পটুয়াখালীতে ব্যাবসায়ী অপহরনের ঘটনায় ৬ জন গ্রেফতার

 

সাঈদ ইব্রাহিম,পটুয়াখালীঃপটুয়াখালীতে চাঞ্চল্যকর ব্যবসায়ী শিবু লাল দাস ও তার গাড়ী চালক মিরাজকে অপহরনের ঘটনায় জড়িত ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনুসন্ধান ও প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে অপহরনের ৬ দিনের মাথায় তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পটুয়াখালী জেলা পুলিশ।

এরপূর্বে অপহনের ২৪ ঘন্টার মধ্যে পৌর এলাকার এসপি কমপ্লেক্স থেকে বস্তা বন্দি অবস্থায় অপহৃতদের উদ্ধার করে পুলিশ। তবে এঘটনায় এখোন পর্যন্ত নিবির অনুসন্ধান চলমান রয়েছে বলে গনমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে পটুয়াখালীর এসপি মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন-উল্লেখিত এঘটনায় আরও ১০ থেকে ১৫ জন জড়িত রয়েছে। বাকি রহস্য উদ্ঘাটনে তার নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিম মাঠে রয়েছে। রোববার দুপুরে এসপির কার্যালয়ে অ্যাডিশনাল এসপি আহমাদ মাঈনুল হাসানের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ভাংচুয়ালে সংযুক্ত থেকে এসকল তথ্য নিশ্চিত করেন এসপি মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন-জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আতিকুর রহমান পারভেজ(৩২), শহরের কাঠপট্টি এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে শামীম আহম্মেদ(৩৯) ও তার ছোট ভাই আক্তারুজ্জামান সুমন(৩২), আদালতপাড়ার মৃত মোখলেছুর রহমান গাজীর ছেলে মিজনুর রহমান ওরফে সাবু গাজী(৪২), বরগুনা জেলা আমতলী উপজেলার পশ্চিম চিলা গ্রামের মফিজ উদ্দীনের ছেলে মোঃ বেল্লাল গাজী(৪১) এবং আমতলী উপজেলার দক্ষিন টেপুরা এলাকার মাহাবুব মাতুব্বরের ছেলে মোঃ সাব্বির হোসেন(২২)। তবে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা র্নিদোষ দাবী করে বলেন-অপহরনের ঘটনায় জড়িত অপর অভিযুক্ত মামুন ওরফে ল্যাংরা মামুনের সাথে তাদের ব্যবসায়ীক লেনদেন রয়েছে। মোবাইলে কথোপকথনের সন্দেহে তাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উল্লেখিত ঘটনায় তারা জড়িত নয়।

ঘটনার বরাত দিয়ে এসপি বলেন-গত ১১ এপ্রিল শিবু লাল দাস ব্যাসায়িক কাজ শেষে রাতে নিজস্ব প্যারাডো গাড়ী নিয়ে পটুয়াখালীর নিজ বাসায় রওনা হয়। পথিমধ্য কৌশলে সড়ক অবরোধ করে শিবু লাল দাস ও তার গাড়ী চালক মিরাজকে অপহরন করে তারা। পরিবারের পক্ষ থেকে শিবু লালের খোঁজ না পেয়ে পুলিশকে অবহিত করা হয়। ওই রাতেই পটুয়াখালী-আমতলী সড়কের রহমানিয়া ফিলিং স্টেশন থেকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় শিবু লাল দাসের ব্যবহৃত গাড়ী উদ্ধার করেন পটুয়াখালীর পুলিশ। উদ্ধারের সময় গাড়ীর ভেতরে খেলনা পিস্তলের ভাঙ্গা অংশ এবং কিছু আলামত জব্দ করেন। পুলিশের চিরুনী অভিযানের ধারাবাহিকতায় ১৩ এপ্রিল শহরের কাজীপাড়াস্থ এসপি কমপ্লেক্স এর আন্ডার গ্রাউন্ড থেকে বস্তা বন্দি অবস্থায় শিবুল লাল ও তার গাড়ী চালক মিরাজকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর চিকিৎসার পাশাপাশি আদালতে জবান্দ দেয় ভিকটিম।

পরে সিসিটিভির সুত্র ধরে অনুসন্ধান চালায় পুলিশ। অপহৃত ব্যক্তিদের বহনকৃত অটো রিক্সা খুজে বেড় করে তারা। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের অটো চালক বিল্লাল প্যাদা বলেন-মাত্র ১শ টাকায় তার অটো রিক্সা ভাড়া করে মাতৃ ছায়া বুটিকস এর মালিক ল্যাংড়া মামুন। মামুনসহ চারজন তার অটো রিক্সায় ছিলেন। কিন্তু বস্তায় কি ছিল তা জানেনা চালক বিল্লাল প্যাদা। তবে মামুন গংদের কথা বার্তা যথেষ্ট সন্দেহজনক ছিল। কিন্তু বস্তার উপরে মাতৃ ছায়ার স্টিকার লাগানো। তার অটোতে করে বস্তা গুলো এসপি কমপ্লেক্সে নিয়ে রাখা হয়।

এসপি আরও বলেন-অপহরনের ঘটনায় মুল নেতৃত্বে রয়েছে ল্যাংড়া মামুনসহ ৩ জন। শিবু লাল ও তার ড্রাইভারকে অপহরণের পর হাত, পা, মুখ বেধে গাড়ীতে উঠিয়ে মামুনের কথিত গোপন আস্তানায় নিয়ে শারীরিক অত্যাচার করে আটক রাখা হয়। পরদিন তাকে গুম করার উদ্দেশ্যে তার গোপন আস্তানা থেকে এসপি কমপ্লেক্স এর নীচতলার পার্কিং এর মামুনের গুদামে রাখা হয়। কিন্তু পুলিশ তৎপর থাকায় তা পারেনি চক্রটি। মামুন মুলত শহরের আদালত পাড়ায় মাতৃ ছায়া বুটিকস শপিং কমপ্লেক্সের মালিক। একাধিক অপকর্মের সাথে মামুনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।

অপর একটি র্নিভরযোগ্য সুত্র বলেন-তৎকালিন সময়ে ঢাকায় আইন শৃক্সখলা বাহিনীর ক্রাইম নিয়ন্ত্রন অভিযানে গোলাগুলিতে পা হারায় এই মামুন। পরে ব্যবসায়ী সেজে পটুয়াখালীতে আত্মগোপনে থাকে। এছাড়াও মামুনের বড় ভাই মিজান ওরফে ডেন্টিং মিজান শিশু অপহরন ও দুই কোটি টাকা মুক্তিপনের মামলায় ফেরারী। র‌্যাব-১ এর অভিযানে মিজার আটক হলে ভুল জামিননামা দিয়ে ঢাকার আদালত থেকে মুক্ত হয়ে গা ঢাকা দিয়ে আছে। মামুন তার শ্বশুর বাড়ী বড় চৌরাস্তার মালেক মিয়ার সাথে মিজানের যোগাযোগ আছে বলে ওই সুত্রটি নিশ্চিত করেন।

প্রসঙ্গত, গত ১১ এপ্রিল সোমবার রাতে গলাচিপা উপজেলার হরিদেবপুর থেকে বাসায় ফেরার পথে নিজের ব্যাবহৃত গাড়ির ড্রাইভারসহ অপহৃত হন ব্যাবসায়ী শিবু লাল দাস। রাতে তার স্ত্রীর মোবাইল ফোনে কল করে ২০ কোটি টাকা মুক্তিপন দাবি করা হয়। অপহরনের ২৪ ঘন্টা পর মঙ্গল বার রাতে শহরের কাজী পাড়াস্থ শপিং মল এসপি কমপ্লেক্সের আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে বস্তা বন্দী অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিবুলাল দাসের ছেলে বুদ্ধদেব দাস পটুয়াখালী সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here