আগুন নেভেনি ২০ ঘণ্টায়ও, মৃত বেড়ে ৪৯

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ২০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। তবে এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি আগুন। সময়ের সঙ্গে বেড়েই যাচ্ছে মরদেহের সংখ্যা। হাসপাতালজুড়ে বাড়ছে স্বজনদের আহাজারি।

 

সবশেষ বিস্ফোরণে ৪৯ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আগুন নেভাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন ফায়ার সার্ভিসের কর্মী। এছাড়া এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চার শতাধিক। তাদের মধ্যে ডিপোর শ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও রয়েছেন।

রোববার বিকালে ৪৯ জনের মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস চৌধুরী। ধারণা করা হচ্ছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে সবশেষ পরিস্থিতি দেখা যায়, কনটেইনারগুলোলোতে পানি দিচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। কিছু কিছু স্থানে আগুন, আর কিছু স্থানে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, রোভার স্কাউট এবং রেড ক্রিসেন্টসহ স্থানীয় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কাজ করছে।

ডিপোর গেটের সামনে ও হাসপাতালে ভিড় করেছেন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজদের স্বজনরা। তারা খুঁজে ফিরছেন প্রিয়জনকে। কেউ কেউ আবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্বজনকে না পেয়ে ডিপোর সামনে এসে অপেক্ষা করছেন। তাদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠেছে চারপাশ।

সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের আরবান সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিমের প্রধান আরিফুল ইসলাম হিমেল বলেন, সকাল থেকেই আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। এখনও পুরোপুরি নেভেনি। কিছু কনটেইনারে এখনও আগুন জ্বলছে। সেনাবাহিনীর প্রায় ২০০ জনবল এখানে কাজ করছে।

 

অন্যদিকে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। কমিটির প্রধান করা হয়েছে অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রেজাউল করিমকে। এতে সদস্য সচিব হিসেবে আছেন অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. আনিসুর রহমান।

উল্লেখ্য, শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকার বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিটের ১৮৩ কর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। এছাড়া নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here