বাবুলের হাতের লেখার নমুনা নিল পিবিআই

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের হাতের লেখা পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মুহাম্মদ আবদুল হালিমের আদালত এ আদেশ দেন। এ সময় বাবুল আক্তার আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

অনুমতি পেয়েই বাবুল আক্তারের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করেছে পিবিআই। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাবুল আক্তারের আইনজীবী একেএম আজহারুল হক।

তিনি বলেন, বাবুল আক্তারের হাতের লেখা পরীক্ষা করতে গত ১৪ মার্চ আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। মঙ্গলবার শুনানি শেষে আদালত তা মঞ্জুর করেছেন। এরপরই তার হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করে পিবিআই। তদন্ত কর্মকর্তা এখন সেগুলো ল্যাবে পরীক্ষা করবেন।

পিবিআই সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে কক্সবাজারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের কর্মকর্তা ভারতীয় নাগরিক গায়ত্রী অমর সিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান বাবুল আক্তার। ওই সময় গায়ত্রী ‘তালিবান’ ও ‘বেস্ট কেপ্ট সিক্রেট’ নামে দুটি বই বাবুল আক্তারকে উপহার দেন। এর মধ্যে ‘তালিবান’ বইয়ের ২৭৬ পৃষ্ঠার পরের পাতায় বিভিন্ন তারিখ উল্লেখ করে দুজনের সম্পর্কের বিভিন্ন তথ্য লিখেন বাবুল আক্তার। বই দুটি জব্দ করেছে পিবিআই। বইয়ের লেখার সঙ্গে বাবুল আক্তারের লেখা মেলাতে এ আবেদন করা হয়েছে।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরের জিইসি মোড়ের কাছে ওআর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে গুলি ও ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে খুন হন মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন তার স্বামী তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তার। মামলাটি তদন্ত করছিল নগর ডিবি পুলিশ। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ‘আদালতের নির্দেশে’ মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই।

এরপরই ঘুরতে থাকে মামলার গতিপ্রকৃতি। পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসতে থাকে স্ত্রী হত্যার সঙ্গে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততার নানা দিক। গত বছরের ১০ মে মামলার বাদি হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাবুল আক্তারকে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ে ডেকে আনা হয়। এরপরই তাকে হেফাজতে নেয় পিবিআই। পরে ১২ মে দুপুরে বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় আটজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুসা, এহতেসামুল হক ভোলা, মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম, আনোয়ার হোসেন, খায়রুল ইসলাম কালু, সাইদুল ইসলাম সিকদার ওরফে সাক্কু ও শাহজাহান মিয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here