশিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় বুধবার চতুর্থ দিনের মতো আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। এ আন্দোলনে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা শাহবাগ। আশপাশের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এখানে অবস্থান নেয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে মৎস্যভবন, এলিফ্যান্ট রোড, টিএসসি ও কারওয়ান বাজারে কোনো যানচলাচল করতে দিচ্ছে না আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তবে পিজি, বারডেম এবং ঢাকা মেডিকেলের দিকে যেতে চাওয়া রোগী বা রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, গাড়ি, রিকশা যেতে বাধা দিচ্ছে না।

দুপুরে শাহবাগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের বক্তব্যে তার পদত্যাগ চেয়ে কুশপুত্তলিকা দাহ করে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ছাত্র-ছাত্রীর পাশাপাশি অনেক অভিভাবকও অংশ নেন।

তাদের মধ্যে একজন আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, অন্য শিক্ষার্থীরা এ আন্দোলনে থাকুক বা না থাকুক অথবা তারা যদি বাড়ি ফিরেও যায় তবুও আমি এ আন্দোলনে থাকব। দোষীদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আমি এ আন্দোলনে থাকব। শিক্ষার্থীরা তোমাদের ভয় নেই আমারা অভিভাবকরাও তোমাদের সঙ্গে আছি।

আন্দোলনে অংশ নেয়া বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের শিক্ষার্থী আয়মান ফারাবি বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত না করা পর্যন্ত জাবালে নূর পরিবহনের ধাক্কায় দুই কলেজশিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব। সড়ক দুর্ঘটনায় আমাদের যে ভাই-বোনরা মারা গেছে তাদের মৃত্যুর পরও যারা অট্টহাসে তাদেরও বিচার চাই।

অন্যদিকে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে উত্তরার হাউস বিল্ডিং এবং জসীমউদ্দীন মোড়ে অবস্থান নিয়েছে উত্তরা ইউনিভার্সিটি, মাইলস্টোন কলেজ, স্কলাস্টিকা, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটিসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিমানবন্দর উত্তরা রোডে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া মতিঝিল শাপলা চত্বরে নটরডেম কলেজ, মতিঝিল মডেল ও আইডিয়ালের স্কুলের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় ব্যারিকেট দিয়ে অবরোধ করে।

সকাল ৯টা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া ও রায়েরবাগে সড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সকাল সোয়া ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত রায়েরবাগ স্ট্যান্ডে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। শনির আখড়া ওভারপাসের নিচেও অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থীরা। কোনো ধরনের গাড়ি যেতে দিচ্ছেন না তারা।

উল্লেখ্য, গত রবিবার (২৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএস বাসস্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। একই ঘটনায় আহত হন আরও ১০/১৫ শিক্ষার্থী।

নিহত দুই শিক্ষার্থী হলেন- শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম রাজিব।

ওই ঘটনায় জাবালে নূরের তিন গাড়ির দুই চালক ও দুই হেলপারকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here