বিভাগীয় কেন্দ্রে পরীক্ষায় সন্তুষ্ট শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা

 রাবি প্রতিনিধি:ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা গতবারের ন্যায় এবারো ঢাকাসহ সাতটি বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী বিভাগীয় অঞ্চলের পরীক্ষা কেন্দ্র করা হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্য্যালয়ে (রাবি)। এই আঞ্চলিক কেন্দ্রে রাজশাহীর বিভাগের আট জেলার ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে এসেছেন।

ভর্তিচ্ছু অভিভাবকরা বলছেন, বিভাগীয় শহরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার কারণে কমেছে অভিভাবক, শিক্ষার্থীদের হয়রানি। সেই সঙ্গে সময় ও অর্থ অপচয় অনেক কমে গেছে। শিক্ষার্থীরা বলছে, কোনো রকম সমস্যা ছাড়াই তারা পরীক্ষা দিতে পারছেন।

জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় রাজশাহী আঞ্চলিক কেন্দ্রে প্রায় ২৯ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে শুক্রবার ব্যবসায় অনুষদভুক্ত ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ১ হাজার ৮৬৩ জন ভর্তিচ্ছু। গতকাল শনিবার কলা অনুষদভুক্ত ‘খ’ ইউনিটের পরীক্ষায় অংশ নেয় ৭ হাজার ২১৯ জন শিক্ষার্থী। আগামী ১০ জুন (শুক্রবার) বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ১৩ হাজার ৩২১ ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেবে। এছাড়াও আগামী ১৭ জুন চারুকলা অনুষদভূক্ত ‘চ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

বগুড়া থেকে মেয়েকে নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে এসেছেন আবুল কালাম। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা নেয়ার যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এর জন্য সাধুবাদ জানাই। এর ফলে আমাদের হয়রানি অনেকটা কমে গেছে। সেই সঙ্গে অর্থের অপচয়, জার্নি করার মতো অস্বস্তি পোহাতে হচ্ছে না। তারচেয়ে বড় কথা হলো আমার মতো যারা সরকারি চাকরিজীবী তাদের জন্য সুবিধা হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষাগুলো শুক্রবার ও শনিবার নেয়া হচ্ছে। ফলে আমরা ছেলে-মেয়ের সঙ্গে আসতে পারছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উচিত বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করা।

লিপি আক্তার তার মেয়েকে নিয়ে এসেছেন ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্রে। সঙ্গে তার ছোট্ট ছেলে। তিনি বলেন, কুষ্টিয়া থেকে ঢাকা দুরত্ব অনেক। বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা না করলে ঢাকা যেতে হতো। এমনিতে দীর্ঘ জার্নিতে বিভিন্ন অসুবিধা হয়। ৭-৮ ঘণ্টা জার্নি করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা খুবই কষ্টকর। সে হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় শহরে পরীক্ষার সুযোগ করে দেয়ায় হয়রানি কমেছে।

ভাগ্নেকে পরীক্ষা দেয়াতে মেহেরপুর থেকে এসেছেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা জুহুরুল হক খান। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা নেয়ার কারণে ঢাকার উপর চাপ কমেছে। এত মানুষের জনসমাগম হতো ঢাকায় সেটা আর হচ্ছে না। যার যার বিভাগীয় শহরে সবাই পরীক্ষা দিতে পারছে। ঢাকা যেতে হলে আমাদের দুইদিন আগে যেতো হতো। কিন্তু এখানে সকালে এসেও ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলাই যায়।

কুষ্টিয়ার আলমডাঙা থেকে মেয়েকে নিয়ে রাবি পরীক্ষা কেন্দ্রে এসেছেন বিশ্বনাথ মজুমদার। তিনি বলেন, ঢাকাতে পরীক্ষা হলে দুইদিন আগে যাওয়া লাগতো। রাজশাহীতে এসে যে হোটেলে থাকছি ঢাকায় এরকম একটা হোটেলে থাকলে দ্বিগুণ মূল্য পরিশোধ করতে হতো। বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা নেয়ার ফলে হয়রানি কমেছে, অর্থ ও সময়ের অপচয় কমেছে।

ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী নাবিলা হক বলেন, নিজের শহরে বসেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারছি। ঢাকা যেতে হলে অনেক সমস্যা ফেস করতে হতো, তা আর করা লাগছে না। সকালে বাসা থেকে বের হয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে এসেছি। এরচেয়ে সুবিধা আর কি হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here