ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কক্ষে কিশোরীকে ধর্ষণ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি:হাওরের ধান কাটতে এসে ১৪ কিশোরীর সঙ্গে পরিচয় ৪০ বছরের লিটন সরকারের। পরিচয় থেকেই মোবাইলে চলে কথাবার্তা। চলে ভাবের আদান-প্রদান। এরই মাঝে বিয়ের প্রলোভনে কিশোরীকে ডেকে নিয়ে চলে একাধিকবার ধর্ষণ। এই দিকে ধান কাটা শেষ হলে রাতের আঁধারে গা ঢাকা দেন ধর্ষক। আর বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন কিশোরী ও কিশোরীর পরিবার।

নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কক্ষে একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হন ১৪ বছরের এক কিশোর। গত ৫ মে বিয়ের প্রলোভনে কিশোরীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে উপজেলার উদয়পুর গ্রামের নয়াগাঁও বাজার ইউপি চেয়ারম্যান দেবেশ তালুকদারের ব্যক্তিগত কক্ষে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন লিটন সরকার। এরপর একাধিকবার একই কক্ষে চলে তার নোংরা খেলা। শেষমেষ রাতের আঁধারে পালিয়ে যায় ধর্ষক লিটন সরকার।

ভুক্তভোগী ঐই কিশোরী উপজেলার নগর ইউনিয়নের গ্রামের অসহায় এক দিনমজুরের মেয়ে।

এই ঘটনায় কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে খালিয়াজুরী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এ মামলায় বুধবার রাতে নগর ইউনিয়নের বল্লভপুরে শ্বশুরবাড়িতে অভিযান চালিয়ে লিটনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

অভিযুক্ত লিটন সরকার সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের সুধাংশু সরকারের ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক। তার এক স্ত্রী ও দুটি সন্তান আছে।

জানা যায়, প্রায় চার মাস আগে মুঠোফোনের মাধ্যমে কিশোরীটির প্রেম হয় অভিযুক্ত লিটন সরকারের। চলতি মাসের ৫ তারিখ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিকটাত্মীয় নগর ইউনিয়নের নয়াগাঁও বাজারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান দেবেশ তালুকদারের ফাঁকা বাড়িতে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে লিটন। পরে মেয়েটিকে বিয়ে না করে সে পালিয়ে যায়। লিটনের কোনো খোঁজখবর না পেয়ে মেয়েটি ধর্ষণের ঘটনাটি স্থানীয়দের জানায়। পরে স্থানীয়রা মেয়েটিকে তার নিজের পরিবারের হেফাজতে দেয়।

এই দিকে বিষয়টি জানাজানি হলে নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেবেশ তালুকদার সালিশের মাধ্যমে শেষ করে দিবে বলে আশ্বাস দিলে অত্র ইউনিয়নের উদয়পুর গ্রামের ইউপি মেম্বার পল্টু সামন্ত। কিন্তু ১৫ দিনেও কোনো সুরাহা না পেয়ে কিশোরীর বাবা খালিয়াজুরী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি মেম্বার পল্টু সামন্ত ঘটনা স্বীকার করে বলেন, ভুক্তভোগী কিশোরীকে চেয়ারম্যানের নির্দেশে আদমপুর থেকে নিয়ে এসেছি।

ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বলেন, অনেক বার চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করে কোনো বিচার না পেয়ে থানার আশ্রয় নিয়েছি। এ ঘটনার সুষ্টু বিচার চাই।

নগর ইউপি চেয়ারম্যান দেবেশ তালুকদার বলেন, আমার অফিস আদমপুর। তবে বাজারের যে রুম আছে তা বিট পুলিশিং এর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রাখা। তাতে কে বা কারা মিথ্যা পরিচয় দিয়ে জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েছে তা আমার বোধগম্য নয়। এ ধরনের ঘটনার বিচারতো আমার করা সম্ভব নয়। তাই অপরাধী যেই হোক তদন্ত সাপেক্ষে তার বিচার দাবি করছি।

এ ব্যাপারে খালিয়াজুরী থানার ওসি মো. মুজিবুর রহমান জানান, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের পর ধর্ষক লিটন সরকারকে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here