জেলেদের প্রণোদনার চাল নিয়ে চালবাজি

শাকের মোহাম্মদ রাসেল, লক্ষ্মীপুর:লক্ষ্মীপুর জেলেদের প্রণোদনার চাল নিয়ে চালবাজি শুরু করেছে জনপ্রতিনিধিরা। প্রকৃত কার্ডধারীরা চাল না পেয়ে পাচ্ছে অন্যরা। তাও আবার ওজনে কম দিচ্ছে। এসব অভিযোগ ভুক্তভোগী জেলেদের।

জনপ্রতি ৮০ কেজির জায়গায় ৭০ থেকে ৭২ কেজি করে চাল পাচ্ছেন জেলেরা। ভিজিএফ’র আওতায় জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে লক্ষ্মীপুরের ভবানীগঞ্জে ইউনিয়নে।

অবশ্যই মার্চের শুরুতেই সুবিধাভোগীদের মাঝে ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রথম ধাপের চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ সব ইউনিয়নেই।

জাটকা ইলিশ সংরক্ষণে মার্চ ও এপ্রিল দুই মাস মেঘনা নদীতে সব ধরনের মাছ শিকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এ সময় মেঘনা নদীর লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাঁটনল অংশের ১০০ কিলোমিটার এলাকাকে জাটকা ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

জেলেদের মাছ শিকার থেকে বিরত রাখতে তালিকাভুক্ত কার্ডধারী জেলেদের ভিজিএফ’র আওতায় ৮০ কেজি করে দুই ধাপে ১৬০ কেজি চাল দেওয়া হয়। জেলায় প্রায় ৪৯ হাজার জেলে মেঘনায় মাছ শিকারে নিয়োজিত। এদের মধ্যে তালিকাভুক্ত জেলের সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার। ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ৩০ হাজার ৮৫৩ জন জেলেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।

জেলেদের অভিযোগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের পছন্দের লোকদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। নির্বাচনের সময় যারা ভোট দিয়েছেন তাদেরকেই পছন্দ করছেন এসব জনপ্রতিনিধিরা। এছাড়া দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় অনেকেই পায়নি ভিজিএফের চাল। আবার কোনো জেলেদের কাছ থেকে টাকা না পেয়ে তাদের তালিকা থেকে বাদও দিয়েছেন।

চাল নিতে আসা জেলেরা জানান, ৫০ কেজির বস্তা না খুলে পুরো বস্তা এবং বাকি ৩০ কেজি আলাদা বস্তায় সরবরাহ করা যেত। কিন্তু গুদাম থেকে দেওয়া ৫০ কেজির বস্তা খুলে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বাকি ৩০ কেজি নির্দিষ্ট পরিমাণ না করে অনুমানের ভিত্তিতে দেওয়া হচ্ছে।

চাল পেয়ে অনেক জেলে পরিমাণে কম দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। মৌখিক অভিযোগের বিষয়টি ভবানীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল হাসান রনির অবগত করা হলে তিনি সঠিক পরিমাণে চাল দেওয়ার কথা জানান। এছাড়া পরিষদের কয়েকজন সদস্যও কম দেওয়া হয় না বলে জোর দাবি করেন। পরে কয়েকজন জেলেকে দেওয়া চাল পরিমাপ করে দেখা যায়, ৮০ কেজির জায়গায় ৭০ কেজি বা ৭২ কেজি করে দেওয়া হয়েছে। এতে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে চাল বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নিলেও চাল বিতরণ অনিয়মের বিষয়ে কোনো তদারকি করেননি। এছাড়া তদারকির দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসারকেও উপস্থিত দেখা যায়নি। ফলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তাদের ইচ্ছামত চাল বিতরণ করে যাচ্ছেন।

এদিকে রোববার সকালে ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ২৪ জন নারী পুরুষ জেলে সদর উপজেলা পরিষদে এসে তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এতে তারা স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. লিটন ও স্থানীয় জেলে প্রতিনিধি খালেক মাঝির বিরুদ্ধে জেলে কার্ডের টোকেন বিক্রি করার অভিযোগ করেন।

এ সময় জেলেরা বলেন, লিটন মেম্বারকে ভোট না দেওয়ায় তিনি তাদের টোকেন দেয়নি। টাকার বিনিময়ে তিনি অন্য পেশার লোকদের টোকেন দিয়েছেন। এ জন্য তারা ভিজিএফ সুবিধা থেকে বাঞ্চিত হয়েছে।

তবে ভাবানিগঞ্জ  ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল হাসান রনি বলেন, তালিকা তৈরিতে কোনো অনিয়ম করা হয়নি। জেলের পরিমাণের চেয়ে বরাদ্দ কম পেয়েছেন তিনি। তাই সকল জেলেকে ভিজিএফ’র সুবিধায় আনা যায়নি। তিনি বলেন, পুরো ইউনিয়নে প্রায় ৭০০ জেলে আছে। কিন্তু বরাদ্দ এসেছে ৩০০ জনের।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বরাদ্দের চেয়ে জেলে বেশি। তাই কিছু জেলে বাদ পড়েছে। তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগের সত্য নয় দাবি করে বলেন বিষয়টি খতিয়া দেখা হবে। লিখিত অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন, উপকূলীয় এলাকার সুবিধাভোগী জেলেদের জন্য না প্রণোদনার চাল বিতরণকালে প্রত্যেকটি ইউনিয়নে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা আছে। সুতরাং চাল কম পাওয়ার সুযোগ নেই। তারপরও চাল কম পাওয়া জেলেরা লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here