বাগেরহাটে কোরবানীর জন্য প্রস্তুত লক্ষাধিক পশু

বাগেরহাট প্রতিনিধি : আসন্ন কোরবানিকে সামনে রেখে বাগেরহাটে জেলার ৯টি উপজেলায় ছোট-বড় ৭ হাজারের অধিক গরুর খামার বিক্রিয় জন্য প্রস্তুত রয়েছে লক্ষাধিক পশু। এরমধ্যে সরকারের ‘বিফ ক্যাটল ডেভলপমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় তিনটি উপজেলায় ছয় শতাধিক পারিবার আমেরিকার উন্নত জাতের ‘ব্রাহমা’ জাতের গরু পালন করেছেন। দুই বছরের মধ্যে এক একটি ব্রাহামা জাতের গরু ১৫ মণ ওজন হচ্ছে। এই অবস্থায় বাগেরহাটের খামার মালিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন গরু মোটাতাজাকরণের। দেশীয় খাবারের ওপর নির্ভর করে পশু কোরবানির উপযুক্ত করে তৈরির কাজ করেছেন তারা।

খামারীরা বলছেন, ভারতীয় গরু না আসলে এবার দেশীয় গরুর বিক্রি করে ভাল মুনাফা অর্জন করা সম্ভব হবে।

বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানায়, বাগেরহাটের খামারীরা ব্রাহমা, ফ্রিজিয়ান, সিন্দি, শাহিওয়ালসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের গরু পালন হচ্ছে। এরমধ্যে দেশে গো-মাংসের চাহিদা পূরণের লক্ষে সরকারের ‘বিফ ক্যাটল ডেভলপমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় ২০১৪ সালে সরকার বিনামূল্যে বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট উপজেলায় ১২০টি গাভীতে ব্রাহমা জাতের গরুর সিমেন (বীজ) দিয়ে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে বাচ্চা উৎপাদন শুরু হয়। এরপর থেকে ওই এলাকার খামারিরা ব্রাহমা জাতের গরু লালন-পালন করে অধিক মুনাফা অর্জন করছে। গত চার বছরে জেলার তিনটি উপজেলায় ছয় শতাধিক পারিবার ভিত্তিক ব্রাহামা জাতের গরুর খামার গড়ে উঠেছে। দেশীয় জাতের গরুর তুলনায় দ্রুত বর্ধনশীল ও স্বল্প পূঁজিতে লালন পালন করা যায় বলে ব্রাহমা জাতের গরু। একারনে ব্রাহামা জাতের গরু পালনে ঝুঁকছেন চাষিরা।

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার খামারি নজরুল ইসলাম জানান, আমার একটি দেশীয় গাভীতে
ব্রাহমা জাতের গরুর সিমেন (বীজ) দিয়ে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে একটি যাঁড়ের বাচ্চা জন্ম নেয়। বাচ্চাটি জন্মের সময়ই রিষ্টপুষ্ট হয়। পরে দুই বছর লালন পালনে ১৫ মণ ওজন হয়। আমি ষাঁড়টিকে তিন লাখ টাকায় বিক্রি করেছি। এরপর থেকে আমি ব্রাহমা জাতের গরু পালন করে আসছি। আমার এখন আরও পাঁচটি ব্রাহামা জাতের ষাঁড় রয়েছে, এগুলো কোরবানিতে বিক্রি করার প্রস্ততি নিচ্ছি। যেগুলো ওজন হবে এক একটিতে ১৫ মনের অধিক।

বাগেরহাট সদর উপজেলার গোটাপাড়া গ্রামের খামারি আব্দুর রাজ্জাক মিঠুন জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমি গরু মোটাতাজাকরণ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। গেল বছরের মার্চ মাসে প্রাণিসম্পদ অফিসের কৃত্রিম প্রজনন সহকারী মো. বাবর আলী আমার দুইটি গাভীতে ব্রাহমা জাতের গরুর সিমেন দেন। পরে দুটি গাভীই দুটি ষাঁড়ের বাচ্চা জন্ম দেয়। এই বাচ্চা দুটি ৪-৫ মাস বয়সে দেশীয় জাতের দুই বছর বয়সী গরুর সমান বড় হয়েছে। আমার বাড়ির পাশেও অনেকে এখন ব্রাহামা জাতের গরু পালন শুরু করেছে। বাগেরহাটের খামারীরা বিনামূল্যে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে এখন ব্রাহমা জাতের গরু পালনের দিকে ঝুঁকছে।

বাগেরহাট সদরের এসএম এ্যাগ্রো ফার্মের মালিক, শেখ মেহেদী হাসান বলেন, বাগেরহাটের খামারীরা এখন প্রধানত ব্রাহামা,শাহিয়াল, সিন্দি ও জার্সি জাতীয় গরু পালন করছে। আমরা কোন প্রক্রিয়াজাতকরণ খাবার ব্যবহার করি না। স্বাভাবিক যে খাবার সেটা ব্যবহার করি। খড়, ভুট্টার গুরা, সোয়াবিনের খৈল, ডাল, ভুসি, নারকেলের খৈল ইত্যাদি পশুগুলোকে প্রদিতদিন খাওয়াই।

এবার আমার ফার্মে ব্রাহামাসহ বিভিন্ন জাতের ৬০টি গরু আছে। ভারতীয় গরু না আসলে কোরবানির ঈদ বাজারে ভাল দাম পাবো। গত বছরের তুলনায় এবার বেশি লাভ হবে। জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সাইফুজ্জামান খান বলেন, জেলার ৯টি উপজেলায় ছোট-বড় ৭ হাজারের অধিক গরুর খামার রয়েছে। এসব খামারে ব্রাহমা, ফ্রিজিয়ান, সিন্দি, শাহিওয়ালসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের গরু পালন হচ্ছে। গো-মাংসের চাহিদা পূরণের লক্ষে সরকারের ‘বিফ ক্যাটল ডেভলপমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় বাগেরহাটে ব্রাহমা জাতের গরুর পালন শুরু হয়। আমেরিকা থেকে সিমেন (বীজ) সংগ্রহ করে আমরা গাভীতে কৃত্রিম প্রজনের মাধ্যমে বাচ্চা উৎপাদন করে এ জাতের সম্প্রসারণের জন্য কাজ করছি। এরজন্য প্রতিটি বীজের মূল্য প্রায়
৪০ ডলার, যা খামারিদের আমরা বিনামূল্যে দিয়ে থাকি।

এ জাতের দুই বছর বয়সের একটি গরু থেকে ১৫ মন মাংস পাওয়া যাচ্ছে। দ্রুত বর্ধনশীল ও স্বল্প পূঁজিতে একজন খামারি এই ব্রাহামা জাতের গরু পালন করতে পারছে। বাগেরহাটে এবার কোরবানির জন্য ২০ হাজার ছাগল ও ভেড়াসহ এক লাখের অধিক পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। আশাকরি জেলার চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী জেলায়ও বাগেরহাটের পশু যাবে কোরবানির জন্য।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here