দিনাজপুরে ৪০ এতিম মেয়ের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা

দিনাজপুর প্রতিনিধি:দিনাজপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ৪০ জন এতিম কন্যার বিবাহত্তোর বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ মে) দুপুরে শহরের গ্রিন ভিউ কমিউনিটি সেন্টারে এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এই এতিম ৪০ কন্যার পরিবারের সদস্যরা সম্প্রতি বিভিন্ন সময়ে পারিবারিকভাবে তাদের মেয়ের বিয়ে দেন। বিয়ের আগে এই এতিম কন্যারা দিনাজপুরে লায়ন্স ক্লাব নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের স্থায়ী প্রকল্প “শিশু নিকেতন নিবাসে” থেকে বেড়ে উঠে এবং স্বাবলম্বী হয়।

এতিম মেয়েরা এই শিশু নিকেতন নিবাসে থেকে লেখাপড়ার পাশাপাশি কম্পিউটার, কাপড় সেলাই, বুটিকসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এবং ১৮ বছরের পর তাদের পরিবারের কাছে ফিরে যায়। এর পর তাদের পরিবার তাদের পছন্দের ছেলের সাথে তাদের মেয়েদের বিয়ে দেন। গতকাল শুক্রবার এমন ৪০ জন মেয়ের বিবাহত্তোর বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে লায়ন ক্লাব।

কয়েক জন বর-কনে জানান, জাঁকজমকপূর্ণ এমন বিবাহত্তোর বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজনে দম্পতিসহ তাদের পরিবার বেশ খুশি। সব ধরনের সহযোগীতা পেয়ে এখানে বড় হয়েছি আজ আমাদের বিয়ে, আমরা আনন্দে আত্মহারা। তাদের বিয়ে হয়েছে সাদামাটা পরিবেশে। বিবাহত্তোর বিদায়ের এত বড় আয়োজনে তারা আপ্লুত। বর-কনের পরিবারের সদস্যসহ অতিথিরাও ব্যাতিক্রমী এমন আয়োজনের প্রশংসা করেছেন।

দিনাজপুর লায়ন্স ক্লাবের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মিজানুর রহমান, তাদের প্রতিষ্ঠানে বেড়ে উঠা এসব মেয়ের বিবাহত্তোর অনুষ্ঠান এমন আয়োজনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আগামীতে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।

সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাইনুল ইসলাম জানান, সাময়িক পড়াশোনা শেষে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করে দিনাজপুর শিশু নিকেতন। ১৯৭৯ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চালু হয়েছে।

জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকী জানান, শিক্ষার পাশাপাশি নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভিতরে এই প্রতিষ্ঠানে মেয়েদের বিভিন্ন প্রকার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা হয়।

লায়ন্স ক্লাবের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতিমদের বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করছেন। তাদের স্বাবলম্বী করতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প নিয়েছেন। ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত দিনাজপুর শিশু নিকেতন এ পর্যন্ত সাড়ে ৩ শতাধিক এতিম মেয়েকে বিয়ে দিয়েছে। এসব পরিবারের জন্য কর্ম সংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা থাকবে।

বিদায় অনুষ্ঠানে উপহার হিসাবে মেয়েদের সেলাই মেশিন এবং ছেলেদের বাইসাইকেল ছাড়াও প্রত্যেক দম্পতিকে দেয়া হয় বিভিন্ন আসবাবপত্র। মধ্যাহ্নভোজের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ৪০ জন এতিম কন্যার বিবাহত্তোর বিদায় অনুষ্ঠান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here