রিয়াজ বাহিনীর বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পেতেন না: র‍্যাব

নিজস্ব প্রতিনিধিঃনারায়ণগঞ্জের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী রিয়াজ বাহিনীর প্রধান রিয়াজুল ইসলাম ওরফে শুটার রিয়াজ ও তার চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

বুধবার রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁওয়ে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ৩টি বিদেশি পিস্তল, ৩টি ম্যাগাজিন, ১২টি গুলি, ৫টি ধারালো অস্ত্র ও ৬০০ পিছ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থার আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

রিয়াজুল (২২) ছাড়া গ্রেপ্তার বাকি চারজন হলেন জাহিদুল ইসলাম ওরফে কালা ভাগিনা (২৩), মারুফ হোসেন ওরফে মুন্না (২৩), মো. সেলিম (২৩) ও মাহবুব মিয়া (২৩)।

খন্দকার আল মঈন বলেন, রিয়াজ হত্যাসহ ১৫ মামলার আসামি। তিনি অন্তত ১৫ সন্ত্রাসী দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, সোনারগাঁও ও তার আশপাশের এলাকায় রিয়াজুলের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিলেন। তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে জমি দখল, অবৈধভাবে বালু ভরাট, মাটিকাটার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণ, মাদক ব্যবসা ইত্যাদি।

তিনি আরও বলেন, রিয়াজুল ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে আসছিলেন। রিয়াজ বাহিনীর বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পেতেন না। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে গত ২৯ মার্চ রূপগঞ্জে প্রকাশ্যে রিয়াজ বাহিনীর লোকজন গুলি ছোড়ে। তারা এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এই ঘটনায় একজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।

শুটার রিয়াজের পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৬ সালে বড় ভাইয়ের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হন তিনি। রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁও এলাকায় চাঁদাবাজি, ভূমি দখল ও ভাড়ায় মারামারি করতে গিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে অপরাধ জগতের লোকজনের সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তির সাথে মনোমালিন্য হলে রিয়াজ নিজেই একটি সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলে। তিনি তার সহযোগীদের অস্ত্র সরবরাহ শুরু করেন। রিয়াজের বিরুদ্ধে হত্যা, মারামারি, বিস্ফোরক ও অস্ত্র আইনে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় ১৫টি মামলা রয়েছে। তিনি বিভিন্ন মেয়াদে একাধিকবার কারাগারে ছিলেন।

১৫ মার্চ রূপগঞ্জে রিয়াজ বাহিনীর গুলিতে শফিক ও শামীম মল্লিক নামের দুই ব্যক্তি আহত হন। গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর এই বাহিনী রূপগঞ্জে বিদ্যুৎ নামের এক ব্যক্তিকে নিশানা করে গুলি করে। এ সময় পাশের বাড়ির একটি শিশুর চোখে তা লেগে তার একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়। একই বছরের ৭ নভেম্বর রূপগঞ্জ এলাকায় রিয়াজ বাহিনীর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনায় একজন নিহত হয়। ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রিয়াজুলের নেতৃত্বে এসব ঘটছে। পরে তাকে ও তার সহযোগীদের আইনের আওতায় আনে র‍্যাব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here