জাকাত কি শুধু রমজান মাসেই দিতে হবে?

ধর্ম ডেস্ক:ইসলামের অত্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো জাকাত।  ঈমানের পর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য ইবাদত হলো সালাত ও জাকাত। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনের অনেক সালাত ও জাকাতের আদেশ দিয়েছে। আল্লাহর অনুগত বান্দাদের জন্য অশেষ সওয়াব, রহমত ও মাগফিরাতের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধিরও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

জেনে রাখা জরুরি যে, যার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ আছে, এমন স্বাধীন ও পূর্ণবয়স্ক মুসলিম নর-নারী জাকাত আদায় করবে। কারণ, তাদের ওপর জাকাত ফরজ। তবে এর জন্য শর্ত হলো-

১. সম্পদের ওপর পূর্ণাঙ্গ মালিকানা থাকতে হবে।

২. সম্পদ উৎপাদনক্ষম ও বর্ধনশীল হতে হবে।

৩. নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকতে হবে।

৪. সারা বছরের মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত সম্পদ থাকলেই শুধু জাকাত ফরজ হবে।

৫. জাকাত ফরজ হওয়ার জন্য ঋণমুক্ত হওয়ার পর নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকা শর্ত।

৬. কারও কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ পূর্ণ এক বছর থাকলেই শুধু ঐ সম্পদের ওপর জাকাত দিতে হবে।

নিসাব পরিমাণ সম্পদ পূর্ণ এক বছর থাকলেই কেবল জাকাত আদায় করতে হয়। তবে অনেক মানুষ মনে করে যে, যাকাত শুধু রমজান মাসে আদায় করার আমল। অথচ এ ধারণা ঠিক নয়। কারণ, নিসাব পরিমাণ সম্পদের উপর এক চান্দ্র বছর অতিবাহিত হলেই সেই সম্পদের জাকাত দেওয়া ফরজ।

জাকাত ফরজ হওয়ার পর দ্রুত আদায় করতে হবে। তবে কোনো কোনো লোককে দেখা যায়, তাদের জাকাতবর্ষ রমজান মাসের আগে, এমনকি চার থেকে পাঁচ মাস আগে হয়ে যায়। এরপরও তারা তখন জাকাত আদায় করে না, বরং রমজানের অপেক্ষা করতে থাকে। এমন করা আদৌ উচিত নয়। বরং গরিবের পাওনা যত দ্রুত আদায় করা যায়- ততই শ্রেয়। হ্যাঁ, যাদের জাকাতবর্ষ রমজান মাসে পূর্ণ হয়- তারা রমজানেই আদায় করবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here