প্রেমিকাকে খুনের পর সেবন করেন গাঁজা, লাশ ঝলসে দেন সিগারেটে

রাঙামাটি প্রতিনিধি:রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার বিএফআইডিসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে গত ১২ মার্চ এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাৎক্ষণিক ঐ নারীর পরিচয় জানা যায়নি। পরে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে ছায়া তদন্ত শুরু করে র‍্যাব। জানা যায়, নিহতের নাম হাসিনা আক্তার ওরফে সুমি। মাদকাসক্ত প্রেমিক মাহিবুর কামালের হাতেই খুন হয়েছেন তিনি।

র‍্যাব জানায়, ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয় সুমিকে। হাসিনার লাশের পাশে বসে গাঁজাও সেবন করেন অভিযুক্ত মাহিবুর। পরে সিগারেটের আগুনে ঝলসে দেন লাশ। তার প্রেমিকা হাসিনাও ছিলেন মাদক ব্যবসায়ী।

শনিবার (১৯ মার্চ) মাহিবুর কামালকে নেত্রকোনা থেকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। জিজ্ঞাসাবাদে র‍্যাবকে নৃশংস খুনের বর্ণনা দেন তিনি।

রোববার র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ বলেন, এ খুনের পেছনে মাদক, মাদক ব্যবসা, অনৈতিক সম্পর্ক ও পারিবারিক অশান্তির মতো কারণগুলো রয়েছে।

সূত্র জানায়, ১২ বছর আগে দ্বীন ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেছিলেন সুমি। তারা একটি মেয়ে শিশুকে দত্তক নিয়েছিলেন। বিভিন্ন কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য ছিল। দ্বীন ইসলাম থাকতেন বান্দরবানে। সুমি মেয়েকে নিয়ে থাকতেন কাপ্তাইয়ে। একপর্যায়ে সুমি মাদক ব্যবসা ও অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে স্বামী ও নিজ পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তার প্রায়ই ঝগড়া হতো। ৬ মাস আগে দ্বীন ইসলামের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় সুমির।

 

হত্যাকাণ্ডের এক মাস আগে মাহিবুর কামালের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে সুমির। মাহিবুর ১৪ বছর বয়স থেকে মাদকাসক্ত। তিনি প্রায়ই ইয়াবা ও গাঁজা সেবন করতেন। পেশায় করাতমিলের শ্রমিক মাহিবুরের মাসিক বেতন ১৫ হাজার টাকা হলেও তার জীবনযাপন ছিল উচ্ছৃঙ্খল। সুমির সঙ্গে সম্পর্ক হওয়ার পর মাহিবুরকে অভিভাবকরা বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। অন্যদিকে, সুমিও মাহিবুরকে চাপ দিতে থাকেন বিয়ের জন্য।

এমন পরিস্থিতিতে ১১ মার্চ বিকেলে কাপ্তাই বিএফআইডিসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে যান মাহিবুর। বিয়ের বিষয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সুমির মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করেন মাহিবুর। এতে অচেতন হয়ে পড়লে আরো ১৫ বার মাথায় ইটের আঘাতে মাথা থেঁতলে দেন মাহিবুর।

র‍্যাব কর্মকর্তা এম এ ইউসুফ জানান, ইটের আঘাতে সুমির মৃত্যু হলে মাহিবুর লাশের পাশে বসে গাঁজা, সিগারেট সেবন করেন। পরে মাথায় লাশ গুমের চিন্তা এলে লাশটি স্কুলের পরিত্যক্ত টয়লেটে নিয়ে যান। সেখানে জ্বলন্ত সিগারেট দিয়ে হাসিনার লাশে আগুন ধরিয়ে দেন। লাশ অর্ধেক পুড়ে গেলে রাতে বাসায় ফেরেন মাহিবুর। সেদিনই ঘটনাটি বিস্তারিত তার মাকে জানান। এরপর মায়ের পরামর্শে কাপ্তাই থেকে পালিয়ে তাদের আদি বাড়ি নেত্রকোনায় চলে যান তিনি।

মামলার বাদী ও নিহত সুমির মা আমেনা বেগম জানান, পারিবারিক অশান্তির কারণে তার মেয়ে মাদক ব্যবসা ও অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। মাদক ব্যবসা থেকে ফিরে আসার চেষ্টা করলেও সিন্ডিকেটের কারণে পারেনি। মেয়ে সুমির খুনি মাহিবুরের ফাঁসি দাবি করেছেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here