ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পাইনি : অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস

নিজস্ব প্রতিনিধিঃনিউমার্কেট এলাকা যেন রণক্ষেত্র। থেমে থেমে সকাল থেকে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থী ও নিউমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ চলছে। প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চললেলও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো উপস্থিতি লক্ষ করা যায়নি। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধরা চন্দ্রিমা মার্কেটে আগুন ধরিয়ে দিলে পরিস্থিতি ভয়বাহ রূপ নেয়।

প্রায় তিন ঘণ্টা পর সংঘর্ষ স্থলে ছুটে আসেন ঢাকা কলেজের কয়েকজন শিক্ষক। তারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। ঢাকা কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আবদুল কুদ্দুস শিকদার বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা সকাল থেকে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করি। তাদের পক্ষ থেকে কোনো সগযোগিতা পাইনি। আমরা আমাদের ছাত্রদের ফিরিয়ে নিয়ে গেলেও অপর পক্ষ থেকে ইটপাটকেল থামছেই না।

এর আগে সোমবার (১৮ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের জেরে মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) সকাল থেকে নিউমার্কেট এলাকা অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। এতে নিউমার্কেটের সকল দোকানপাট বন্ধের সঙ্গে সড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে।

সোমবার (১৮ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। উত্তেজনা চলে মধ্যরাত পর্যন্ত। এ ঘটনার জের ধরে নিউমার্কেট খুলতে না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা।

এদিকে ঢাকা কলেজের আজ মঙ্গলবারের সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কলেজের সব শিক্ষককে সকাল ১০টায় ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ অনুরোধ জানিয়েছেন।

এর আগে সংঘর্ষের শুরুর দিকে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করে। এ সময় উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা ব্যর্থ হলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার শেল ছোড়ে পুলিশ। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ থামলেও নিউমার্কেট এলাকাজুড়ে রাতভর উত্তেজনা বিরাজ করে।

রমনা জোনের ডিসি সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি ঢাকা কলেজের কয়েকজন ছাত্র নিউমার্কেটে যায়। যে দোকানে তারা গিয়েছিল সেই দোকানের কর্মচারীর সঙ্গে তাদের তর্ক হয়। শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, সেই কর্মচারী তাদের গায়ে হাত তুলে। পরে শিক্ষার্থীরা হলে ফিরে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য দলবল নিয়ে নিউমার্কেট এলাকায় আসে। এ সময় তারা প্রথমে নিউ মার্কেটের ৪ নং গেইট ও পরে ২ নং গেইট ভেঙে ভেতরে ঢুকার চেষ্টা করে। দুই নং গেইট ভেঙে ভেতরে কয়েকজন ঢুকেও পড়ে। পরে আমরা তাদেরকে বুঝিয়ে হল ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করি।

মার্কেট খুলতে না দেয়ার দাবির বিষয়ে ডিসি সাজ্জাদ রহমান বলেন, ‘এটা রমজান মাস। রমজানের শেষ দশক চলে এসেছে। এখন দোকানপাট বন্ধ রাখার দাবি কোনো বিবেচনা প্রসূত কাজ নয়। ঢাকা কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তারা বলেছেন, তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলবেন। যদি কোনো সমঝোতার প্রয়োজন হয় তাহলে সেটি তারা করবেন। মার্কেটের সাথে দ্বন্দ্ব নিরসনের উদ্যোগ নেবেন। কিন্তু মার্কেট খুলতে না দেয়ার বিষয়টি যথাযথ সিদ্ধান্ত নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here