যুবদলের নতুন কমিটি নিয়ে ক্ষুব্ধ ও হতাশ তৃণমূল

নিজস্ব প্রতিনিধিঃবিএনপির গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি আংশিক ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে সভাপতি ও মোনায়েম মুন্নাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। নতুন কমিটি ঘোষণার পরপরই তৃণমূলে উচ্ছ্বাস আর খুশির পরিবর্তে হতাশা বিরাজ করছে। প্রত্যাশানুযায়ী ত্যাগী ও যোগ্যদের কাছে নেতৃত্বভার তুলে না দেওয়ায় সংগঠনের ভবিষ্যৎ নিয়েও সন্দিহান তারা।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গত শুক্রবার এই কমিটি ঘোষণার কথা জানান। এতে মামুন হাসানকে সিনিয়র সহসভাপতি, নুরুল ইসলাম নয়নকে সহসভাপতি এবং সহসভাপতি পদমর্যাদায় কামরুজ্জামান দুলালকে দফতর সম্পাদক করা হয়েছে।  এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম মিল্টন ও দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম মওলা শাহীনকে আনা হয়েছে। ইসহাক সরকারকে করা হয়েছে সাংগঠনিক সম্পাদক।

সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু আগের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মোনায়েম মুন্না ছিলেন সহ-সভাপতি। এছাড়া মামুন হাসান গত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, নুরুল ইসলাম নয়ন সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক পদমর্যাদায় দফতরের দায়িত্বে ছিলেন কামরুজ্জামান দুলাল। আর ইসহাক সরকার ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।

নেতাকর্মীরা জানান, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হিসেবে সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে নতুন কমিটিতে সভাপতি করায় নেতাকর্মীদের মধ্যে তেমন কোনো ক্ষোভ প্রকাশ না পেলেও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে চরমভাবে হতাশ তারা।

পদপ্রত্যাশীদের তালিকায় মোনায়েম মুন্না আলোচনায় না থাকলেও তদবিরের জোরে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে এসেছেন বলে অভিযোগ নেতাকর্মীদের। মোনায়েম মুন্না বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও যুবদলের সাবেক সভাপতি মির্জা আব্বাসের দূরসম্পর্কের ভাগ্নে। এ পরিচয়েই তার রাজনীতিতে উত্থান।

অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী মামুন হাসানকে কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতি করা হয়েছে। ক্লিন ইমেজের অধিকারী ও দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিত এ নেতা ২০১৪ ও ২০১৫ সালের আন্দোলনে সর্বাধিক নির্যাতিত। ছাত্রদল দিয়ে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হওয়ার এ নেতা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি, মহানগর যুবদলের সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। সারাদেশে হাজারো অনুসারী আর পরিচিতি রয়েছে নতুন কমিটির আরেক সহসভাপতি নুরুল ইসলাম নয়নের। তাকেও নতুন কমিটিতে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা।

বিএনপির হাইকমান্ডের এ সিদ্ধান্তকেও ভালোভাবে নেননি তৃণমূল নেতাকর্মীরা। আলাল-নীরব কমিটিরও দফতর সম্পাদক ছিলেন কামরুজ্জামান দুলাল। সারাদেশে তার নিজস্ব পরিচিতি রয়েছে। যুগ্ম সম্পাদক পদে শফিকুল ইসলাম মিল্টনের চেয়ে বেশি অভিজ্ঞ ও সংগঠক হিসেবে পরিচিত গোলাম মওলা শাহীনকেও অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।

নেতাকর্মীরা জানান, যুবদলের নতুন কমিটি নিয়ে তারা আশান্বিত হতে পারছেন না। এ কমিটি আগামীতে আন্দোলন কিংবা জাতীয় নির্বাচনে তেমন কোনো ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে তারা মনে করছেন না।

কমিটিতে আগের কমিটির সভাপতি সাইফুল আলম নীরবের অনুসারী হিসেবে পরিচিত বড় অংশকে মাইনাস করা হয়েছে। আবার সংগঠনের পদপ্রত্যাশী ও প্রভাবশালী নেতা এস এম জাহাঙ্গীরকে আংশিক কমিটিতে না রাখায় তার অনুসারী হিসেবে পরিচিতরাও ছিটকে পড়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here