ছাত্রকে বাটাম দিয়ে পেটালেন শিক্ষক, অভিযোগ অস্বীকার শিক্ষকের!

মিঠুন গোস্বামী, রাজবাড়ী : রাজবাড়ী বালিয়াকান্দি উপজেলার নলিয়া শ্যামামোহন ইন্সটিটিউশনের দুই শিক্ষক ১০ম শ্রেণীর ছাত্র মো: সাব্বির হোসেন বিশ্বাস  (১৭) কে বেধড়ক মারপিট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাব্বির জামালপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গাহাতিমোহন গ্রামের মো: ইলিয়াস হোসেন বিশ্বাস (৪২) ছেলে।

বুধবার (৮ জুন) সন্ধ্যায় সাব্বিরের পিতা মো: ইলিয়াস হোসেন বাদী হয়ে বালিয়াকান্দি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযুক্তরা হলেন, নলিয়া শ্যামামোহন ইন্সটিটিউশনের শিক্ষক হারান চন্দ্র মন্ডল (৫০) ও আব্দুস সবুর খান ওরফে দুলু (৩৫)।

স্থানীয় মনিরুজ্জামান বিশ্বাস (মিঠু) বলেন, ঘটনার সময় আমি পাশেই ছিলাম নিজের কাজে। হঠাৎ দেখি রাস্তার পাশের কালিমন্দিরের সামনে থেকে ছাত্রছাত্রীরা দৌড়াচ্ছে। আমি কাছে গিয়ে দেখি সাব্বির কে শিক্ষক হারান চন্দ্র ও আব্দুস সবুর খান রাস্তায় ফেলে কিল, ঘুষি, লাথি মারছে। পরে ওই স্থান থেকে ৩০০মিটার দূরে বিদ্যালয়ে নিয়ে গিয়ে কাঠের বাটাম দিয়ে এলোপাতাড়িভবে মারধর শুরু করে। এ সময় সাব্বিরের হাতে ও পিঠের বিভিন্ন স্থানে কেটে ফেটে যায়।

এ সময় আমি বলি স্যার আপনারা এভাবে মারছেন কেনো। এভাবে কি কেউ কাউকে মারতে পারে? এ সময় স্থানীয় মুসলমান স্যার আব্দুস সবুর খান আমাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। সেইসাথে আমাকে বলে যা পারিস তোরা আমার বিরুদ্ধে কর গিয়ে।

শিক্ষক হারান চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, সাব্বির স্কুলের ৪ মেয়েকে মাঝে মাঝেই বাজে কথা বলে। যার ভিডিও রয়েছে। আজকেও মেয়েদের সাথে একই কাজ করে। এ সময় আমরা দুই শিক্ষক তাকে থাপ্পড় দিলে আমাদের ধাক্কা দেয়। পরে আমরা দুই শিক্ষক তাকে প্রতিষ্ঠানে এনে প্রধান শিক্ষকের উপস্তিতে কাঠের স্কেল দিয়ে একটা বারি দিলে হাতের কোনইতে লাল হয়ে যায়।

শিক্ষক আব্দুস সবুর খান এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয় নাই।

নলিয়া শ্যামামোহন ইন্সটিটিউশনের প্রধান শিক্ষক শাজাহান খান বলেন, প্রথমে কি হইছে তা আমি জানি না। তবে দুই শিক্ষক যখন ওই ছেলেকে নিয়ে আসে তখন জানতে পারলাম আমার প্রতিষ্ঠানের একটা মেয়েকে তুলে নিয়ে যাবার পরিকল্পনা ছিলো ওই ছেলের। তবে দুই শিক্ষক বুঝতে পেরে আমার রুমে ওই ছেলে কে নিয়ে আসে। এ সময় অনেক খোজাখুজি করে ওই মেয়ে কে আনা হলে সে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে, যার ভিডিও রয়েছে। এ সময় ওই দুই শিক্ষকের সাথে সাব্বির বাজে ব্যবহার করায় তাকে কাঠের স্কেল দিয়ে একটা বারি দেওয়া হয়।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার কাজী ইজাজ কায়ছার খান বলেন, এই ঘটনা আমি জানি না। আমাকে কেউ অবগত করেন নাই। আমার কাছে লিখত অভিযোগ করা হলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

সাব্বির হোসনে বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here