বোয়ালমারীতে খাদ্য পরিদর্শকের বাড়িতে ৩০ বস্তা চাল মজুদ!

কাজী হাসান ফিরোজ, বোয়ালমারী : মাগুরা জেলার সরকারি খাদ্য গুদামের চাল ধরা খেলো ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার চতুল গ্রামে। মাগুরা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তরের কারিগরী খাদ্য পরিদর্শক প্রবীর কীর্তনীয়ার গ্রামের বাড়িতে এঘটনা ঘটে। তিনি চালগুলো ব্যক্তিগতভাবে ক্রয় করেছেন বলে দাবি করলেও স্থানীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে কর্মস্থল থেকে সরকারি চাল এনে শুধু বস্তা পরিবর্তনের অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, বোয়ালমারী উপজেলার চতুল গ্রামের কীর্ত্তনীয়া পাড়ার ক্ষিরোধ কীর্ত্তনীয়ার ছেলে প্রবীর কীর্তনীয়া মাগুরা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তরের কারিগরী খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত। সম্প্রতি তিনি ত্রিশ বস্তা চাল ট্রাকযোগে বাড়িতে আনেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গত বুধবার (২৫ মে) বোয়ালমারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারিয়া হক উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. রেজাউল আলমকে নিয়ে প্রবীর কীর্তনীয়ার চতুলস্থ গ্রামের বাড়ি তল্লাশি করেন।

এ ব্যাপারে মাগুরা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তরের কারিগরী খাদ্য পরিদর্শক প্রবীর কীর্তনীয়া বলেন,আমার বাড়িতে যে ধান উৎপাদন হয় তা প্রক্রিয়াজাত করায় অনেক ঝক্কি। সে কারনে সেগুলি বিক্রি করে আমি বাজার থেকে চাল ক্রয় করে খাবার জন্যে বাড়িতে রেখেছি।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারিয়া হক বলেন, ওই কর্মকর্তার বাড়িতে চাল পাওয়া গেছে সত্য, কিন্তু তা সরকারি চাল কিনা বুঝা মুশকিল। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, এসিল্যান্ড উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে নিয়ে স্পটে গিয়েছিলো। সেখানে চেক করে সরকারি কোন চাল পাওয়া যায়নি। চেক করে কিছু পাওয়া গেছে, তা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে ক্রয়কৃত বলে জানা যায়।

স্থানীয় লোকজন বলেন, গ্রামে এমন কোন পরিবার নেই, যে পরিবারের লোকেরা খাবার জন্যে একসাথে ৩০ বস্তা চাল মজুদ রাখে! এটা ধান হলে বিশ্বাসযোগ্য ছিলো। তাদের ধারণা, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এবং প্রবীর কীর্তনীয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি)কে বিভ্রান্ত করেছেন। তাদের দাবি কেঁচো খুড়তে গেলে অনেক সাপ বেরিয়ে আসতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here