প্রীতিরও গুলি লেগেছে বিষয়টি জানতাম না: গ্রেফতার মাসুম

নিজস্ব প্রতিনিধিঃরাজধানীর মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ওরফে টিপুকে হত্যার একমাত্র টার্গেট ছিল গ্রেফতার শুটার মো. মাসুম ওরফে আকাশের। কিন্তু মাসুম যখন গুলি করছিলেন তখন অস্ত্রের ট্রিগার চেপে ধরে রেখেছিলেন। সেই গুলিতে টিপুর সঙ্গে নিহত হন রিকশারোহী সামিয়া আফরান জামাল প্রীতি।

রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান এ কে এম হাফিজ আক্তার সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

প্রীতি হত্যার বিষয়ে মাসুম কী জানিয়েছেন- এমন প্রশ্নে ডিবি প্রধান বলেন, অস্ত্রের ট্রিগার টিপেই রেখেছিলেন মাসুম। মাত্র কয়েক সেকেন্ডে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি বের হয়। এরপর তিনি তার সহযোগীর সঙ্গে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যান।

এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, প্রীতি নিহতের বিষয়ে মাসুম আগে জানতেন না, পরে জেনেছেন বলে তিনি আমাদের জানিয়েছেন।

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি, তাই কীসের ভিত্তিতে আপনারা (ডিবি) বলছেন মাসুম টিপুকে হত্যা করেছে? এমন প্রশ্নে ডিবি প্রধান বলেন, অস্ত্র হলো একটি ঘটনার আলামত। পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে তথ্য-উপাত্ত নিয়ে আমরা কাজ শুরু করি। এরপর ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করি। একটি কিলিং হওয়ার পরে সমাজে অস্থিরতা বিরাজ করে। আমরা রাত-দিন কাজ করে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আসামিকে ধরি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিও ঘটনা স্বীকার করেছেন। এছাড়া আসামি সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন।

টিপু হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক না কি কোনো সন্ত্রাসী কিলিং মিশন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা ৩-৪টি বিষয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। রাজনৈতিক না সন্ত্রাসী তা পরে জানানো হবে।

ডিবি প্রধান আরো বলেন, গ্রেফতার মাসুম হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে চার থেকে পাঁচটি মামলা রয়েছে। তিনি ফেরারি আসামি। এ কারণে বাড়িতে যেতে পারতেন না। তবে তার মুখের কথাই সব সত্য এমন নয়, তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।

ঢাকা সেন্ট্রাল ডিপো থেকে কাট-আউট সিস্টেমে একটি মোটরসাইকেল ও একটি পিস্তল ব্যাগে করে নিয়ে আসেন মাসুম।

হাফিজ আক্তার বলেন, মাসুমের সঙ্গে আরেকজন ছিলেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তার নাম এখনই বলা যাবে না। হত্যাকাণ্ডে দুইজন অংশগ্রহণ করেন। একজন মোটরসাইকেলচালক আরেকজন মাসুম।

ডিবি প্রধান বলেন, মাসুম একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাফিক্স ডিজাইনে পড়ালেখা করেছেন। তার বাবা স্কুল শিক্ষক ছিলেন। তার স্ত্রী-সন্তানও রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে কয়েকজনের নাম আমাদের কাছে বলেছেন মাসুম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here