২০২৫ সালের মধ্যে দেশের সকল ইটভাটা বন্ধ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃপ্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশের সকল ইটভাটা  বন্ধ করে দিয়ে অটো ব্রিকস ব্যবহার করা হবে। যা পরিবেশ বান্ধব এবং ইটের  চেয়ে ৩০ শতাংশ টেকসই। অটে ব্রিকস তৈরি করতে সারা দেশে ৫ লক্ষাধিক ব্যাক্তিকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এইচবিআরআই মহাপরিচালক মো. আশরাফুল আলম বলেন,  মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের  মাধ্যমে  বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্স ইনস্টিটিউট কাজ করে যাচ্ছে।জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নকল্পে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে  পরিবেশবান্ধব আবাসন নির্মাণে ভূমিকা রাখছে হাউজিং এ- বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট। এ প্রতিষ্ঠানের মেধাবী গবেষক ও দক্ষ কর্মকর্তারা নিষ্ঠা এবং সততার সঙ্গে সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষ স্বল্প বিনিয়োগে আবাসন তৈরি করতে পারবে।
মো. আশরাফুল আলম বলেন,বর্তমানে এইচবিআরআই কর্তৃক উৎপাদিত ব্লকগুলোর মধ্যে কম্প্রেসড স্ট্যাবিলাইজড আর্থব্লক (সিএসইবি), ইন্টারলকিং সিএসইবি, কংক্রিটহলোব্লক, থার্মালব্লক, স্যান্ড সিমেন্ট হলোব্লক, অটোক্লকেভড এরিয়েটেড কংক্রিটব্লক, থ্রিডিপ্যানেল, স্যান্ডউইচ প্যানেল ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। পরিবেশবান্ধব এই সকল ব্লক উৎপাদনে কৃষি জমির উপরিভাগের মাটির ব্যবহার এবং আগুনে পোড়ানোর প্রয়োজন হয়না। ফলে ব্লক উৎপাদনে বায়ু দূষণের অন্যতম নিয়ামক কার্বন নিঃসরণের কোন রুপ ঝুঁকি নেই
বাড়ি বা বাসস্থান নির্মাণের জন্য অনেক গুলো ধাপ বা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রচুর অর্থ, শ্রম ও সময় বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্জিত হয় কাঙ্খিত বাসগৃহ। এ ক্ষেত্রে নির্মাণ কাজের প্রতিটি ধাপে বাড়ির মালিকের সচেতনতা, সঠিক দিক নির্দেশনা এবং তদারকী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি এ প্রসংগে আরো বলেন পরিবেশ সম্মত বাড়ি নির্মাণের অন্যান্য অনেক বিষয়ের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সকল প্রকার আইন কানুন, বিধি-বিধান অনুসরণ করে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা।  ঢাকা শহরের জন্য মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা এবং অন্যান্য শহরের জন্য প্রযোজ্য বিধিমালাসমূহ অনুসরণ করতে হবে।
১৯৯৩ সনে প্রণীত এই বিল্ডিং কোড বর্তমানে আধুনিক ও সময়োপযোগী করে প্রণয়নের প্রকল্প হাউজিং এ- বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট বাস্তবায়ন করছে। ফলে অপরিকল্পিত ও ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণ রোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। হাউজিং এ- বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট সিডিএমপি-এর সহযোগিতায় ২০১১ সাল থেকে রাজ মিস্ত্রি, রড মিস্ত্রি এবং নির্মাণ ঠিকাদারগণের উপযোগী প্রশিক্ষন কর্মসূচি পরিচালনা করছে। ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি জেলা শহরে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই কর্মসূচীর আওতায় ২০০০ জন কে প্রশিক্ষন প্রদান করা হয়েছে। ২০১৬-২০১৯ সাল পর্যন্ত সুইচ এশিয়া প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২০০০ জন রাজমিস্ত্রীকে প্রশিক্ষন প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের ম্যাধমে ৫ লক্ষ দক্ষ নির্মাণ শ্রমিক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে দেশজ নির্মাণ উপকরণ ও সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে বিপুল জনগোষ্ঠির আবাসন সংকট নিরসনের লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালের ১৩ জানুয়ারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হাউজিং এ- বিল্ডিং রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে হাউজিং এ- বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট নামে স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে রূপ লাভ করে। এই প্রতিষ্ঠানে সীমিত আয়ের জনগোষ্ঠির জন্য নিরাপদ ও টেকসই গৃহায়ন সহজলভ্য করা এবং দেশের নির্মাণ শিল্পের গুনগত মান বৃদ্ধি ও সুশৃঙ্খল লক্ষ্যকে সামনে রেখে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here